সংবাদ

বৈশাখের লোকসান কাটাতে মরিয়া ব্যবসায়ীরা

ঈদে জমজমাট বেচাকেনায় রাত জেগে দোকান খোলার দাবি ব্যবসায়ীদের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

ঈদে জমজমাট বেচাকেনায় রাত জেগে দোকান খোলার দাবি ব্যবসায়ীদের

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এপ্রিলের শুরুতে প্রথমে সন্ধ্যা ৬টা এবং পরে ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে সময় বাড়িয়ে ৭টা পর্যন্ত করা হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখের উৎসবে বিক্রিতে ধস নামায় এখন দিশেহারা ব্যবসায়ীরা। এই লোকসান কাটিয়ে উঠতে আসন্ন কোরবানির ঈদে দুপুরে দোকান খুলে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যবসা করার অনুমতি চেয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের মতে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো বাংলাদেশেও দুপুরে দোকান খোলা রাতে দীর্ঘ সময় কেনাকাটার সংস্কৃতি চালু করা প্রয়োজন।

বৈশাখের বাজারের করুণ চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু বলেন, "আমরা অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছি রাত ৯টা কিংবা ১০টা পর্যন্ত যাতে দোকানপাট খোলা রাখা যায়। কিন্তু জ্বালানির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার এখনো বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি। এবার বৈশাখে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ করার কারণে এবার বেচাকেনা অন্তত ৫০ শতাংশ কমেছে। আমরা এবার ২০ হাজার কোটি টাকার বেচাকেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, কিন্তু বিক্রি হয়েছে মাত্র হাজার কোটি টাকার, অবিক্রীত রয়ে গেছে ১৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য।"

আসন্ন ঈদের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, "কোরবানির ঈদের আগে অন্তত এক মাস আমাদের দোকান খোলার সময় বাড়াতে হবে। শুরুতে ১৫ দিন রাত ১০টা পর্যন্ত এবং পরবর্তী ১৫ দিন নন-স্টপভাবে রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। সময় বাড়ানো গেলে আমরা হয়তো কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো, নইলে ব্যবসার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাবে।"

একই সুর শোনা গেছে দেশীয় ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের কণ্ঠেও। ফ্যাশন হাউজসাদাকালো উদ্যোক্তা ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি আজহারুল হক আজাদ বলেন, "সন্ধ্যায় সরকারের দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের পর থেকেই আমরা তা পুনর্বিবেচনার জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি। সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ হওয়ায় এবার বৈশাখের বেচাকেনায় ধস নেমেছে। আমাদের উৎপাদিত অনেক পণ্য অবিক্রীত রয়ে গেছে। এতে আমরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি। কোরবানির ঈদের আগে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। রাত ৯টা কিংবা ১০টা পর্যন্ত আমাদের দোকানপাট খোলা রাখতে দেওয়া উচিত।"

এদিকে কেনাকাটার সময় কমে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতা মালিকদের বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরেছেন পোশাক ব্র্যান্ডবিশ্বরঙ’-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহা। তিনি বলেন, "সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আমি নিজেই আমার কোনো শোরুমে যেতে পারছি না। কারণ কোনো কাজে বের হলে তা শেষ করে এসে মার্কেটে যাওয়ার আর সময় থাকে। তার আগেই মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের টিকে থাকার জন্য, ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার জন্য, আমরা এখনো দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


ঈদে জমজমাট বেচাকেনায় রাত জেগে দোকান খোলার দাবি ব্যবসায়ীদের

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এপ্রিলের শুরুতে প্রথমে সন্ধ্যা ৬টা এবং পরে ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে সময় বাড়িয়ে ৭টা পর্যন্ত করা হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখের উৎসবে বিক্রিতে ধস নামায় এখন দিশেহারা ব্যবসায়ীরা। এই লোকসান কাটিয়ে উঠতে আসন্ন কোরবানির ঈদে দুপুরে দোকান খুলে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যবসা করার অনুমতি চেয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের মতে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো বাংলাদেশেও দুপুরে দোকান খোলা রাতে দীর্ঘ সময় কেনাকাটার সংস্কৃতি চালু করা প্রয়োজন।

বৈশাখের বাজারের করুণ চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু বলেন, "আমরা অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছি রাত ৯টা কিংবা ১০টা পর্যন্ত যাতে দোকানপাট খোলা রাখা যায়। কিন্তু জ্বালানির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার এখনো বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি। এবার বৈশাখে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ করার কারণে এবার বেচাকেনা অন্তত ৫০ শতাংশ কমেছে। আমরা এবার ২০ হাজার কোটি টাকার বেচাকেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, কিন্তু বিক্রি হয়েছে মাত্র হাজার কোটি টাকার, অবিক্রীত রয়ে গেছে ১৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য।"

আসন্ন ঈদের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, "কোরবানির ঈদের আগে অন্তত এক মাস আমাদের দোকান খোলার সময় বাড়াতে হবে। শুরুতে ১৫ দিন রাত ১০টা পর্যন্ত এবং পরবর্তী ১৫ দিন নন-স্টপভাবে রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। সময় বাড়ানো গেলে আমরা হয়তো কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো, নইলে ব্যবসার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাবে।"

একই সুর শোনা গেছে দেশীয় ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের কণ্ঠেও। ফ্যাশন হাউজসাদাকালো উদ্যোক্তা ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি আজহারুল হক আজাদ বলেন, "সন্ধ্যায় সরকারের দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের পর থেকেই আমরা তা পুনর্বিবেচনার জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি। সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ হওয়ায় এবার বৈশাখের বেচাকেনায় ধস নেমেছে। আমাদের উৎপাদিত অনেক পণ্য অবিক্রীত রয়ে গেছে। এতে আমরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি। কোরবানির ঈদের আগে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। রাত ৯টা কিংবা ১০টা পর্যন্ত আমাদের দোকানপাট খোলা রাখতে দেওয়া উচিত।"

এদিকে কেনাকাটার সময় কমে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতা মালিকদের বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরেছেন পোশাক ব্র্যান্ডবিশ্বরঙ’-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহা। তিনি বলেন, "সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আমি নিজেই আমার কোনো শোরুমে যেতে পারছি না। কারণ কোনো কাজে বের হলে তা শেষ করে এসে মার্কেটে যাওয়ার আর সময় থাকে। তার আগেই মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের টিকে থাকার জন্য, ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার জন্য, আমরা এখনো দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত