বাইরে ময়লার স্তূপ আর ঘিঞ্জি পরিবেশ। কিন্তু ভেতরে ঢুকলে চেনা দায় যে এটি বস্তির কোনো ঘর। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) এসব বিলাসবহুল কক্ষে ভিআইপি মাদকসেবীদের জন্য রয়েছে সব ধরনের আয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে তৈরি করা হয়েছে একাধিক গোপন সুড়ঙ্গপথ। গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বিশেষ অভিযানে টঙ্গীর বস্তিগুলোতে এমন চাঞ্চল্যকর মাদক আড্ডার সন্ধান পাওয়া গেছে।
জিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ৫৯ দিনের বিশেষ অভিযানে ৮৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯ জন মাদক কারবারি, ৬৪৯ জন মাদকসেবী, ১১৩ জন ছিনতাইকারী ও ১৪ জন চোর রয়েছে। অভিযানে ৫৫৯ গ্রাম হেরোইন, ২,১৫৫ পিস ইয়াবা, প্রায় ৬ কেজি গাঁজা, ২১০ পিস প্যাথেডিন, ৪৫ বোতল ফেনসিডিল ও ১০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টঙ্গীর ১৯টি বস্তি এখন দেশের অন্যতম বড় মাদকের হাট। এসব বস্তিতে প্রায় ৫০০ আন্তজেলা মাদক কারবারির একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। কেরানীরটেক, এরশাদনগর, মাজার বস্তি ও ব্যাংক মাঠ বস্তিসহ অন্তত ১৯টি এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাদকসেবীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ও পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বস্তির ঘরগুলোতে বানানো হয়েছে একাধিক সুড়ঙ্গপথ।
সামনে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গীর ১৫টি ওয়ার্ডের অন্তত ৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী সরাসরি মাদক কারবারিদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিচ্ছেন। সম্প্রতি দুই বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এসব প্রার্থীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। চিহ্নিত এসব পৃষ্ঠপোষকের পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো টঙ্গী শহর।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের সমূলে উচ্ছেদ করতে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। ধারাবাহিক অভিযানে অনেক মাদকসেবী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বেশ কিছু বিক্রয় কেন্দ্র সিলগালা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
বাইরে ময়লার স্তূপ আর ঘিঞ্জি পরিবেশ। কিন্তু ভেতরে ঢুকলে চেনা দায় যে এটি বস্তির কোনো ঘর। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) এসব বিলাসবহুল কক্ষে ভিআইপি মাদকসেবীদের জন্য রয়েছে সব ধরনের আয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে তৈরি করা হয়েছে একাধিক গোপন সুড়ঙ্গপথ। গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বিশেষ অভিযানে টঙ্গীর বস্তিগুলোতে এমন চাঞ্চল্যকর মাদক আড্ডার সন্ধান পাওয়া গেছে।
জিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ৫৯ দিনের বিশেষ অভিযানে ৮৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯ জন মাদক কারবারি, ৬৪৯ জন মাদকসেবী, ১১৩ জন ছিনতাইকারী ও ১৪ জন চোর রয়েছে। অভিযানে ৫৫৯ গ্রাম হেরোইন, ২,১৫৫ পিস ইয়াবা, প্রায় ৬ কেজি গাঁজা, ২১০ পিস প্যাথেডিন, ৪৫ বোতল ফেনসিডিল ও ১০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টঙ্গীর ১৯টি বস্তি এখন দেশের অন্যতম বড় মাদকের হাট। এসব বস্তিতে প্রায় ৫০০ আন্তজেলা মাদক কারবারির একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। কেরানীরটেক, এরশাদনগর, মাজার বস্তি ও ব্যাংক মাঠ বস্তিসহ অন্তত ১৯টি এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাদকসেবীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ও পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বস্তির ঘরগুলোতে বানানো হয়েছে একাধিক সুড়ঙ্গপথ।
সামনে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গীর ১৫টি ওয়ার্ডের অন্তত ৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী সরাসরি মাদক কারবারিদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিচ্ছেন। সম্প্রতি দুই বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এসব প্রার্থীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। চিহ্নিত এসব পৃষ্ঠপোষকের পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো টঙ্গী শহর।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের সমূলে উচ্ছেদ করতে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। ধারাবাহিক অভিযানে অনেক মাদকসেবী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বেশ কিছু বিক্রয় কেন্দ্র সিলগালা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

আপনার মতামত লিখুন