পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে উৎপাদন ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব নিয়ে আগামী ২০ ও ২১ মে গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ সময় সঞ্চালন ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবেরও ওপরও শুনানি হবে।
বিইআরসির নোটিসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দামে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবও কমিশনের কার্যক্রমে রয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
এছাড়া, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) দিয়েছে সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিপিডিবির পাইকারি মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে। একই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শুনানি হবে পিজিসিবির সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের ওপর।
২১ মে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিপিডিবি, বিআরইবি, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকোর খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে।
ঢাকার খামারবাড়ি রোডে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে এসব শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে ১৭ মের মধ্যে কমিশনে নাম তালিকাভুক্ত করতে পারবেন।
দাম কত বাড়বে
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাহকদের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হারে দাম সমন্বয় করা হবে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত এবং খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। নতুন দাম আগামী জুলাই মাস থেকে কার্যকর হতে পারে।
তবে প্রান্তিকে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী (লাইফ লাইন গ্রাহক) তাদের বিদ্যুতের দাম এবার না বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার।
বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ও বিক্রয় মূল্যে ব্যবধানের কারণে প্রতি বছরই সরকার এ খাতে বড় অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাড়তি ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে দাম বিদ্যুতের বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার। ওই কমিটির পরামর্শেই মূলত বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রস্তাব দিয়েছে।
সাধারণ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। তারা কমিশনের কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রয়ে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ৪০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। আবার ৭৬ থেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য এই বৃদ্ধি প্রায় ৭০ পয়সা হতে পারে। তবে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী বা লাইফলাইন গ্রাহকদের আপাতত এই বাড়তি চাপের বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান তাতে দেখা যায়, দেশে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৫৬।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ি, বর্তমানে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের তুলনায় গ্রাহকদের কাছে (কম দামে) বিক্রিতে গড়ে সাড়ে ৫ টাকার মতো ঘটতি বা লস থাকে। এ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি হতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আরও প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ঘাটতি হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্র অনুযায়ি, সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে।
সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি ইউনিটের গড় খুচরা মূল্য ছিল ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। ওই সময় পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়লে প্রতি ইউনিটে দাম বাড়বে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে উৎপাদন ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব নিয়ে আগামী ২০ ও ২১ মে গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ সময় সঞ্চালন ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবেরও ওপরও শুনানি হবে।
বিইআরসির নোটিসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দামে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবও কমিশনের কার্যক্রমে রয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
এছাড়া, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) দিয়েছে সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিপিডিবির পাইকারি মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে। একই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শুনানি হবে পিজিসিবির সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের ওপর।
২১ মে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিপিডিবি, বিআরইবি, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকোর খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে।
ঢাকার খামারবাড়ি রোডে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে এসব শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে ১৭ মের মধ্যে কমিশনে নাম তালিকাভুক্ত করতে পারবেন।
দাম কত বাড়বে
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাহকদের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হারে দাম সমন্বয় করা হবে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত এবং খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। নতুন দাম আগামী জুলাই মাস থেকে কার্যকর হতে পারে।
তবে প্রান্তিকে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী (লাইফ লাইন গ্রাহক) তাদের বিদ্যুতের দাম এবার না বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার।
বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ও বিক্রয় মূল্যে ব্যবধানের কারণে প্রতি বছরই সরকার এ খাতে বড় অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলএনজি, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাড়তি ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে দাম বিদ্যুতের বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার। ওই কমিটির পরামর্শেই মূলত বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রস্তাব দিয়েছে।
সাধারণ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। তারা কমিশনের কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রয়ে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ৪০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। আবার ৭৬ থেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য এই বৃদ্ধি প্রায় ৭০ পয়সা হতে পারে। তবে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী বা লাইফলাইন গ্রাহকদের আপাতত এই বাড়তি চাপের বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান তাতে দেখা যায়, দেশে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৫৬।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ি, বর্তমানে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের তুলনায় গ্রাহকদের কাছে (কম দামে) বিক্রিতে গড়ে সাড়ে ৫ টাকার মতো ঘটতি বা লস থাকে। এ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি হতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আরও প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ঘাটতি হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্র অনুযায়ি, সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে।
সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি ইউনিটের গড় খুচরা মূল্য ছিল ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। ওই সময় পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়লে প্রতি ইউনিটে দাম বাড়বে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা।

আপনার মতামত লিখুন