জাতীয় রাজনীতিতে হঠাৎই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আম আদমি পার্টিতে সম্ভাব্য ভাঙন ঘিরে। দলের অন্যতম মুখ রাঘভ চাড্ডা শুক্রবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন বলে দাবি উঠেছে, আর সেই দাবিকে কেন্দ্রেই তৈরি হয়েছে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক।
জানা যাচ্ছে, রাঘভ চাড্ডার সঙ্গে আরও ছয়জন রাজ্যসভার সাংসদ দলত্যাগ করেছেন- যদিও এই তথ্য এখনও সরকারি বা সংসদীয়ভাবে নিশ্চিত হয়নি। তাই পুরো ঘটনাকেই আপাতত ‘দাবি’ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে রাঘব চাড্ডা জানান, সংবিধানের বিধান মেনে আপের দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যসভা সাংসদ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলের মোট ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৭ জনই ইতিমধ্যেই দলত্যাগ করেছেন।
এই তালিকায় স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তাল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা এবং বিক্রম সাহানির নামও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রাঘবের কথায়, সাত সাংসদের স্বাক্ষর করা চিঠি ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত- তার ব্যাখ্যায় রাঘভ বলেন, যে দলকে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ‘গড়ে তুলেছেন’, সেই দল নাকি এখন নিজের ‘আদর্শ ও মূল্যবোধ’ থেকে সরে গিয়ে ‘ব্যক্তিগত স্বার্থের’ দিকে ঝুঁকেছে। সেই কারণেই তিনি ‘জনগণের কাছে যাওয়ার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অবস্থান হঠাৎ তৈরি হয়নি। গত কয়েক মাস ধরেই রাঘভের সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়ছিল, এমনকি তাকে রাজ্যসভার উপদলনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে বিজেপির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনাও ক্রমশ জোরদার হচ্ছিল, যা এই ঘোষণার পর নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সংখ্যার অঙ্কে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে রাজ্যসভায় আপের সাংসদ সংখ্যা ১০। যদি ভাঙনের এই দাবি সত্যি হয়, তাহলে তা কমে দাঁড়াতে পারে মাত্র ৩-এ। বিশেষ করে পাঞ্জাব থেকে নির্বাচিত সাংসদদের সংখ্যাই বেশি হওয়ায়, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের সংগঠনিক শক্তির ওপর। ফলে শুধু সংসদীয় সমীকরণ নয়, রাজ্য রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনার পর দলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। আপ নেতা অরভিন্দ কেজরিওয়াল সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপির বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের মানুষকে ‘ঠকানোর’ অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে উল্লেখ করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ‘দলের চেয়ে বড় কেউ নয় এবং মানুষই এর জবাব দেবে’।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় রাজনীতিতে হঠাৎই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আম আদমি পার্টিতে সম্ভাব্য ভাঙন ঘিরে। দলের অন্যতম মুখ রাঘভ চাড্ডা শুক্রবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন বলে দাবি উঠেছে, আর সেই দাবিকে কেন্দ্রেই তৈরি হয়েছে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক।
জানা যাচ্ছে, রাঘভ চাড্ডার সঙ্গে আরও ছয়জন রাজ্যসভার সাংসদ দলত্যাগ করেছেন- যদিও এই তথ্য এখনও সরকারি বা সংসদীয়ভাবে নিশ্চিত হয়নি। তাই পুরো ঘটনাকেই আপাতত ‘দাবি’ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে রাঘব চাড্ডা জানান, সংবিধানের বিধান মেনে আপের দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যসভা সাংসদ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলের মোট ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৭ জনই ইতিমধ্যেই দলত্যাগ করেছেন।
এই তালিকায় স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তাল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা এবং বিক্রম সাহানির নামও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রাঘবের কথায়, সাত সাংসদের স্বাক্ষর করা চিঠি ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত- তার ব্যাখ্যায় রাঘভ বলেন, যে দলকে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ‘গড়ে তুলেছেন’, সেই দল নাকি এখন নিজের ‘আদর্শ ও মূল্যবোধ’ থেকে সরে গিয়ে ‘ব্যক্তিগত স্বার্থের’ দিকে ঝুঁকেছে। সেই কারণেই তিনি ‘জনগণের কাছে যাওয়ার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অবস্থান হঠাৎ তৈরি হয়নি। গত কয়েক মাস ধরেই রাঘভের সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়ছিল, এমনকি তাকে রাজ্যসভার উপদলনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে বিজেপির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনাও ক্রমশ জোরদার হচ্ছিল, যা এই ঘোষণার পর নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সংখ্যার অঙ্কে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে রাজ্যসভায় আপের সাংসদ সংখ্যা ১০। যদি ভাঙনের এই দাবি সত্যি হয়, তাহলে তা কমে দাঁড়াতে পারে মাত্র ৩-এ। বিশেষ করে পাঞ্জাব থেকে নির্বাচিত সাংসদদের সংখ্যাই বেশি হওয়ায়, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের সংগঠনিক শক্তির ওপর। ফলে শুধু সংসদীয় সমীকরণ নয়, রাজ্য রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনার পর দলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। আপ নেতা অরভিন্দ কেজরিওয়াল সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপির বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের মানুষকে ‘ঠকানোর’ অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে উল্লেখ করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ‘দলের চেয়ে বড় কেউ নয় এবং মানুষই এর জবাব দেবে’।

আপনার মতামত লিখুন