দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে শান্তিচুক্তির পথে এগোচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে তেহরান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশ একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।
বুধবার (৬ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে নিজেদের আনুষ্ঠানিক জবাব জানাবে।
এদিকে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, "একটি বড় চুক্তির সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।"
তবে আশাবাদের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যদি এই সর্বশেষ মার্কিন প্রস্তাবে রাজি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ তথা বোমা হামলা শুরু করতে দ্বিধা করবে না।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বরাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ অবসানের কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
মূলত কয়েকটি অমীমাংসিত ইস্যু এই সমঝোতার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে:
পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের পরমাণু প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং এর ওপর নজরদারির সীমা।
হরমুজ প্রণালি: বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সময়সীমা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান এই আলোচনা যদি সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব যুদ্ধের ইতি টানবে কি না।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে শান্তিচুক্তির পথে এগোচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে তেহরান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশ একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।
বুধবার (৬ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে নিজেদের আনুষ্ঠানিক জবাব জানাবে।
এদিকে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, "একটি বড় চুক্তির সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।"
তবে আশাবাদের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যদি এই সর্বশেষ মার্কিন প্রস্তাবে রাজি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ তথা বোমা হামলা শুরু করতে দ্বিধা করবে না।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বরাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ অবসানের কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
মূলত কয়েকটি অমীমাংসিত ইস্যু এই সমঝোতার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে:
পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের পরমাণু প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং এর ওপর নজরদারির সীমা।
হরমুজ প্রণালি: বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সময়সীমা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান এই আলোচনা যদি সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব যুদ্ধের ইতি টানবে কি না।

আপনার মতামত লিখুন