সংবাদ

জাহাজবাড়ি ‘জঙ্গি নাটক’: অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ জুন


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৬ মে ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

জাহাজবাড়ি ‘জঙ্গি নাটক’: অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ জুন
জাহাজবাড়ি 'জঙ্গি নাটক': শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ জুন

রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।

প্রসিকিউশনের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেছে।

বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। তিনি এই মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আরও এক মাস সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ৭ জুন দিন নির্ধারণ করে।

এই মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

মামলার পলাতক ছয় আসামি হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি পলাতক এই আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পরবর্তীতে গত ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের আবেদন করে প্রসিকিউশন। এর আগে, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান হোলি আর্টিজান হামলার ২৫ দিন পর ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের তাজ মঞ্জিল নামের একটি বাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ভবনের আকৃতির কারণে স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি জাহাজবাড়ি  নামে পরিচিত ছিল।

অপারেশন স্টর্ম-২৬ নামের ওই অভিযানে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযান শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছিল, নিহতরা সবাই নব্য জেএমবির সদস্য। ওই ঘটনায় হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং একজন পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনার পরদিন ২৭ জুলাই রাতে মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. শাহজাহান আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। ১০ আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই মামলাটি এখনও সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই অভিযানের ভিন্ন ভাষ্য সামনে আসতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই নতুন মামলা দায়ের করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


জাহাজবাড়ি ‘জঙ্গি নাটক’: অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ জুন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।

প্রসিকিউশনের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেছে।

বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। তিনি এই মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আরও এক মাস সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ৭ জুন দিন নির্ধারণ করে।

এই মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

মামলার পলাতক ছয় আসামি হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি পলাতক এই আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পরবর্তীতে গত ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের আবেদন করে প্রসিকিউশন। এর আগে, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান হোলি আর্টিজান হামলার ২৫ দিন পর ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের তাজ মঞ্জিল নামের একটি বাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ভবনের আকৃতির কারণে স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি জাহাজবাড়ি  নামে পরিচিত ছিল।

অপারেশন স্টর্ম-২৬ নামের ওই অভিযানে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযান শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছিল, নিহতরা সবাই নব্য জেএমবির সদস্য। ওই ঘটনায় হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং একজন পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনার পরদিন ২৭ জুলাই রাতে মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. শাহজাহান আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। ১০ আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই মামলাটি এখনও সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই অভিযানের ভিন্ন ভাষ্য সামনে আসতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই নতুন মামলা দায়ের করা হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত