ঘোড়ার কামড়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এক নারী। তবে আক্রমণের আধা ঘণ্টা পরই ঘোড়াটির আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। আহত নারীর শরীরে প্রায় শতাধিক কামড়ের চিহ্ন নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।
মানুষকে কুকুরে কামড়ানোর বিষয়টা স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হলেও ঘোড়ার কামড়ে কোনো ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনা অনেকটা বিরল। তাছাড়া মানুষকে কামড়ানোর পর ঘোড়ার মারা যাওয়া নিয়ে রহস্যও সৃষ্টি হয়েছে।
তবে প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ঘোড়া ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কিংবা কোনোভাবে আক্রমণের শিকার হলে এমন আচরণ করে থাকে। তবে মানুষকে কামড়ানোর পর ঘোড়া মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক নয়। চিকিৎসরা আক্রমণের শিকার রোগীর শরীরে সংক্রামক না ছড়াতে সঠিক সময়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর মুগদা গ্রিন মডেল টাউন এলাকায় মা- মেয়েকে আক্রমণের পর ঘোড়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জট এখনও খোলেনি।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৬টায় জান্নাত বেগম (৩৫) নামের ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে কলেজের দিকে যাচ্ছিলেন।মুগদা মিনি কক্সবাজার নামক স্থানের কাছাকাছি পৌঁছলে প্রথমে কলেজ পড়ুয়া মেয়েটিকে আক্রমণ করে ঘোড়া। মেয়েকে বাঁচাতে আত্মরক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়ান মা জান্নাত বেগম।
রাগান্বিত ঘোড়ার আক্রমণের দৃশ্য দেখে মাকে রক্ষা করতে মেয়েটি হাতে থাকা বইয়ের ব্যাগ ও ঢিল ছুড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।তবে এর মধ্যেই ঘোড়ার শতাধিক কামড়ে জান্নাত বেগম রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।গুরুতর আহত হওয়ায় সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে নেওয়া হয় মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে।
সেখানে চিকিৎসাধীন জান্নাত বেগমের শরীরে প্রায় শতাধিক কামড়ের স্থানে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার পর পুনরায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন।
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তির একদিন পর ৭ মে পাশের রোগীদের কথা বিবেচনা করে জান্নাত বেগমকে আবারও মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া রোকসানা জানান, প্রথমে আমাকে আক্রমণ করতে তেড়ে আসে। আমাকে রক্ষা করতে মা সামনে দাঁড়ালে ঘোড়াটি তাকে আক্রমণ করে।
রোকসানা বলেন, “আক্রমণের সময় ঘোড়াটি যুদ্ধের দৃশ্যের মতো দুই পা উপরে তুলে বার বার চিৎকার করে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই আক্রমণের দৃশ্য দেখে ডাক-চিৎকার দিলেও আত্মরক্ষায় কেউ ছুটে আসেনি। ঢিল ছুঁড়ে স্কুল ব্যাগ দিয়ে আঘাত করেও ঘোড়ার আক্রমণ থেকে শেষ রক্ষা হয়নি। ”
আহত জান্নাত বেগম বলেন, “ঘোড়াটি প্রথমে আমার মেয়েকে আক্রমণ করতে আসে। মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে আমি আহত হয়েছি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় শতাধিক কামড় দিয়েছে। মাথায় হিজাব, বোরকা ও কাপড় কামড়ে ছিঁড়ে ফেলে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে।পুরো শরীরে ব্যাথা।”
বাংলাদেশে ঘোড়া-সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করা ও রাইডিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বোরাক হর্স রিডিং স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাদাত উজ্জ্বল বলেন, “সাধারণ ঘোড়া মানুষকে আক্রমণ করে না। মুগদা গ্রিন মডেল টাউন এলাকার ঘটনার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। ঘোড়ার ব্রেইন লস অথবা বডি কোঅর্ডিনেশন মিস (অ্যাটাক্সিয়া) ছিল। সে কারণে যাকে সামনে পেয়েছে, তাকে আক্রমণ করেছে।”
সাদাত উজ্জ্বল আরও জানান, কিছুদিন আগে এ রকম একটি ঘটনা ঘটে ফরিদপুরের বোয়ালমারি এলাকায়। তবে র্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ঘোড়ার এমন আচরণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন কারণে ঘোড়া এমন আচরণ করতে পারে। তবে নমুনা পরীক্ষা ছাড়া সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম ‘সংবাদ’ কে বলেন, ঘোড়ার আক্রমণে রোগী ভর্তি হওয়ার পর তার জন্য আঘাতের স্থানে এবং শরীরে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে এখানে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ তাই সংক্রামক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
