রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা। বোরো সেচের এই ভরা মৌসুমে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। সেচ সংকটে অনেক এলাকায় বোরো ধান শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের বাইপাস সড়ক এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) মালিকানাধীন ১০০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার ওই ট্রান্সফরমারটি খুলে সেটির ভেতর থেকে প্রায় ২০০ কেজি তামার তার নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় চা-দোকানি নজরুল শেখ বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই। সকালে এসে দেখি বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে ট্রান্সফরমারটি পড়ে আছে। চোরেরা ভেতর থেকে দামি তামার তারগুলো বের করে নিয়ে গেছে।’
ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, চুরি হওয়া ওই ট্রান্সফরমারটির মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিকল্প উপায়ে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে গোয়ালন্দ পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় সেচ কাজের মোট ২৩টি এবং আবাসিক এলাকার ৪টিসহ মোট ২৭টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সেচের ট্রান্সফরমার চুরি হলে এর পুরো দাম গ্রাহক বা কৃষকদের পরিশোধ করতে হয়। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কৃষক ছালাম মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। পুনরায় টাকা জমা দিয়ে ট্রান্সফরমার কিনতে হচ্ছে। ধান বিক্রি করেও এই লোকসান মেটানো সম্ভব নয়।’ চোর চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করতে তিনি পুলিশের সহযোগিতা দাবি করেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আজকের চুরির ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে মোট ২৭টি চুরির বিষয়ে তিনি অবহিত নন বলে জানান।
আপনার মতামত লিখুন