সংবাদ

কুষ্টিয়ায় বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব, দেড় মাসে ৮ জনের মৃত্যু


জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

কুষ্টিয়ায় বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব, দেড় মাসে ৮ জনের মৃত্যু
ছবি : সংবাদ

কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ায় জেলার অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৩৫ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত দেড় মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল আটটা থেকে আজ রোববার (৩ মে) সকাল আটটা পর্যন্ত নতুন ৩৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৮ জন এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ২৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া কুমারখালী ও ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন রোগী ভর্তি হলেও মিরপুর, দৌলতপুর ও খোকসায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো নতুন রোগী পাওয়া যায়নি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১ মে পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় সর্বমোট ৯৭৭ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮৪৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও সংক্রমণের হার না কমায় জনমনে আতঙ্ক কাটছে না।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শিশুদের জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলেই অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

শহরের এক অভিভাবক বলেন, ‘চারপাশে যে হারে হাম ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় লাগছে। আমরা দ্রুত এর কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা চাই।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশনের (বিচ্ছিন্ন রাখা) আওতায় আনা জরুরি। সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, এটি কেবল সাধারণ সংক্রমণ নয়, বরং একটি বড় প্রাদুর্ভাবের দিকে ধাবিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে আক্রান্ত এলাকায় জরুরি মেডিকেল টিম মোতায়েন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


কুষ্টিয়ায় বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব, দেড় মাসে ৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ায় জেলার অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৩৫ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত দেড় মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল আটটা থেকে আজ রোববার (৩ মে) সকাল আটটা পর্যন্ত নতুন ৩৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৮ জন এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ২৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া কুমারখালী ও ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন রোগী ভর্তি হলেও মিরপুর, দৌলতপুর ও খোকসায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো নতুন রোগী পাওয়া যায়নি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১ মে পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় সর্বমোট ৯৭৭ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮৪৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও সংক্রমণের হার না কমায় জনমনে আতঙ্ক কাটছে না।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শিশুদের জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলেই অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

শহরের এক অভিভাবক বলেন, ‘চারপাশে যে হারে হাম ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় লাগছে। আমরা দ্রুত এর কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা চাই।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশনের (বিচ্ছিন্ন রাখা) আওতায় আনা জরুরি। সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, এটি কেবল সাধারণ সংক্রমণ নয়, বরং একটি বড় প্রাদুর্ভাবের দিকে ধাবিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে আক্রান্ত এলাকায় জরুরি মেডিকেল টিম মোতায়েন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত