সংবাদ

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: ১৬ শতাংশের কম ভোটে শেষ হলো প্রথম দিনের ভোট গ্রহণ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১১:১৭ পিএম

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: ১৬ শতাংশের কম ভোটে শেষ হলো প্রথম দিনের ভোট গ্রহণ

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের দুইদিনব্যাপী নির্বাচনের প্রথম দিনে ভোট ১৬ শতাংশের কম পড়েছে। প্রথম দিনে ১৭৭১ জন আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। যা মোট ভোটের ১৫.৯৬ শতাংশ। অন্যদিকে ‘শান্তিপূর্ন ও সুষ্ঠভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিএনপিপন্থি নীল প্যানেল দাবি করলেও ‘ডিজিটাল জালিয়াতির’ অভিযোগ তুলেছে এনসিপি সমর্থিত প্যানেল। পাশাপাশি নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ উল্লেখ করে ভোট বর্জন করেছেন মনোনয়ন বাতিল হওয়া আইনজীবী নেতা ও তাদের অনুসারীরা।

বুধবার (১৩ মে) সমিতির অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টার দিকে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫ টায় শেষ হয়। দুদিনব্যাপী এ নির্বাচন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪০ জন। এবার নির্বাচনে ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী তাদের ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্বাচন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রতি বছর হওয়ার কথা থাকলেও জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার প্রায় দুই বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনে মাঠে রয়েছে তিনটি প্যানেল। সেগুলো হলো: বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী নীল প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল।

এর আগে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। প্রার্থীতা বাতিলের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে বর্তমান বার এসোসিয়েশন। এই মনোনয়ন বাতিল প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন সাব-কমিটি, বারের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি এবং বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রার্থীরা বলছেন, কোনো নোটিশ বা কারণ দর্শানো ছাড়াই ‘ওপরের নির্দেশে’ অবৈধভাবে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন সাব-কমিটি বলছে, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা তাদের কাজ নয়, এটি সম্পাদকের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব।

তবে বারের অ্যাডহক কমিটি ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের দাবি, ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও সাধারণ আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) সিদ্ধান্ত এবং সরকারি গেজেট অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া সম্পাদক পদপ্রার্থী মোতাহার হোসেন সাজু অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের নোটিশ বা প্রকাশ্যে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনের জন্য অযৌক্তিক, অবৈধ ও কলঙ্কজনক।

বিএনপি সমর্থিত প্যানেল সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, “শান্তিপূর্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রথম দিনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণ ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিলো।” আইনজীবীদের একাংশের ভোট বর্জনের আহ্বানে ভোটে কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সরাসরি এর প্রভাব নাকচ করে দেন।

তবে এনসিপি সমর্থিত প্যানেলের সহ-সম্পাদক প্রার্থী মোস্তফা আসগর শরাফী নির্বাচনে ‘ডিজিটাল কারচুপির’ অভিযোগ তুলে বলেন, “দেখতে নির্বাচন সুষ্ঠ হলেও, এখানে ডিজিটাল জালিয়াতির কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। কি ধরনের ‘ডিজিটাল জালিয়াতি’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন ভোটারের বিপরীতে একাধিক ব্যালট পেপার ইস্যু হয়েছে। ভোটার তার যে ডিজিটাল রেকর্ড দিয়ে স্লিপ নিয়েছে, তার সা‌থে ভোটার লিস্টের ছবির সাথে মিল নাই এবং ডিসপ্লেতে প্রদর্শিত ছবির সাথে মিল না থাকারও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগ মৌখিকভাবে তারা ইলেকশন কমিশনকে জানিয়েছেন বলে জানান। তবে ইলেকশন কমিশন তার এ অভিযোগ আমলে না নিয়ে রিজেক্ট (বাতিল) করে দিয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য বারের তুলনায় ভোটার উপস্থিতি এবার কম ছিল বলেও এই প্রতিবেদককে জানান আইনজীবী মোস্তফা আসগর।

নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনজীবী উপমা বিশ্বাস বলেন, “আমি মনে করি আইনজীবীরা এই নির্বাচন কার্যত বর্জন করেছেন। ১৬ শতাংশেরও কম ভোট পড়াই সেটির প্রমাণ।”

ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “এছাড়া, এই ১৬ শতাংশ ভোটের মধ্যেও কতটুকু প্রকৃত ভোট পড়েছে, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ। কারণ ভোটকেন্দ্রগুলো প্রায় ফাঁকা ছিল, যা সবাই নিজ চোখে দেখেছে।”

নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যখন নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষ সেই প্রক্রিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।”

আরেক আইনজীবী আসলাম মিঞা বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট একটা জাতির বিবেক এবং এদেশের ১৮ কোটি মানুষ এই সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে থাকে। এখানে যারা প্র্যাকটিস করেন তারা বিবেকবান এবং তারা বিবেকের তাড়নায় আজকে সুপ্রিম কোর্টের ভোট দিতে যাননি এবং তারা এই ভোটকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এরকম কোনো নজির নেই যে, এক পক্ষ ইলেকশন করবে আর আরেক পক্ষকে ইলেকশন করতে দিবে না। এই প্রহসনের নির্বাচনকে বাতিল করে নতুন একটা নির্বাচন দিয়ে, সবার পার্টিসিপেশনে (অংশগ্রহণে) একটা ইলেকশন দিয়ে, আইনজীবীদের প্লাস (পাশাপাশি) ১৮ কোটি মানুষের যে আশা-ভরসার স্থল, তাকে একটা সুন্দর রূপ দিবে, এটাই আশা করি।”

বিএনপি সমর্থিত প্যানেল

বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দুটি সহ-সভাপতি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, দুটি সহ-সম্পাদক পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাতটি সদস্য পদে এ কে এম আজাদ হোসেন, এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া, রিপন কুমার বড়ুয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।

