সংবাদ

জ্বালানি সংকট আতঙ্ক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাম্পে খোলা পাত্রে তেল বিক্রি


ডিজিটাল ডেস্ক
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাম্পে খোলা পাত্রে তেল বিক্রি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরের পরপরই চাঁপাইনবাবগঞ্জের পেট্রোল পাম্পগুলোয় তেল সংগ্রহে নজিরবিহীন হিড়িক দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এ অস্থির পরিস্থিতি শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সাধারণ মোটরসাইকেলচালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের মালিকরা পাম্পগুলোয় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। তবে এই ভিড়ের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে খোলা পাত্রে তেল বিক্রির মহোৎসব।

গত কয়েক দিন ধরে সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা বোতল, জারকিন ও ড্রামে দেদারছে তেল বিক্রি করছেন। বুধবার সকালে শিবগঞ্জের ছত্রাজিতপুর বাজার সংলগ্ন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ হাতে পাঁচ-দশ লিটারের জারকিন নিয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং পাম্পকর্মীরা কোনো বাধা ছাড়াই তেল সরবরাহ করছেন।

একই দৃশ্য দেখা গেছে বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জ বাজার ও পুকুরিয়া এলাকার পাম্পগুলোতেও। সেখানেও নিয়মবহির্ভূতভাবে খোলা পাত্রে জ্বালানি সরবরাহের চিত্র ফুটে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আতঙ্কে এক শ্রেণির মানুষ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বাড়িতে তেল মজুদ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। একজনের দেখাদেখি অন্যরাও দলে দলে বড় বড় পাত্র নিয়ে পাম্পে হাজির হচ্ছেন। এভাবে খোলা পাত্রে দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা এবং বসতবাড়িতে তা মজুদ করে রাখা চরম অগ্নিঝুঁকি তৈরি করছে।

সাধারণ যানবাহনচালকেরা অভিযোগ করেছেন, এভাবে ঢালাওভাবে জারকিনে তেল বিক্রির ফলে তারা পাম্পে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছেন না এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তৈমুর রহমান বলেন, ‘পণ্যের অর্ডার ও ব্যবসার টাকা আদায়ের জন্য সারাদিন মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে হয়। কিন্তু পাম্পে এসে অপেক্ষা করতে হয় অনেকক্ষণ। আবার দেখি বোতল-জারকিনে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এটা অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও কারও ভ্রুক্ষেপ নেই।’

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হোসেন আলিম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ‘জেলায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির অধীন ৩২টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে খোলাভাবে অর্থাৎ বোতল কিংবা জারকিনে তেল বিক্রি করার খবর আমরা পাচ্ছি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। এই প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। এটি একটি আইনবহির্ভূত কাজ। তবে ইরি-বোরো জমির সেচ ও কিছু জরুরি কাজ ছাড়া খোলা তেল বিক্রি নিষিদ্ধ। এরপরও খোলা পাত্রে তেল বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে নিয়মনীতি মেনে চলার আহ্বান জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ছাড়া এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

সার্বিক বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।’ আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাম্পে খোলা পাত্রে তেল বিক্রি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরের পরপরই চাঁপাইনবাবগঞ্জের পেট্রোল পাম্পগুলোয় তেল সংগ্রহে নজিরবিহীন হিড়িক দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এ অস্থির পরিস্থিতি শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সাধারণ মোটরসাইকেলচালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের মালিকরা পাম্পগুলোয় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। তবে এই ভিড়ের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে খোলা পাত্রে তেল বিক্রির মহোৎসব।

গত কয়েক দিন ধরে সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা বোতল, জারকিন ও ড্রামে দেদারছে তেল বিক্রি করছেন। বুধবার সকালে শিবগঞ্জের ছত্রাজিতপুর বাজার সংলগ্ন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ হাতে পাঁচ-দশ লিটারের জারকিন নিয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং পাম্পকর্মীরা কোনো বাধা ছাড়াই তেল সরবরাহ করছেন।

একই দৃশ্য দেখা গেছে বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জ বাজার ও পুকুরিয়া এলাকার পাম্পগুলোতেও। সেখানেও নিয়মবহির্ভূতভাবে খোলা পাত্রে জ্বালানি সরবরাহের চিত্র ফুটে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আতঙ্কে এক শ্রেণির মানুষ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বাড়িতে তেল মজুদ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। একজনের দেখাদেখি অন্যরাও দলে দলে বড় বড় পাত্র নিয়ে পাম্পে হাজির হচ্ছেন। এভাবে খোলা পাত্রে দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা এবং বসতবাড়িতে তা মজুদ করে রাখা চরম অগ্নিঝুঁকি তৈরি করছে।

সাধারণ যানবাহনচালকেরা অভিযোগ করেছেন, এভাবে ঢালাওভাবে জারকিনে তেল বিক্রির ফলে তারা পাম্পে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছেন না এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তৈমুর রহমান বলেন, ‘পণ্যের অর্ডার ও ব্যবসার টাকা আদায়ের জন্য সারাদিন মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে হয়। কিন্তু পাম্পে এসে অপেক্ষা করতে হয় অনেকক্ষণ। আবার দেখি বোতল-জারকিনে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এটা অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও কারও ভ্রুক্ষেপ নেই।’

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হোসেন আলিম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ‘জেলায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির অধীন ৩২টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে খোলাভাবে অর্থাৎ বোতল কিংবা জারকিনে তেল বিক্রি করার খবর আমরা পাচ্ছি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। এই প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। এটি একটি আইনবহির্ভূত কাজ। তবে ইরি-বোরো জমির সেচ ও কিছু জরুরি কাজ ছাড়া খোলা তেল বিক্রি নিষিদ্ধ। এরপরও খোলা পাত্রে তেল বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে নিয়মনীতি মেনে চলার আহ্বান জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ছাড়া এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

সার্বিক বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।’ আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত