সংবাদ

অবশেষে নির্বাচনের পথে প্রযোজকরা


বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ মে ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম

অবশেষে নির্বাচনের পথে প্রযোজকরা

দীর্ঘ সাত বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আবারও নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি-তে। বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন আগামী ১১ জুলাই রাজধানীর এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে, যা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ মে প্রকাশ করা হবে প্রাথমিক ভোটার তালিকা। সদস্যদের জন্য চাঁদা পরিশোধ ও সদস্যপদ নবায়নের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ মে পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রযোজকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে বহুল আলোচিত ‘আম-মোক্তারনামা’ প্রথা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে একজন প্রযোজক যতগুলো সিনেমাই নির্মাণ করে থাকুন না কেন, তিনি কেবল একজন ভোটার হিসেবেই বিবেচিত হবেন। আগে একাধিক সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভোটাধিকার পাওয়ার সুযোগ থাকলেও এবার তা থাকছে না। ফলে নির্বাচনটি আরও স্বচ্ছ ও সমতাভিত্তিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সম্ভাব্য ভোটার সংখ্যা হতে পারে ১৫০ থেকে ১৬০ জনের মধ্যে। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন খোরশেদ আলম খসরু এবং আশরাফ উদ্দিন আহমেদ (নায়ক উজ্জ্বল)। ইতোমধ্যেই তাদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে খোরশেদ আলম খসরু বলেন, “দীর্ঘ সাত বছর পর সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে—এটি নিঃসন্দেহে আনন্দের এবং ইতিবাচক একটি ঘটনা। সদস্যরা আবারও গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, এখনো প্যানেল গঠন চূড়ান্ত না হলেও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য প্যানেল গঠনের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকায় নির্বাচনটি আরও উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলেও মনে করছেন তিনি। অন্যদিকে প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল ইতোমধ্যেই সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়া চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য সুখবর। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই অংশ নিতে চাই এবং সদস্যদের সমর্থন পেলে সমিতির উন্নয়নে কাজ করবো।” চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন মনে করেন, এই নির্বাচন সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

তার ভাষায়, “প্রযোজকরাই চলচ্চিত্রশিল্পের মূল চালিকাশক্তি। তাদের সংগঠন শক্তিশালী ও সক্রিয় থাকলে পুরো শিল্পই নতুন গতি পাবে। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচন চলচ্চিত্রাঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

উল্লেখ্য, সর্বশেষ এই সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় প্রশাসকের অধীনে পরিচালিত হওয়ার পর অবশেষে এবার নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব ফিরে আসার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, সাত বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি-এর এই নির্বাচন শুধু একটি সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়—এটি পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬


অবশেষে নির্বাচনের পথে প্রযোজকরা

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ সাত বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আবারও নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি-তে। বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন আগামী ১১ জুলাই রাজধানীর এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে, যা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ মে প্রকাশ করা হবে প্রাথমিক ভোটার তালিকা। সদস্যদের জন্য চাঁদা পরিশোধ ও সদস্যপদ নবায়নের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ মে পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রযোজকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে বহুল আলোচিত ‘আম-মোক্তারনামা’ প্রথা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে একজন প্রযোজক যতগুলো সিনেমাই নির্মাণ করে থাকুন না কেন, তিনি কেবল একজন ভোটার হিসেবেই বিবেচিত হবেন। আগে একাধিক সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভোটাধিকার পাওয়ার সুযোগ থাকলেও এবার তা থাকছে না। ফলে নির্বাচনটি আরও স্বচ্ছ ও সমতাভিত্তিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সম্ভাব্য ভোটার সংখ্যা হতে পারে ১৫০ থেকে ১৬০ জনের মধ্যে। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন খোরশেদ আলম খসরু এবং আশরাফ উদ্দিন আহমেদ (নায়ক উজ্জ্বল)। ইতোমধ্যেই তাদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে খোরশেদ আলম খসরু বলেন, “দীর্ঘ সাত বছর পর সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে—এটি নিঃসন্দেহে আনন্দের এবং ইতিবাচক একটি ঘটনা। সদস্যরা আবারও গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, এখনো প্যানেল গঠন চূড়ান্ত না হলেও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য প্যানেল গঠনের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকায় নির্বাচনটি আরও উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলেও মনে করছেন তিনি। অন্যদিকে প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল ইতোমধ্যেই সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়া চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য সুখবর। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই অংশ নিতে চাই এবং সদস্যদের সমর্থন পেলে সমিতির উন্নয়নে কাজ করবো।” চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন মনে করেন, এই নির্বাচন সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

তার ভাষায়, “প্রযোজকরাই চলচ্চিত্রশিল্পের মূল চালিকাশক্তি। তাদের সংগঠন শক্তিশালী ও সক্রিয় থাকলে পুরো শিল্পই নতুন গতি পাবে। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচন চলচ্চিত্রাঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

উল্লেখ্য, সর্বশেষ এই সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় প্রশাসকের অধীনে পরিচালিত হওয়ার পর অবশেষে এবার নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব ফিরে আসার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, সাত বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি-এর এই নির্বাচন শুধু একটি সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়—এটি পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত