নরসিংদীর মনোহরদীতে একসময়ের প্রমত্তা আড়িয়াল খাঁ নদ এখন শুধুই স্মৃতি। নাব্যতা সংকট, পলি জমে চর জাগা আর অবৈধ দখলের কবলে পড়ে নদটি এখন ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। যেখানে একসময় মাঝিমাল্লাদের হাঁকডাক শোনা যেত, সেখানে এখন সবুজের সমারোহ-কৃষকেরা ফলাচ্ছেন বোরো ধানসহ নানা মৌসুমি ফসল।
নদটির উৎপত্তি লেবুতলার ড্রেনের ঘাট থেকে। সেখান থেকে চালাকচর হয়ে পাইকান দিয়ে এটি মিশেছে মেঘনা নদীর সঙ্গে। এককালে এই নদকে ঘিরে এলাকায় গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ জনপদ, জীবিকা নির্বাহ করতেন বহু জেলে ও মাঝি। বর্তমানে কোথাও বালুচর, কোথাও আবাদি জমি, আবার কোথাও গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সেচব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। মনোহরদী মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় ইরি-বোরো মৌসুমে নদের বুকেই ধান রোপণ করছেন কৃষকেরা। ধান কাটার পর আবার অনেক স্থানে পাট ও মৌসুমি ফসলের চাষ করা হচ্ছে। নদের দুই পাড়ের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা এখন অবৈধ দখলদারদের কবলে।
আহম্মদপুর ও পীরপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ বাসিন্দারা জানান, আগে এই নদ দিয়ে গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরবসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রলার ও বড় নৌকা যাতায়াত করত। পীরপুর থেকে চালাকচর যেতে খেয়া পার হতে হতো। এখন নদে পানি না থাকায় নৌযান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ।
চালাকচর বাজারের ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর আগেও আমরা নৌকাযোগে ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মালপত্র এনে ব্যবসা করতাম। খরচও অনেক কম হতো। এখন অবৈধ দখলের কারণে নদটি সরু হয়ে আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে।’
নদটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারাও। শরীফপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক বলেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় ঐতিহ্যবাহী আড়িয়াল খাঁ নদটি দ্রুত খনন করা প্রয়োজন। এটি খনন করা হলে নদতীরের কয়েক হাজার মানুষ সেচসুবিধা পাবেন।
পশ্চিম রামপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার বলেন, নদটি খনন করে এর অস্তিত্ব রক্ষা করা না হলে এ অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নের কৃষিকাজ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দেবে। তিনি অবিলম্বে সরকারের সুদৃষ্টি ও খননকাজ শুরুর দাবি জানান।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
নরসিংদীর মনোহরদীতে একসময়ের প্রমত্তা আড়িয়াল খাঁ নদ এখন শুধুই স্মৃতি। নাব্যতা সংকট, পলি জমে চর জাগা আর অবৈধ দখলের কবলে পড়ে নদটি এখন ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। যেখানে একসময় মাঝিমাল্লাদের হাঁকডাক শোনা যেত, সেখানে এখন সবুজের সমারোহ-কৃষকেরা ফলাচ্ছেন বোরো ধানসহ নানা মৌসুমি ফসল।
নদটির উৎপত্তি লেবুতলার ড্রেনের ঘাট থেকে। সেখান থেকে চালাকচর হয়ে পাইকান দিয়ে এটি মিশেছে মেঘনা নদীর সঙ্গে। এককালে এই নদকে ঘিরে এলাকায় গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ জনপদ, জীবিকা নির্বাহ করতেন বহু জেলে ও মাঝি। বর্তমানে কোথাও বালুচর, কোথাও আবাদি জমি, আবার কোথাও গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সেচব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। মনোহরদী মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় ইরি-বোরো মৌসুমে নদের বুকেই ধান রোপণ করছেন কৃষকেরা। ধান কাটার পর আবার অনেক স্থানে পাট ও মৌসুমি ফসলের চাষ করা হচ্ছে। নদের দুই পাড়ের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা এখন অবৈধ দখলদারদের কবলে।
আহম্মদপুর ও পীরপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ বাসিন্দারা জানান, আগে এই নদ দিয়ে গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরবসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রলার ও বড় নৌকা যাতায়াত করত। পীরপুর থেকে চালাকচর যেতে খেয়া পার হতে হতো। এখন নদে পানি না থাকায় নৌযান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ।
চালাকচর বাজারের ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর আগেও আমরা নৌকাযোগে ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মালপত্র এনে ব্যবসা করতাম। খরচও অনেক কম হতো। এখন অবৈধ দখলের কারণে নদটি সরু হয়ে আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে।’
নদটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারাও। শরীফপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক বলেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় ঐতিহ্যবাহী আড়িয়াল খাঁ নদটি দ্রুত খনন করা প্রয়োজন। এটি খনন করা হলে নদতীরের কয়েক হাজার মানুষ সেচসুবিধা পাবেন।
পশ্চিম রামপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার বলেন, নদটি খনন করে এর অস্তিত্ব রক্ষা করা না হলে এ অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নের কৃষিকাজ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দেবে। তিনি অবিলম্বে সরকারের সুদৃষ্টি ও খননকাজ শুরুর দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন