জুলাই আন্দোলনে 'হেলিকপ্টার থেকে গুলি' বা বোমাবর্ষণের কোনো প্রমাণ নেই। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ফোনালাপে আন্দোলন দমনে কোনো উসকানি বা ষড়যন্ত্রের উপাদান পাওয়া যায়নি বলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাবি করেছে আসামিপক্ষ।
জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন উপস্থাপন শেষ করেছে আসামিপক্ষ। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে গত ২ এপ্রিল আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়।
বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক শেষ হয়। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে হাসানুল হক ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সাবেক বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এ সময় তাকে আইনি সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. সুলতান মাহমুদ সিমন, অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাসান এবং ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ।
প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা।
তদন্ত কর্মকর্তার ‘মিথ্যা সাক্ষ্য’ ও হেলিকপ্টার বিতর্ক: শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষ তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরার অংশবিশেষ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরে। তারা আদালতকে জানান, জেরায় তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, হেলিকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণের বিষয়ে তিনি র্যাবের কোনো কর্মকর্তা বা হেলিকপ্টার আরোহীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে আসামিপক্ষ জানায়, ওই প্রতিবেদনে ৫ আগস্টের পর নিয়োগ পাওয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র্যাবের মহাপরিচালকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে—১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত র্যাবের হেলিকপ্টার থেকে কোনো গুলি বা বোমাবর্ষণ করা হয়নি।
শুনানিতে ইনুর আইনজীবীরা বলেন, “এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেছেন, ‘ইহা সত্য নহে’। অথচ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে খোদ আইজিপি ও র্যাব ডিজির বক্তব্য রয়েছে। এ থেকেই প্রমাণিত হয় তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না করে ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।”
‘আন্দোলনে সশস্ত্র অনুপ্রবেশ ও মুগ্ধ হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক’: আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্কে দাবি করে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন নিছক কোনো ছাত্র আন্দোলন ছিল না; বরং এখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। এর সপক্ষে তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত মীর মুগ্ধর ফেসবুক স্ট্যাটাসের কথা উল্লেখ করে আসামিপক্ষ জানায়, নিহত হওয়ার আগের দিন (২৬ জুলাই ২০২৪, দৈনিক দেশ রূপান্তর) মুগ্ধ লিখেছিলেন- “জামাত-শিবির, ছাত্রদলের উদ্দেশ্যে কিছু কথা: ছাত্র আন্দোলনে ঢুকে ছাত্র আন্দোলনটাকে রাজনৈতিক দলের আন্দোলন বানাবেন না। হ্যাডম থাকলে আগেই আসতেন আপনারা, সুযোগ সন্ধানী আচরণ করে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্যটাকে নষ্ট করবেন না, জাত চেনাবেন না। আপনি যদি ছাত্র হোন তবে ছাত্র হয়েই আসুন। আমাদের আন্দোলনে ছাত্র প্রয়োজন, কোন উদ্দেশ্য হাসিলকারী নয়।”
এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পরদিনই মুগ্ধর মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত রহস্যজনক’ বলে ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
আন্দোলনে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের (৩০ জুলাই ২০২৫) অংশবিশেষ তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “এটার পেছনে যে আমরা ছিলাম এটা গোয়েন্দারা জানতো, সরকার জানতো। এজন্যই তো আমাদেরকে ব্যান করেছে।… এটা যে জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন এটা যেন প্রকাশিত না হয়, আমরা চেয়েছি এটা একটা সার্বজনীন রূপ দেওয়ার জন্য। …সেজন্য আমরা কৌশলটা নিয়েছিলাম যেন সকল শ্রেণির মানুষের পার্টিসিপেশন (অংশগ্রহণ) এটা এখানে নিশ্চিত হয়।”
এছাড়া ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দ্য ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে আসামিপক্ষ জানায়, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন আনসার সদস্যদের ওপর বেসামরিক লোকজন ‘৭.৬২ এমএম’ রাইফেল দিয়ে হামলা করেছিল। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের নামে কারা এই সশস্ত্র অবস্থায় ছিল, তার কোনো তদন্ত করা হয়নি।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে (নিউজ২৪, ২৭ অক্টোবর ২০২৪) দেওয়া বক্তব্যও ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “যদি মেট্রোরেলে আগুন না দেওয়া হতো, যদি পুলিশদের না মারা হতো, তাহলে এই বিপ্লবটা এত সহজে অর্জিত হতো না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনটি যে নিছক অহিংস ছাত্র আন্দোলন ছিল না, সেটিই প্রমাণিত হয় বলে দাবি করে আসামিপক্ষ।
‘ইনুর বিরুদ্ধে উসকানির প্রমাণ নেই’: হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) ও ৪ ধারায় আনা অভিযোগ খণ্ডন করে সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর টেলিফোন কথোপকথনের যে দুটি রেকর্ড প্রসিকিউশন দাখিল করেছে, সেখানে আন্দোলন দমনে গুলি, বোমাবর্ষণ বা নির্যাতনের কোনো কথা নেই।
পাশাপাশি প্রসিকিউশন থেকে দাখিল করা ইনুর তিনটি সাক্ষাৎকার এবং ৫টি সংবাদ প্রতিবেদনেও আন্দোলন দমনে উসকানি, ষড়যন্ত্র বা সহযোগিতার কোনো উপাদান নেই বলে দাবি করেন তার আইনজীবী।
প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মঙ্গলবার আসামিপক্ষে জবাব দেওয়া সাপেক্ষে ইনুর আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে 'হেলিকপ্টার থেকে গুলি' বা বোমাবর্ষণের কোনো প্রমাণ নেই। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ফোনালাপে আন্দোলন দমনে কোনো উসকানি বা ষড়যন্ত্রের উপাদান পাওয়া যায়নি বলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাবি করেছে আসামিপক্ষ।
জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন উপস্থাপন শেষ করেছে আসামিপক্ষ। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে গত ২ এপ্রিল আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়।
বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক শেষ হয়। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে হাসানুল হক ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সাবেক বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এ সময় তাকে আইনি সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. সুলতান মাহমুদ সিমন, অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাসান এবং ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ।
প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা।
তদন্ত কর্মকর্তার ‘মিথ্যা সাক্ষ্য’ ও হেলিকপ্টার বিতর্ক: শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষ তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরার অংশবিশেষ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরে। তারা আদালতকে জানান, জেরায় তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, হেলিকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণের বিষয়ে তিনি র্যাবের কোনো কর্মকর্তা বা হেলিকপ্টার আরোহীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে আসামিপক্ষ জানায়, ওই প্রতিবেদনে ৫ আগস্টের পর নিয়োগ পাওয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র্যাবের মহাপরিচালকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে—১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত র্যাবের হেলিকপ্টার থেকে কোনো গুলি বা বোমাবর্ষণ করা হয়নি।
শুনানিতে ইনুর আইনজীবীরা বলেন, “এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেছেন, ‘ইহা সত্য নহে’। অথচ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে খোদ আইজিপি ও র্যাব ডিজির বক্তব্য রয়েছে। এ থেকেই প্রমাণিত হয় তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না করে ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।”
‘আন্দোলনে সশস্ত্র অনুপ্রবেশ ও মুগ্ধ হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক’: আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্কে দাবি করে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন নিছক কোনো ছাত্র আন্দোলন ছিল না; বরং এখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। এর সপক্ষে তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত মীর মুগ্ধর ফেসবুক স্ট্যাটাসের কথা উল্লেখ করে আসামিপক্ষ জানায়, নিহত হওয়ার আগের দিন (২৬ জুলাই ২০২৪, দৈনিক দেশ রূপান্তর) মুগ্ধ লিখেছিলেন- “জামাত-শিবির, ছাত্রদলের উদ্দেশ্যে কিছু কথা: ছাত্র আন্দোলনে ঢুকে ছাত্র আন্দোলনটাকে রাজনৈতিক দলের আন্দোলন বানাবেন না। হ্যাডম থাকলে আগেই আসতেন আপনারা, সুযোগ সন্ধানী আচরণ করে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্যটাকে নষ্ট করবেন না, জাত চেনাবেন না। আপনি যদি ছাত্র হোন তবে ছাত্র হয়েই আসুন। আমাদের আন্দোলনে ছাত্র প্রয়োজন, কোন উদ্দেশ্য হাসিলকারী নয়।”
এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পরদিনই মুগ্ধর মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত রহস্যজনক’ বলে ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
আন্দোলনে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের (৩০ জুলাই ২০২৫) অংশবিশেষ তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “এটার পেছনে যে আমরা ছিলাম এটা গোয়েন্দারা জানতো, সরকার জানতো। এজন্যই তো আমাদেরকে ব্যান করেছে।… এটা যে জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন এটা যেন প্রকাশিত না হয়, আমরা চেয়েছি এটা একটা সার্বজনীন রূপ দেওয়ার জন্য। …সেজন্য আমরা কৌশলটা নিয়েছিলাম যেন সকল শ্রেণির মানুষের পার্টিসিপেশন (অংশগ্রহণ) এটা এখানে নিশ্চিত হয়।”
এছাড়া ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দ্য ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে আসামিপক্ষ জানায়, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন আনসার সদস্যদের ওপর বেসামরিক লোকজন ‘৭.৬২ এমএম’ রাইফেল দিয়ে হামলা করেছিল। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের নামে কারা এই সশস্ত্র অবস্থায় ছিল, তার কোনো তদন্ত করা হয়নি।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে (নিউজ২৪, ২৭ অক্টোবর ২০২৪) দেওয়া বক্তব্যও ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “যদি মেট্রোরেলে আগুন না দেওয়া হতো, যদি পুলিশদের না মারা হতো, তাহলে এই বিপ্লবটা এত সহজে অর্জিত হতো না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনটি যে নিছক অহিংস ছাত্র আন্দোলন ছিল না, সেটিই প্রমাণিত হয় বলে দাবি করে আসামিপক্ষ।
‘ইনুর বিরুদ্ধে উসকানির প্রমাণ নেই’: হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) ও ৪ ধারায় আনা অভিযোগ খণ্ডন করে সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর টেলিফোন কথোপকথনের যে দুটি রেকর্ড প্রসিকিউশন দাখিল করেছে, সেখানে আন্দোলন দমনে গুলি, বোমাবর্ষণ বা নির্যাতনের কোনো কথা নেই।
পাশাপাশি প্রসিকিউশন থেকে দাখিল করা ইনুর তিনটি সাক্ষাৎকার এবং ৫টি সংবাদ প্রতিবেদনেও আন্দোলন দমনে উসকানি, ষড়যন্ত্র বা সহযোগিতার কোনো উপাদান নেই বলে দাবি করেন তার আইনজীবী।
প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মঙ্গলবার আসামিপক্ষে জবাব দেওয়া সাপেক্ষে ইনুর আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

আপনার মতামত লিখুন