প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ডহরী-তালতলা খালে অবাধে চলাচল করছে বালুবাহি বাল্কহেড। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রকে টাকা দিয়ে এসব বাল্কহেড নিয়মিত যাতায়াত করছে। এতে খালের দুই পাড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে, ঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটা।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট খিদিরপাড়া ইউনিয়নের রসকাঠি এলাকায় বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি পিকনিকের ট্রলার ডুবে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসন এই খালে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কড়াকড়ি না থাকার সুযোগে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বাল্কহেড সিন্ডিকেট।
গৌরগঞ্জ-তালতলা-ডহরী খালটি লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী এই দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী ও বাল্কহেড চালকদের সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গিবাড়ীর বালিগাঁও এলাকার রাজন মুন্সী ও সাজন মুন্সী এবং লৌহজংয়ের রুবেল মাদবর, রিপন ওস্তাকার, আনোয়ার ঢালীসহ বেশ কয়েকজন এই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতিটি বাল্কহেড থেকে ১ থেকে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সহজে পৌঁছাতে এই খালপথটি ব্যবহার করা হয়। বাল্কহেড চলাচলের ফলে সৃষ্ট ঢেউয়ে দুই তীরের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লৌহজংয়ের হাড়িদিয়া গ্রামের এক বাসিন্দাে বলেন, “খালে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাল্কহেড চলাচলও বেড়েছে। তাদের ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।” বাসুদিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, গত দুই বছরে তার বসতবাড়ির অর্ধেকই নদীগর্ভে চলে গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে চাঁদাবাজির দায়ে রাহাত চাকলাদার, দিপু ওস্তাকার ও রিপন ওস্তাকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রুবেল মাদবরকে কারাদণ্ড ও জরিমানাও করেছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। অভিযুক্ত রুবেল মাদবর অবশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সুকানিরা খুশি হয়ে তাদের কিছু টাকা দেয়।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, খালটি ২ টি উপজেলার অংশে পড়েছে। তারা টঙ্গিবাড়ীর ইউএনওর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বাল্কহেড চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ডহরী-তালতলা খালে অবাধে চলাচল করছে বালুবাহি বাল্কহেড। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রকে টাকা দিয়ে এসব বাল্কহেড নিয়মিত যাতায়াত করছে। এতে খালের দুই পাড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে, ঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটা।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট খিদিরপাড়া ইউনিয়নের রসকাঠি এলাকায় বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি পিকনিকের ট্রলার ডুবে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসন এই খালে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কড়াকড়ি না থাকার সুযোগে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বাল্কহেড সিন্ডিকেট।
গৌরগঞ্জ-তালতলা-ডহরী খালটি লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী এই দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী ও বাল্কহেড চালকদের সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গিবাড়ীর বালিগাঁও এলাকার রাজন মুন্সী ও সাজন মুন্সী এবং লৌহজংয়ের রুবেল মাদবর, রিপন ওস্তাকার, আনোয়ার ঢালীসহ বেশ কয়েকজন এই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতিটি বাল্কহেড থেকে ১ থেকে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সহজে পৌঁছাতে এই খালপথটি ব্যবহার করা হয়। বাল্কহেড চলাচলের ফলে সৃষ্ট ঢেউয়ে দুই তীরের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লৌহজংয়ের হাড়িদিয়া গ্রামের এক বাসিন্দাে বলেন, “খালে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাল্কহেড চলাচলও বেড়েছে। তাদের ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।” বাসুদিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, গত দুই বছরে তার বসতবাড়ির অর্ধেকই নদীগর্ভে চলে গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে চাঁদাবাজির দায়ে রাহাত চাকলাদার, দিপু ওস্তাকার ও রিপন ওস্তাকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রুবেল মাদবরকে কারাদণ্ড ও জরিমানাও করেছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। অভিযুক্ত রুবেল মাদবর অবশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সুকানিরা খুশি হয়ে তাদের কিছু টাকা দেয়।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, খালটি ২ টি উপজেলার অংশে পড়েছে। তারা টঙ্গিবাড়ীর ইউএনওর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বাল্কহেড চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

আপনার মতামত লিখুন