ঘোড়ার কামড়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এক নারী। তবে আক্রমণের আধা ঘণ্টা পরই ঘোড়াটির আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। আহত নারীর শরীরে প্রায় শতাধিক কামড়ের চিহ্ন নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।
মানুষকে কুকুরে কামড়ানোর বিষয়টা স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হলেও ঘোড়ার কামড়ে কোনো ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনা অনেকটা বিরল। তাছাড়া মানুষকে কামড়ানোর পর ঘোড়ার মারা যাওয়া নিয়ে রহস্যও সৃষ্টি হয়েছে।
তবে প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ঘোড়া ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কিংবা কোনোভাবে আক্রমণের শিকার হলে এমন আচরণ করে থাকে। তবে মানুষকে কামড়ানোর পর ঘোড়া মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক নয়। চিকিৎসরা আক্রমণের শিকার রোগীর শরীরে সংক্রামক না ছড়াতে সঠিক সময়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর মুগদা গ্রিন মডেল টাউন এলাকায় মা- মেয়েকে আক্রমণের পর ঘোড়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জট এখনও খোলেনি।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৬টায় জান্নাত বেগম (৩৫) নামের ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে কলেজের দিকে যাচ্ছিলেন।মুগদা মিনি কক্সবাজার নামক স্থানের কাছাকাছি পৌঁছলে প্রথমে কলেজ পড়ুয়া মেয়েটিকে আক্রমণ করে ঘোড়া। মেয়েকে বাঁচাতে আত্মরক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়ান মা জান্নাত বেগম।
রাগান্বিত ঘোড়ার আক্রমণের দৃশ্য দেখে মাকে রক্ষা করতে মেয়েটি হাতে থাকা বইয়ের ব্যাগ ও ঢিল ছুড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।তবে এর মধ্যেই ঘোড়ার শতাধিক কামড়ে জান্নাত বেগম রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।গুরুতর আহত হওয়ায় সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে নেওয়া হয় মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে।
সেখানে চিকিৎসাধীন জান্নাত বেগমের শরীরে প্রায় শতাধিক কামড়ের স্থানে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার পর পুনরায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন।
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তির একদিন পর ৭ মে পাশের রোগীদের কথা বিবেচনা করে জান্নাত বেগমকে আবারও মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া রোকসানা জানান, প্রথমে আমাকে আক্রমণ করতে তেড়ে আসে। আমাকে রক্ষা করতে মা সামনে দাঁড়ালে ঘোড়াটি তাকে আক্রমণ করে।
রোকসানা বলেন, “আক্রমণের সময় ঘোড়াটি যুদ্ধের দৃশ্যের মতো দুই পা উপরে তুলে বার বার চিৎকার করে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই আক্রমণের দৃশ্য দেখে ডাক-চিৎকার দিলেও আত্মরক্ষায় কেউ ছুটে আসেনি। ঢিল ছুঁড়ে স্কুল ব্যাগ দিয়ে আঘাত করেও ঘোড়ার আক্রমণ থেকে শেষ রক্ষা হয়নি। ”
আহত জান্নাত বেগম বলেন, “ঘোড়াটি প্রথমে আমার মেয়েকে আক্রমণ করতে আসে। মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে আমি আহত হয়েছি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় শতাধিক কামড় দিয়েছে। মাথায় হিজাব, বোরকা ও কাপড় কামড়ে ছিঁড়ে ফেলে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে।পুরো শরীরে ব্যাথা।”
বাংলাদেশে ঘোড়া-সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করা ও রাইডিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বোরাক হর্স রিডিং স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাদাত উজ্জ্বল বলেন, “সাধারণ ঘোড়া মানুষকে আক্রমণ করে না। মুগদা গ্রিন মডেল টাউন এলাকার ঘটনার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। ঘোড়ার ব্রেইন লস অথবা বডি কোঅর্ডিনেশন মিস (অ্যাটাক্সিয়া) ছিল। সে কারণে যাকে সামনে পেয়েছে, তাকে আক্রমণ করেছে।”
সাদাত উজ্জ্বল আরও জানান, কিছুদিন আগে এ রকম একটি ঘটনা ঘটে ফরিদপুরের বোয়ালমারি এলাকায়। তবে র্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ঘোড়ার এমন আচরণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন কারণে ঘোড়া এমন আচরণ করতে পারে। তবে নমুনা পরীক্ষা ছাড়া সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম ‘সংবাদ’ কে বলেন, ঘোড়ার আক্রমণে রোগী ভর্তি হওয়ার পর তার জন্য আঘাতের স্থানে এবং শরীরে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে এখানে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ তাই সংক্রামক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন