ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে মেদির হাওরের প্রায় ৬৫ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাওরপাড়ের শতাধিক কৃষক পরিবার চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মেদির হাওরের আওতাধীন গোয়ালনগর, ভলাকুট, নাসিরনগর সদর ও বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি আশপাশের নিচু জমিতেও জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী জানায়, এসব হাওরাঞ্চল নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। এবারের টানা বর্ষণে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে মাঠের ধান তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় কৃষকেরা জমিতে নামতে পারছেন না। ফলে ধান কাটার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক বলেন, ‘অনেক কষ্ট ও ধারদেনা করে ধান ফলিয়েছি। এখন চোখের সামনে সব সোনার ফসল পানির নিচে চলে যাচ্ছে। বৃষ্টি না থামলে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’
কৃষকদের দাবি, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিক খাতে বিপুল বিনিয়োগের পর ফসল ঘরে তুলতে না পারলে তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাওর এলাকায় টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জোর দাবি তুলেছেন তারা।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহায়তা দিতে কৃষি অফিসে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নতুন করে যারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে কৃষকেরা দ্রুত সরকারি সহায়তা পান। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি মূল্যে খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন