যাকে সবাই ‘দুঃখীরাম’ বলে ডাকতেন, নামের সার্থকতা যেন তার ভাগ্যেই লেখা ছিল। জীবনের প্রতিটি দিন যার হাত ধরে বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বেজে উঠত, আজ সেই মানুষটিই হাসপাতালের নির্জন শয্যায় যন্ত্রণার প্রহর গুনছেন। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আজন্ম সেবক সুকুমার বিশ্বাস এখন বড় নিঃস্ব। সংক্রমণের কারণে পচন ধরায় সম্প্রতি তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে।
সুকুমার বিশ্বাসের জীবনকাহিনি বড় করুণ। শৈশবে পিতৃহারা হওয়ার পর মায়ের সঙ্গে তার ঠাঁই হয়েছিল স্থানীয় এক পরিবারে। সেখান থেকেই শুরু হয় বিদ্যালয়ের দপ্তরি বা সেবকের কাজ। কয়েক দশকের কর্মজীবনে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রিয়মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু অবসরের পর আজ তিনি একা। নেই কোনো জমা জমি, নেই মাথার ওপর নিজের একটি ছাদ। বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন এই মানুষটির রক্তে এখন তীব্র সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, সুকুমারের ডান পায়ের ধমনীতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পচন শুরু হয়েছিল। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তার পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রক্তশূন্যতা ও সংক্রমণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়।
জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আতিয়ার রহমান আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দুঃখীরাম আমাদের বিদ্যালয়ের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। আজ তিনি পঙ্গুত্বের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বিত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন, এই মানুষটিকে অন্তত শেষ জীবনে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের আগে জানা ছিল না। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সরকারি তহবিল থেকে তাঁকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।’

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
যাকে সবাই ‘দুঃখীরাম’ বলে ডাকতেন, নামের সার্থকতা যেন তার ভাগ্যেই লেখা ছিল। জীবনের প্রতিটি দিন যার হাত ধরে বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বেজে উঠত, আজ সেই মানুষটিই হাসপাতালের নির্জন শয্যায় যন্ত্রণার প্রহর গুনছেন। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আজন্ম সেবক সুকুমার বিশ্বাস এখন বড় নিঃস্ব। সংক্রমণের কারণে পচন ধরায় সম্প্রতি তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে।
সুকুমার বিশ্বাসের জীবনকাহিনি বড় করুণ। শৈশবে পিতৃহারা হওয়ার পর মায়ের সঙ্গে তার ঠাঁই হয়েছিল স্থানীয় এক পরিবারে। সেখান থেকেই শুরু হয় বিদ্যালয়ের দপ্তরি বা সেবকের কাজ। কয়েক দশকের কর্মজীবনে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রিয়মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু অবসরের পর আজ তিনি একা। নেই কোনো জমা জমি, নেই মাথার ওপর নিজের একটি ছাদ। বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন এই মানুষটির রক্তে এখন তীব্র সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, সুকুমারের ডান পায়ের ধমনীতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পচন শুরু হয়েছিল। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তার পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রক্তশূন্যতা ও সংক্রমণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়।
জাটিগ্রাম মমতাজউদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আতিয়ার রহমান আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দুঃখীরাম আমাদের বিদ্যালয়ের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। আজ তিনি পঙ্গুত্বের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বিত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন, এই মানুষটিকে অন্তত শেষ জীবনে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের আগে জানা ছিল না। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সরকারি তহবিল থেকে তাঁকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন