মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে এবং ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই জবাব তেহরানের হাতে পৌঁছেছে। তবে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া এই প্রস্তাবকে সরাসরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রোববার (৩ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, তারা ওয়াশিংটনের দেওয়া জবাবটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছেন। বাঘাই স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান কোনো ধরনের আল্টিমেটাম বা চাপের মুখে আলোচনা করবে না। তিনি আরও জানান, বর্তমান আলোচনায় পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কোনো কথা হবে না। লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ৩০ দিনের যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে তা কোনো আল্টিমেটাম নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা।
তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই শান্তি প্রস্তাবে বেশ কিছু কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. হরমুজ প্রণালী ও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার।
২. ইরানের আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৩. ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
৪. ভবিষ্যতে আর কোনো হামলার শিকার না হওয়ার গ্যারান্টি এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম 'কান নিউজ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি প্রস্তাবটি খুঁটিনাটি সব দেখেছি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দুর্নীতির মামলা প্রসঙ্গে তিনি ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগকে অনুরোধ করেন যেন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ট্রাম্পের মতে, “বিবি (নেতানিয়াহু) এবং আমি না থাকলে ইসরাইলের অস্তিত্বই থাকত না। এই মুহূর্তে দুর্নীতির মামলা নয়, বরং যুদ্ধের দিকেই প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ মনোযোগ থাকা উচিত।”
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও কূটনৈতিক পথ এখনই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তবে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা শর্তের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে এবং ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই জবাব তেহরানের হাতে পৌঁছেছে। তবে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া এই প্রস্তাবকে সরাসরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রোববার (৩ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, তারা ওয়াশিংটনের দেওয়া জবাবটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছেন। বাঘাই স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান কোনো ধরনের আল্টিমেটাম বা চাপের মুখে আলোচনা করবে না। তিনি আরও জানান, বর্তমান আলোচনায় পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কোনো কথা হবে না। লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ৩০ দিনের যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে তা কোনো আল্টিমেটাম নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা।
তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই শান্তি প্রস্তাবে বেশ কিছু কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. হরমুজ প্রণালী ও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার।
২. ইরানের আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৩. ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
৪. ভবিষ্যতে আর কোনো হামলার শিকার না হওয়ার গ্যারান্টি এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম 'কান নিউজ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি প্রস্তাবটি খুঁটিনাটি সব দেখেছি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দুর্নীতির মামলা প্রসঙ্গে তিনি ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগকে অনুরোধ করেন যেন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ট্রাম্পের মতে, “বিবি (নেতানিয়াহু) এবং আমি না থাকলে ইসরাইলের অস্তিত্বই থাকত না। এই মুহূর্তে দুর্নীতির মামলা নয়, বরং যুদ্ধের দিকেই প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ মনোযোগ থাকা উচিত।”
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও কূটনৈতিক পথ এখনই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তবে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা শর্তের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন