সংবাদ

গুলিস্তানে ‘উচ্ছেদ’ হকাররা ফিরছেন ‘কার্ড’ হাতে


আয়েশা জান্নাত
আয়েশা জান্নাত
প্রকাশ: ৭ মে ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

গুলিস্তানে ‘উচ্ছেদ’ হকাররা ফিরছেন ‘কার্ড’ হাতে
উচ্ছেদের পর ফিরেছেন হকাররা। আবারও সরগরম গুলিস্তান। ছবি: সংবাদ

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় গত ১ মে হকার উচ্ছেদের পর কয়েকদিন কিছুটা ফাঁকা থাকলেও সেই দৃশ্য বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। দু’দিন পর আবারও ফুটপাতজুড়ে বসতে শুরু করেছেন হকাররা। জামাকাপড়, ব্যাগ, জুতা, খেলনা, কেউ ছোটখাটো গৃহস্থালি পণ্য নিয়ে বসেছেন আগের মতোই। তবে এবার তাদের কথাবার্তায় নতুন একটি শব্দ ঘুরেফিরে আসছে-“কার্ড”।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং পুনর্বাসনের আশ্বাসকে কেন্দ্র করে আবারও জমে উঠেছে গুলিস্তানের ফুটপাত।

মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা প্রিন্স প্রতিদিন ভোরে ঢাকায় আসেন। গুলিস্তানের ফুটপাতে হকারি করেই চলে তার সংসার ও পড়াশোনা। তিনি মুন্সীগঞ্জ কলেজেই পড়াশোনা করেন। তিনি বলেন, ১ মে উচ্ছেদের পর আর বসেননি। কিন্তু ৩ মে থেকে আবার বসতে শুরু করেছেন। কারণ হিসেবে বলেন, “সবাই বসে পড়ছে তাই আমিও বসছি।”

তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ফুটপাতে বসতে কাউকে টাকা দিতে হয় কি না। প্রিন্স বলেন, “৫ মে তারিখের পর কাউরে টাকা দেই নাই। আগে কিছু নেতা ভাড়া নিতো প্রতিদিন।” তবে কোন কোন নেতা টাকা নিতেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

তবে কথা বলে জানা যায়, দোকানটিও তার নিজের নয়। প্রিন্স বলেন, “এটা আমার মামার দোকান। মামা অসুস্থ, তাই আমি চালাইতেছি। আমি প্রতিদিন মুন্সীগঞ্জ থেইকা আসি, দোকান খুলি। রাত হলে আবার চলে যাই। সকালে আবার আসি। কলেজ থাকলে কলেজও করি, পড়াশোনা করি।”

গুলিস্তানে আরেক হকার সবুজ দাবি করেন সিটি করপোরেশন তাদের বসার ‘অনুমতি দিয়েছে’। তিনি বলেন, “আমাদের সিটি করপোরেশন পারমিশন দিছে। একটা কার্ডও দিছে। ওই কার্ডের মাধ্যমেই আমরা এখানে বসছি। এখানে ১০০ জনরে কার্ড দিছে।”

কার্ডটি দেখতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে কার্ডটা নাই। থাকলে দেখাইতে পারতাম।” পাশেই থাকা আরেক প্রবীণ হকারও একই কথা বলেন। তার ভাষ্য, “কার্ড বাসায় রেখে আসছি।”

গুলিস্তানের ফুটপাতে জুতা বিক্রি করছিলেন ফয়সাল। প্লাস্টিকের জুতা সাজিয়ে বসে আছেন রাস্তায়। ক্রেতাদের ডাক দিয়ে বলছিলেন, “২০০ টাকা, ২০০ টাকা, কম হবে না।” তবে তার দোকানে ভিড় খুব বেশি ছিল না। কেউ দেখছে, কেউ কিনছেন, আবার অনেকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন।

ফয়সাল বলেন, “এক তারিখে তো আমাদের উঠাইয়া দিছে। পরে আবার সবাই বসছে, আমরাও বসছি।” তিনি জানান, সিটি করপোরেশন তাদের আইডি কার্ড, ছবি, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা নিয়েছে।  বলেন, “সবুজ চাচারে কার্ড দিছে। আমাদেরও দিবো শুনছি। যতদিন কার্ড না দেয়, ততদিন এখানে বসতে বলছে।”

সংসারের চাপের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ফয়সাল। তিনি বলেন, “পেট চালাইতে হইবো। না চালাইলে তো থাকতে পারমু না। পরিবার তো টাকা দিয়াই চলে। অন্য কোনো ইনকাম নাই। কি করমু আপা বলেন?”

পুনর্বাসনের বিষয়ে ফয়সাল আরও বলেন, “শুনছি বাইতুল মোকাররমের ওইদিকে দাগ দিতেছে। ওই দাগ দিয়া নির্দিষ্ট জায়গা দিবো। তখন হয়তো নিয়ম কইরা বসবো। এখনো ভাড়া লাগবো কি না, সেই সিদ্ধান্ত আসে নাই।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে নিয়মিত চাঁদা দিতে হচ্ছে না। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে উঠিয়ে দেয়।  বলেন, “পুলিশ আইলে উঠে যাই, পরে আবার বসি।”

আরেক হকার ইয়াসিনও পুনর্বাসনের আশার কথা শোনালেন। তিনি বলেন, “শুনছি আমাদের নির্দিষ্ট জায়গা দিবো। বাইতুল মোকাররমে দাগ দিতেছে, সেখান থেইকা শুরু হইছে। পরে আমাদের এইদিকেও দাগ দিবো।”

হকারদের দীর্ঘদিনের দাবি প্রসঙ্গে ইয়াসিন বলেন, “আমাদের তো অনেক আবদার ছিল। সব তো আর পূরণ হইবো না। কিন্তু আমরা হালাল ব্যবসা করি। অবৈধ কিছু করি না। নিজের টাকা লগাইয়া ব্যবসা করি।”

ফুটপাতে বসার কারণ ব্যাখ্যা করে ইয়াসিন বলেন, “রাস্তায় না বসলে আমরা পারমু না। দোকান ভাড়া নিতে লাখ লাখ টাকা লাগে। আমরা দুই লাখ, দেড় লাখ টাকা ইনভেস্ট করছি। ওই টাকা দিয়া জামা-কাপড় কিনি, বিক্রি করি। পাশের মার্কেট থেইকা মাল আনি। একটা জামায় দশ-বিশ টাকা লাভ হয়, এর বেশি না।”

তিনি আরও বলেন, “এখন ১০০ জনরে কার্ড দিছে। বাকিদের নামের তালিকা নিচ্ছে। তালিকা অনুসারে ডাকতেছে। আমরা যাইতেছি।”

ঢাকা শহরে হকারের সঠিক সংখ্যা নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান নেই। বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের তথ্য বলছে, রাজধানীতে প্রায় ৪ লাখ হকার রয়েছে। আর বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার সমিতির হিসাবে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হকার কর্মরত।

বিভিন্ন সংগঠনের তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীর প্রায় ৩৮৮ কিলোমিটার ফুটপাথের মধ্যে প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার বা ৪০ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে হকারদের দখলে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতে জায়গা ধরে রাখতে অনেক হকারকে দৈনিক কিংবা মাসিক ভিত্তিতে টাকা দিতে হয়। যদিও প্রকাশ্যে কেউ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম বলতে চান না।

এ অবস্থায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সম্প্রতি হকারদের তালিকাভুক্তকরণ এবং ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছরে গুলিস্তান এলাকায় ১০০ জন হকারকে রমনা ভবন সংলগ্ন লিংক রোড এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ সিটি মিলিয়ে ইতোমধ্যে ৩০২ জন হকারকে কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিএসসিসির প্রস্তাবিত নীতিমালার আওতায় রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে হকার বসার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুলিস্তানের রমনা ভবনের লিংক রোডে দৈনন্দিন ডে-টু-ডে মার্কেট, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশে এজিবি কলোনি মাঠ এলাকায় সন্ধ্যাকালীন মার্কেট, মতিঝিল ইসলাম চেম্বারের সামনে সন্ধ্যাকালীন মার্কেট, রাজউক ভবনের পেছনে ডে-টু-ডে মার্কেট, গুলিস্তান টুইন টাওয়ার গলি, বাইতুল মোকাররম পূর্ব গেইট সংলগ্ন লিংক রোড, নিউ মার্কেট দক্ষিণ গেট সংলগ্ন এলাকা এবং শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি এলাকার কিছু অংশ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেছেন, “আমরা ১০০ হকারকে কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান করেছি। পর্যায়ক্রমে নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক সকল হকারকে দেওয়া হবে।এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।”

জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, “ট্রাফিক পুলিশ সহজেই তাদের বৈধতা ও বসার স্থান যাচাই করতে পারবে। একই সঙ্গে হকার বসার পরও ফুটপাথে পথচারীদের চলাচলের জন্য ন্যূনতম পাঁচ থেকে ছয় ফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


গুলিস্তানে ‘উচ্ছেদ’ হকাররা ফিরছেন ‘কার্ড’ হাতে

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় গত ১ মে হকার উচ্ছেদের পর কয়েকদিন কিছুটা ফাঁকা থাকলেও সেই দৃশ্য বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। দু’দিন পর আবারও ফুটপাতজুড়ে বসতে শুরু করেছেন হকাররা। জামাকাপড়, ব্যাগ, জুতা, খেলনা, কেউ ছোটখাটো গৃহস্থালি পণ্য নিয়ে বসেছেন আগের মতোই। তবে এবার তাদের কথাবার্তায় নতুন একটি শব্দ ঘুরেফিরে আসছে-“কার্ড”।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং পুনর্বাসনের আশ্বাসকে কেন্দ্র করে আবারও জমে উঠেছে গুলিস্তানের ফুটপাত।

মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা প্রিন্স প্রতিদিন ভোরে ঢাকায় আসেন। গুলিস্তানের ফুটপাতে হকারি করেই চলে তার সংসার ও পড়াশোনা। তিনি মুন্সীগঞ্জ কলেজেই পড়াশোনা করেন। তিনি বলেন, ১ মে উচ্ছেদের পর আর বসেননি। কিন্তু ৩ মে থেকে আবার বসতে শুরু করেছেন। কারণ হিসেবে বলেন, “সবাই বসে পড়ছে তাই আমিও বসছি।”

তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ফুটপাতে বসতে কাউকে টাকা দিতে হয় কি না। প্রিন্স বলেন, “৫ মে তারিখের পর কাউরে টাকা দেই নাই। আগে কিছু নেতা ভাড়া নিতো প্রতিদিন।” তবে কোন কোন নেতা টাকা নিতেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

তবে কথা বলে জানা যায়, দোকানটিও তার নিজের নয়। প্রিন্স বলেন, “এটা আমার মামার দোকান। মামা অসুস্থ, তাই আমি চালাইতেছি। আমি প্রতিদিন মুন্সীগঞ্জ থেইকা আসি, দোকান খুলি। রাত হলে আবার চলে যাই। সকালে আবার আসি। কলেজ থাকলে কলেজও করি, পড়াশোনা করি।”

গুলিস্তানে আরেক হকার সবুজ দাবি করেন সিটি করপোরেশন তাদের বসার ‘অনুমতি দিয়েছে’। তিনি বলেন, “আমাদের সিটি করপোরেশন পারমিশন দিছে। একটা কার্ডও দিছে। ওই কার্ডের মাধ্যমেই আমরা এখানে বসছি। এখানে ১০০ জনরে কার্ড দিছে।”

কার্ডটি দেখতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে কার্ডটা নাই। থাকলে দেখাইতে পারতাম।” পাশেই থাকা আরেক প্রবীণ হকারও একই কথা বলেন। তার ভাষ্য, “কার্ড বাসায় রেখে আসছি।”

গুলিস্তানের ফুটপাতে জুতা বিক্রি করছিলেন ফয়সাল। প্লাস্টিকের জুতা সাজিয়ে বসে আছেন রাস্তায়। ক্রেতাদের ডাক দিয়ে বলছিলেন, “২০০ টাকা, ২০০ টাকা, কম হবে না।” তবে তার দোকানে ভিড় খুব বেশি ছিল না। কেউ দেখছে, কেউ কিনছেন, আবার অনেকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন।

ফয়সাল বলেন, “এক তারিখে তো আমাদের উঠাইয়া দিছে। পরে আবার সবাই বসছে, আমরাও বসছি।” তিনি জানান, সিটি করপোরেশন তাদের আইডি কার্ড, ছবি, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা নিয়েছে।  বলেন, “সবুজ চাচারে কার্ড দিছে। আমাদেরও দিবো শুনছি। যতদিন কার্ড না দেয়, ততদিন এখানে বসতে বলছে।”

সংসারের চাপের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ফয়সাল। তিনি বলেন, “পেট চালাইতে হইবো। না চালাইলে তো থাকতে পারমু না। পরিবার তো টাকা দিয়াই চলে। অন্য কোনো ইনকাম নাই। কি করমু আপা বলেন?”

পুনর্বাসনের বিষয়ে ফয়সাল আরও বলেন, “শুনছি বাইতুল মোকাররমের ওইদিকে দাগ দিতেছে। ওই দাগ দিয়া নির্দিষ্ট জায়গা দিবো। তখন হয়তো নিয়ম কইরা বসবো। এখনো ভাড়া লাগবো কি না, সেই সিদ্ধান্ত আসে নাই।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে নিয়মিত চাঁদা দিতে হচ্ছে না। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে উঠিয়ে দেয়।  বলেন, “পুলিশ আইলে উঠে যাই, পরে আবার বসি।”

আরেক হকার ইয়াসিনও পুনর্বাসনের আশার কথা শোনালেন। তিনি বলেন, “শুনছি আমাদের নির্দিষ্ট জায়গা দিবো। বাইতুল মোকাররমে দাগ দিতেছে, সেখান থেইকা শুরু হইছে। পরে আমাদের এইদিকেও দাগ দিবো।”

হকারদের দীর্ঘদিনের দাবি প্রসঙ্গে ইয়াসিন বলেন, “আমাদের তো অনেক আবদার ছিল। সব তো আর পূরণ হইবো না। কিন্তু আমরা হালাল ব্যবসা করি। অবৈধ কিছু করি না। নিজের টাকা লগাইয়া ব্যবসা করি।”

ফুটপাতে বসার কারণ ব্যাখ্যা করে ইয়াসিন বলেন, “রাস্তায় না বসলে আমরা পারমু না। দোকান ভাড়া নিতে লাখ লাখ টাকা লাগে। আমরা দুই লাখ, দেড় লাখ টাকা ইনভেস্ট করছি। ওই টাকা দিয়া জামা-কাপড় কিনি, বিক্রি করি। পাশের মার্কেট থেইকা মাল আনি। একটা জামায় দশ-বিশ টাকা লাভ হয়, এর বেশি না।”

তিনি আরও বলেন, “এখন ১০০ জনরে কার্ড দিছে। বাকিদের নামের তালিকা নিচ্ছে। তালিকা অনুসারে ডাকতেছে। আমরা যাইতেছি।”

ঢাকা শহরে হকারের সঠিক সংখ্যা নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান নেই। বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের তথ্য বলছে, রাজধানীতে প্রায় ৪ লাখ হকার রয়েছে। আর বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার সমিতির হিসাবে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হকার কর্মরত।

বিভিন্ন সংগঠনের তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীর প্রায় ৩৮৮ কিলোমিটার ফুটপাথের মধ্যে প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার বা ৪০ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে হকারদের দখলে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতে জায়গা ধরে রাখতে অনেক হকারকে দৈনিক কিংবা মাসিক ভিত্তিতে টাকা দিতে হয়। যদিও প্রকাশ্যে কেউ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম বলতে চান না।

এ অবস্থায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সম্প্রতি হকারদের তালিকাভুক্তকরণ এবং ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি বছরে গুলিস্তান এলাকায় ১০০ জন হকারকে রমনা ভবন সংলগ্ন লিংক রোড এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ সিটি মিলিয়ে ইতোমধ্যে ৩০২ জন হকারকে কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিএসসিসির প্রস্তাবিত নীতিমালার আওতায় রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে হকার বসার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুলিস্তানের রমনা ভবনের লিংক রোডে দৈনন্দিন ডে-টু-ডে মার্কেট, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশে এজিবি কলোনি মাঠ এলাকায় সন্ধ্যাকালীন মার্কেট, মতিঝিল ইসলাম চেম্বারের সামনে সন্ধ্যাকালীন মার্কেট, রাজউক ভবনের পেছনে ডে-টু-ডে মার্কেট, গুলিস্তান টুইন টাওয়ার গলি, বাইতুল মোকাররম পূর্ব গেইট সংলগ্ন লিংক রোড, নিউ মার্কেট দক্ষিণ গেট সংলগ্ন এলাকা এবং শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি এলাকার কিছু অংশ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেছেন, “আমরা ১০০ হকারকে কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান করেছি। পর্যায়ক্রমে নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক সকল হকারকে দেওয়া হবে।এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।”

জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, “ট্রাফিক পুলিশ সহজেই তাদের বৈধতা ও বসার স্থান যাচাই করতে পারবে। একই সঙ্গে হকার বসার পরও ফুটপাথে পথচারীদের চলাচলের জন্য ন্যূনতম পাঁচ থেকে ছয় ফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত