টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে বিভাগীয় শহর রংপুরের ৩৩টি পাড়া-মহল্লা হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে নগরের অন্তত ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় বৃষ্টি থামলেও পানি নামছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ মিলিমিটার এবং গত তিন দিনে মোট ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার (২ মে) দুপুর ১টায় নগরের মাস্টারপাড়া এলাকায় অবস্থিত আবহাওয়া অফিসের সামনের সড়কে দুই থেকে তিন ফুট পানি দেখা যায়। নগরের চারতলা মোড় থেকে পুরো সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে কামারপাড়া, বাবুখাঁ, লালবাগ, গণেশপুর, বালাপাড়া, বিনোদপুর ও পাঠানপাড়া এলাকাতেও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আখতার হোসেন বলেন, ‘ড্রেনগুলো দিয়ে পানি সরছে না। সিটি করপোরেশন ড্রেন পরিষ্কারে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। আরও দুদিন বৃষ্টি হলে ঘরবাড়ি পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।’
বাবুখাঁ এলাকার এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, দোকানে পানি ঢুকে তার হাজার হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবার রান্নাবান্না করতে পারছে না, ফলে খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সামসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নগরের ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং শ্যামাসুন্দরী খালে পানিপ্রবাহের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সিটি করপোরেশন পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখলে এই জনভোগান্তি হতো না।
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক মাহফজুন নবী ডন বলেন, ‘পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করতে আমাদের কাজ চলছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আগামী ৫ মে পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার শঙ্কা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে বিভাগীয় শহর রংপুরের ৩৩টি পাড়া-মহল্লা হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে নগরের অন্তত ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় বৃষ্টি থামলেও পানি নামছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ মিলিমিটার এবং গত তিন দিনে মোট ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার (২ মে) দুপুর ১টায় নগরের মাস্টারপাড়া এলাকায় অবস্থিত আবহাওয়া অফিসের সামনের সড়কে দুই থেকে তিন ফুট পানি দেখা যায়। নগরের চারতলা মোড় থেকে পুরো সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে কামারপাড়া, বাবুখাঁ, লালবাগ, গণেশপুর, বালাপাড়া, বিনোদপুর ও পাঠানপাড়া এলাকাতেও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আখতার হোসেন বলেন, ‘ড্রেনগুলো দিয়ে পানি সরছে না। সিটি করপোরেশন ড্রেন পরিষ্কারে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। আরও দুদিন বৃষ্টি হলে ঘরবাড়ি পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।’
বাবুখাঁ এলাকার এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, দোকানে পানি ঢুকে তার হাজার হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবার রান্নাবান্না করতে পারছে না, ফলে খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সামসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নগরের ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং শ্যামাসুন্দরী খালে পানিপ্রবাহের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সিটি করপোরেশন পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখলে এই জনভোগান্তি হতো না।
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক মাহফজুন নবী ডন বলেন, ‘পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করতে আমাদের কাজ চলছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আগামী ৫ মে পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার শঙ্কা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

আপনার মতামত লিখুন