গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নিহতদের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। আজ রোববার (১০ মে) সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ফুরকান মিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে সকাল ছয়টার দিকে মরদেহবাহী গাড়ি গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নিহতদের শেষবার দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন। নিহতরা হলেন শারমিন বেগম (৩২), তার ভাই রসুল মিয়া (২২) এবং শারমিনের তিন মেয়ে মীম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)। তাদের সবার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শারমিনের স্বামী ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, গতকাল শনিবার সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকান্দি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে তাদের হত্যা করা হয়েছে। পরদিন ভোরে ফুরকান মিয়া নিজেই স্বজনদের ফোন করে হত্যার কথা জানালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
নিহত শারমিনের মামা আরজ শেখ বলেন, “খবর পেয়ে আমরা গাজীপুরে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি নির্মমভাবে সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। শারমিনকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে হত্যা করা হয়েছিল। এই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা ঘাতক ফুরকানের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
স্বজনদের ধারণা, খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শারমিনের এক দুলাভাই জানান, রসুলের মরদেহ ছিল খাটের ওপর এবং শিশুদের মরদেহ পড়ে ছিল মেঝেতে। ওই রাতে বাসায় মাংস ও পায়েস রান্না করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা সাহাদত মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ফুরকান মিয়াকে প্রধান এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মামলার প্রধান আসামি ফুরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন