রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দেউতি হাটের ইজারা ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির গুরুতর অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাককে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রংপুর জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে বলা হয়েছে, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তাকে বৃহস্পতিবার বিকেলেই বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে।
পীরগাছা উপজেলার দেউতি হাট ইজারা নিয়ে সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল পীরগাছা ইউএনও কার্যালয়ে খাস ডাকের মাধ্যমে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়। এতে ২০ জন বিডার অংশ নেন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যস্থতায় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায় পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন হাটের ইজারা পান।
ইজারা পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়া এক হিসাব থেকে জানা যায়, হাট পেতে বড় অঙ্কের ‘ঘুষ’ দিতে হয়েছে। সেখানে ইউএনওর নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার নামে ২ লাখ টাকা, তহশিলদারের নামে ২০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খরচসহ মোট ৬ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়।
হাটের একাধিক বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ এবং চাঁদাবাজির শামিল। তারা আরও দাবি করেন, মতিন ও জাহাঙ্গীরের যোগসাজশে আগের বছরেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ১৪৩২ বাংলা সনে প্রায় ৫৯ লাখ টাকার টেন্ডার বাতিল করে কম মূল্যে খাস ডাক নেওয়া হয়। পরে খরচ বেশি দেখিয়ে হাট থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তৎকালীন ইউএনও নাজমুল হক সুমনসহ সংশ্লিষ্টরা প্রায় ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে হাটটি পুনরায় সাব-ইজারা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সাব-ইজারাদার বেলাল হোসেন জানান, খাস ডাকের প্রকৃত মূল্য ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও পরে তা বাড়িয়ে প্রায় ২৩ লাখ টাকা দেখানো হয় এবং সাব-ডাকের মাধ্যমে তিনি ৪৫ লাখ টাকায় হাটটি পান।
অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমি কাকে কত টাকা দিয়েছি, সেটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়।’ অন্যদিকে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টিকে ‘দলীয়’ উল্লেখ করে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা তার নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
ইউএনও দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘আমার নামে একটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। আমার বদলি আদেশ হয়েছে গত ১৬ তারিখ, তারই ধারাবাহিকতায় ৩০ এপ্রিল আমাকে রিলিজ করা হয়েছে।’
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রশিক্ষণে থাকায় দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এডিসি রোকসানা বলেন, ‘আমি ওই আদেশে স্বাক্ষর করিনি, তাই আমি কিছুই বলতে পারব না।’

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দেউতি হাটের ইজারা ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির গুরুতর অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাককে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রংপুর জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে বলা হয়েছে, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তাকে বৃহস্পতিবার বিকেলেই বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে।
পীরগাছা উপজেলার দেউতি হাট ইজারা নিয়ে সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল পীরগাছা ইউএনও কার্যালয়ে খাস ডাকের মাধ্যমে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়। এতে ২০ জন বিডার অংশ নেন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যস্থতায় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায় পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন হাটের ইজারা পান।
ইজারা পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়া এক হিসাব থেকে জানা যায়, হাট পেতে বড় অঙ্কের ‘ঘুষ’ দিতে হয়েছে। সেখানে ইউএনওর নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার নামে ২ লাখ টাকা, তহশিলদারের নামে ২০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খরচসহ মোট ৬ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়।
হাটের একাধিক বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ এবং চাঁদাবাজির শামিল। তারা আরও দাবি করেন, মতিন ও জাহাঙ্গীরের যোগসাজশে আগের বছরেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ১৪৩২ বাংলা সনে প্রায় ৫৯ লাখ টাকার টেন্ডার বাতিল করে কম মূল্যে খাস ডাক নেওয়া হয়। পরে খরচ বেশি দেখিয়ে হাট থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তৎকালীন ইউএনও নাজমুল হক সুমনসহ সংশ্লিষ্টরা প্রায় ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে হাটটি পুনরায় সাব-ইজারা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সাব-ইজারাদার বেলাল হোসেন জানান, খাস ডাকের প্রকৃত মূল্য ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও পরে তা বাড়িয়ে প্রায় ২৩ লাখ টাকা দেখানো হয় এবং সাব-ডাকের মাধ্যমে তিনি ৪৫ লাখ টাকায় হাটটি পান।
অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমি কাকে কত টাকা দিয়েছি, সেটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়।’ অন্যদিকে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টিকে ‘দলীয়’ উল্লেখ করে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা তার নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
ইউএনও দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘আমার নামে একটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। আমার বদলি আদেশ হয়েছে গত ১৬ তারিখ, তারই ধারাবাহিকতায় ৩০ এপ্রিল আমাকে রিলিজ করা হয়েছে।’
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রশিক্ষণে থাকায় দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এডিসি রোকসানা বলেন, ‘আমি ওই আদেশে স্বাক্ষর করিনি, তাই আমি কিছুই বলতে পারব না।’

আপনার মতামত লিখুন