আইন প্রণয়ন করে দেশে নির্যাতনের সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান,
আমাদের এই গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, তবেই ভালো
আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে।
রাজধানীর প্যান
প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি
বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জোর
দিয়ে বলেন, নির্যাতনের সংস্কৃতি নির্মূল করতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং এর
কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সমান গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে
হবে। মানুষ যাতে বুঝতে পারে নির্যাতন একটি অমানবিক কাজ এবং এটি চরম অন্যায় ও
অগ্রহণযোগ্য, সেই বোধ জাগ্রত করা জরুরি।
মন্ত্রী
বাংলাদেশের সংবিধানের সুরক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের সংবিধান নিজেই
শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) স্পষ্টভাবে বলে যে, কোনো
ব্যক্তিকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি বা আচরণের শিকার
বানানো যাবে না। সাংবিধানিক এই বিধান মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং
আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী সম্মেলনের নীতিসমূহকে প্রতিফলিত করে। এটি সরাসরি একটি
নিষেধাজ্ঞা এবং রাষ্ট্র ও সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর একটি কঠোর বাধ্যবাধকতা
আরোপ করে।
মন্ত্রী স্পষ্ট
জানান, চাইলেই রাতারাতি এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে না, তবে সরকার
আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিগত দুই মাসে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জোরপূর্বক
গুমের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি উল্লেখ
করেন, আগস্ট-পরবর্তী ক্ষমতার পালা বদলের পর থেকে হেফাজতে নির্যাতনও ব্যাপকভাবে
হ্রাস পেয়েছে। মন্ত্রী একে আমাদের আইনি সংস্কৃতি, আইনশাস্ত্র এবং জাতীয় বিবেকের
ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেন।
তবে সুরক্ষা
আইনের যেন কোনো অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমি
স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা কোনো দায়মুক্তির সংস্কৃতি চাই না। আমরা কোনো ধরনের
মানবাধিকার লঙ্ঘন, হেফাজতে মৃত্যু, জোরপূর্বক গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চাই
না। আমরা জানি এই ধরনের লঙ্ঘন সাধারণ মানুষকে কী পরিমাণ যন্ত্রণা দেয়।
অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার, দৈনিক
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান
বিচারপতি মঈনুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন
জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
আইন প্রণয়ন করে দেশে নির্যাতনের সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান,
আমাদের এই গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, তবেই ভালো
আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে।
রাজধানীর প্যান
প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি
বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জোর
দিয়ে বলেন, নির্যাতনের সংস্কৃতি নির্মূল করতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং এর
কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সমান গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে
হবে। মানুষ যাতে বুঝতে পারে নির্যাতন একটি অমানবিক কাজ এবং এটি চরম অন্যায় ও
অগ্রহণযোগ্য, সেই বোধ জাগ্রত করা জরুরি।
মন্ত্রী
বাংলাদেশের সংবিধানের সুরক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের সংবিধান নিজেই
শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) স্পষ্টভাবে বলে যে, কোনো
ব্যক্তিকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি বা আচরণের শিকার
বানানো যাবে না। সাংবিধানিক এই বিধান মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং
আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী সম্মেলনের নীতিসমূহকে প্রতিফলিত করে। এটি সরাসরি একটি
নিষেধাজ্ঞা এবং রাষ্ট্র ও সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর একটি কঠোর বাধ্যবাধকতা
আরোপ করে।
মন্ত্রী স্পষ্ট
জানান, চাইলেই রাতারাতি এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে না, তবে সরকার
আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিগত দুই মাসে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জোরপূর্বক
গুমের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি উল্লেখ
করেন, আগস্ট-পরবর্তী ক্ষমতার পালা বদলের পর থেকে হেফাজতে নির্যাতনও ব্যাপকভাবে
হ্রাস পেয়েছে। মন্ত্রী একে আমাদের আইনি সংস্কৃতি, আইনশাস্ত্র এবং জাতীয় বিবেকের
ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেন।
তবে সুরক্ষা
আইনের যেন কোনো অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমি
স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা কোনো দায়মুক্তির সংস্কৃতি চাই না। আমরা কোনো ধরনের
মানবাধিকার লঙ্ঘন, হেফাজতে মৃত্যু, জোরপূর্বক গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চাই
না। আমরা জানি এই ধরনের লঙ্ঘন সাধারণ মানুষকে কী পরিমাণ যন্ত্রণা দেয়।
অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার, দৈনিক
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান
বিচারপতি মঈনুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন
জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস।

আপনার মতামত লিখুন