সংবাদ

সিলেটে ৮ শ্রমিকের মৃত্যু

কারো স্বামী, কারো ভাই ‘সড়কেই ঝরল সব স্বপ্ন’


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

কারো স্বামী, কারো ভাই ‘সড়কেই ঝরল সব স্বপ্ন’
ছবি : সংবাদ

ভোরে একসঙ্গেই কাজে বেরিয়েছিলেন দম্পতি। ঘরে রেখে গিয়েছিলেন চার শিশুসন্তানকে। কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগেই সড়কে ঝরল স্বামীর প্রাণ। একই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে লড়ছেন স্ত্রী। তবে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাফিজা বেগম (২৮) এখনো জানেন না যে তার স্বামী আর বেঁচে নেই।

রোববার (৩ মে) সকাল ছয়টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। তাদেরই একজন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান (৪৫)। তার স্ত্রী হাফিজা বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে হাফিজার শয্যার পাশে বসে ছিল তার চার শিশুসন্তান। অবুঝ শিশুরা এখনো বুঝে উঠতে পারছে না তাদের ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গেছে। প্রায় দুই বছর আগে গ্রাম থেকে শহরে এসে নগরের শামীমাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন এই দম্পতি। দুজনেই নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

দুর্ঘটনার স্মৃতি হাতড়ে হাফিজা বেগম জানান, পিকআপ ভ্যানে করে তারা ছাদ ঢালাইয়ের কাজে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের পিকআপের সংঘর্ষ হয়। মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি আর কিছু মনে করতে পারছেন না। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তিনি ধরে নিয়েছেন তার স্বামীও বেঁচে আছেন এবং এই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নিহত বদরুজ্জামানের মরদেহ রাখা হয়েছে হাসপাতালের মর্গে। সেখানে দাঁড়িয়ে তার চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ বলেন, ‘বদরুজ্জামান তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছে। কাজের জন্য সকালে স্বামী-স্ত্রী বেরিয়েছিল। পথে একজন শেষ হয়ে গেল, আরেকজন হাসপাতালে। এই বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা এখন খুব চিন্তিত।’

একসঙ্গে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
তেলিবাজারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের তালিকায় রয়েছেন দুই ভাইও। তারা হলেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২)। গত ১০ বছর ধরে তারা সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।

দুপুর একটার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে দুই ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন তাদের খালাতো ভাই শামীম আহমদ। তিনি জানান, ফেসবুকে দুর্ঘটনার খবর ও মরদেহের ছবি দেখে সন্দেহ হলে তিনি হাসপাতালে ছুটে আসেন। দুই সন্তানকে হারিয়ে তাদের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে।

আহত অন্য শ্রমিকেরা জানান, আম্বরখানা থেকে অন্তত ২০ জন নির্মাণশ্রমিক একটি পিকআপে করে ঢালাইয়ের কাজের জন্য লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


কারো স্বামী, কারো ভাই ‘সড়কেই ঝরল সব স্বপ্ন’

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

ভোরে একসঙ্গেই কাজে বেরিয়েছিলেন দম্পতি। ঘরে রেখে গিয়েছিলেন চার শিশুসন্তানকে। কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগেই সড়কে ঝরল স্বামীর প্রাণ। একই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে লড়ছেন স্ত্রী। তবে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাফিজা বেগম (২৮) এখনো জানেন না যে তার স্বামী আর বেঁচে নেই।

রোববার (৩ মে) সকাল ছয়টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। তাদেরই একজন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান (৪৫)। তার স্ত্রী হাফিজা বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে হাফিজার শয্যার পাশে বসে ছিল তার চার শিশুসন্তান। অবুঝ শিশুরা এখনো বুঝে উঠতে পারছে না তাদের ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গেছে। প্রায় দুই বছর আগে গ্রাম থেকে শহরে এসে নগরের শামীমাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন এই দম্পতি। দুজনেই নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

দুর্ঘটনার স্মৃতি হাতড়ে হাফিজা বেগম জানান, পিকআপ ভ্যানে করে তারা ছাদ ঢালাইয়ের কাজে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের পিকআপের সংঘর্ষ হয়। মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি আর কিছু মনে করতে পারছেন না। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তিনি ধরে নিয়েছেন তার স্বামীও বেঁচে আছেন এবং এই হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নিহত বদরুজ্জামানের মরদেহ রাখা হয়েছে হাসপাতালের মর্গে। সেখানে দাঁড়িয়ে তার চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ বলেন, ‘বদরুজ্জামান তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছে। কাজের জন্য সকালে স্বামী-স্ত্রী বেরিয়েছিল। পথে একজন শেষ হয়ে গেল, আরেকজন হাসপাতালে। এই বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা এখন খুব চিন্তিত।’

একসঙ্গে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
তেলিবাজারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের তালিকায় রয়েছেন দুই ভাইও। তারা হলেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২)। গত ১০ বছর ধরে তারা সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।

দুপুর একটার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে দুই ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন তাদের খালাতো ভাই শামীম আহমদ। তিনি জানান, ফেসবুকে দুর্ঘটনার খবর ও মরদেহের ছবি দেখে সন্দেহ হলে তিনি হাসপাতালে ছুটে আসেন। দুই সন্তানকে হারিয়ে তাদের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে।

আহত অন্য শ্রমিকেরা জানান, আম্বরখানা থেকে অন্তত ২০ জন নির্মাণশ্রমিক একটি পিকআপে করে ঢালাইয়ের কাজের জন্য লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত