বিয়ের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি ছিল। কনের সঙ্গে গিয়ে নিজের বিয়ের কেনাকাটাও করেছিলেন ১৮ বছরের তরুণ সৈকত মুখার্জি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না তার। শনিবার (২ মে) ভোরে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সৈকত মুখার্জি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামের আদিত্য মুখার্জির একমাত্র ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্র ছিলেন। আগামী ৭ মে বৃহস্পতিবার তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে সৈকতের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই সম্পর্ক থেকে ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পারিবারিকভাবে তার পিসির মেয়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেন বাবা-মা। গত কয়েক দিনে হবু কনেকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের কেনাকাটাও করেছিলেন সৈকত। কিন্তু আজ ভোর সাড়ে চারটার দিকে নিজ ঘরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈকতকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে মানসিক টানাপোড়েন থেকে সৈকত আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা এখন দিশাহারা।
শ্যামনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
আপনার মতামত লিখুন