জামায়াত সমর্থিত প্যানেল

জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলে সভাপতি পদে আবদুল বাতেন, দুটি সহ-সভাপতি পদে আব্দুল হক ও মইনুদ্দিন ফারুকী, সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার, কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম জাহাঙ্গীর আলম, দুটি সহ-সম্পাদক পদে মো. তারিকুল ইসলাম ও যোবায়ের আহমদ ভুইয়া প্রার্থী হয়েছেন। সাতটি সদস্য পদে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, ফারজানা খানম, ইসরাত জাহান অনি, মো. ফয়েজউল্লাহ, মো. জুবায়ের টিটু, মাহমুদুল হাসান ও মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন লিংকন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এনসিপি সমর্থিত প্যানেল

এনসিপি সমর্থিতরা আংশিক প্যানেল দিয়েছেন। এর মধ্যে সম্পাদক পদে আজমল হোসেন বাচ্চু, সহ-সম্পাদক পদে মোস্তফা আসগর শরীফী এবং সদস্য পদে আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মো. বনি আমিন ও মাজহারুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন।

প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ, সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন ভুইয়া, মো. আবু ইয়াহিয়া দুলাল, মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান, সদস্য পদে মো. জোবায়ের তায়েব ও তপন কুমার দাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থকরা না থাকায় মূলত লড়াই হবে সরকার সমর্থক ও বিরোধী দলের সমর্থকদের মধ্যে।

এর আগে জুলাই ২০২৪ সালের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি হন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হক। এছাড়া আরও পাঁচটি পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও সাতটি পদে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: ১৬ শতাংশের কম ভোটে শেষ হলো প্রথম দিনের ভোট গ্রহণ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের দুইদিনব্যাপী নির্বাচনের প্রথম দিনে ভোট ১৬ শতাংশের কম পড়েছে। প্রথম দিনে ১৭৭১ জন আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। যা মোট ভোটের ১৫.৯৬ শতাংশ। অন্যদিকে ‘শান্তিপূর্ন ও সুষ্ঠভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিএনপিপন্থি নীল প্যানেল দাবি করলেও ‘ডিজিটাল জালিয়াতির’ অভিযোগ তুলেছে এনসিপি সমর্থিত প্যানেল। পাশাপাশি নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ উল্লেখ করে ভোট বর্জন করেছেন মনোনয়ন বাতিল হওয়া আইনজীবী নেতা ও তাদের অনুসারীরা।

বুধবার (১৩ মে) সমিতির অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টার দিকে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫ টায় শেষ হয়। দুদিনব্যাপী এ নির্বাচন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪০ জন। এবার নির্বাচনে ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী তাদের ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্বাচন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রতি বছর হওয়ার কথা থাকলেও জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার প্রায় দুই বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনে মাঠে রয়েছে তিনটি প্যানেল। সেগুলো হলো: বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী নীল প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল।

এর আগে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। প্রার্থীতা বাতিলের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে বর্তমান বার এসোসিয়েশন। এই মনোনয়ন বাতিল প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন সাব-কমিটি, বারের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি এবং বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রার্থীরা বলছেন, কোনো নোটিশ বা কারণ দর্শানো ছাড়াই ‘ওপরের নির্দেশে’ অবৈধভাবে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন সাব-কমিটি বলছে, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা তাদের কাজ নয়, এটি সম্পাদকের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব।

তবে বারের অ্যাডহক কমিটি ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের দাবি, ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও সাধারণ আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) সিদ্ধান্ত এবং সরকারি গেজেট অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া সম্পাদক পদপ্রার্থী মোতাহার হোসেন সাজু অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের নোটিশ বা প্রকাশ্যে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনের জন্য অযৌক্তিক, অবৈধ ও কলঙ্কজনক।

বিএনপি সমর্থিত প্যানেল সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, “শান্তিপূর্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রথম দিনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণ ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিলো।” আইনজীবীদের একাংশের ভোট বর্জনের আহ্বানে ভোটে কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সরাসরি এর প্রভাব নাকচ করে দেন।

তবে এনসিপি সমর্থিত প্যানেলের সহ-সম্পাদক প্রার্থী মোস্তফা আসগর শরাফী নির্বাচনে ‘ডিজিটাল কারচুপির’ অভিযোগ তুলে বলেন, “দেখতে নির্বাচন সুষ্ঠ হলেও, এখানে ডিজিটাল জালিয়াতির কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। কি ধরনের ‘ডিজিটাল জালিয়াতি’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন ভোটারের বিপরীতে একাধিক ব্যালট পেপার ইস্যু হয়েছে। ভোটার তার যে ডিজিটাল রেকর্ড দিয়ে স্লিপ নিয়েছে, তার সা‌থে ভোটার লিস্টের ছবির সাথে মিল নাই এবং ডিসপ্লেতে প্রদর্শিত ছবির সাথে মিল না থাকারও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগ মৌখিকভাবে তারা ইলেকশন কমিশনকে জানিয়েছেন বলে জানান। তবে ইলেকশন কমিশন তার এ অভিযোগ আমলে না নিয়ে রিজেক্ট (বাতিল) করে দিয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য বারের তুলনায় ভোটার উপস্থিতি এবার কম ছিল বলেও এই প্রতিবেদককে জানান আইনজীবী মোস্তফা আসগর।

নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনজীবী উপমা বিশ্বাস বলেন, “আমি মনে করি আইনজীবীরা এই নির্বাচন কার্যত বর্জন করেছেন। ১৬ শতাংশেরও কম ভোট পড়াই সেটির প্রমাণ।”

ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “এছাড়া, এই ১৬ শতাংশ ভোটের মধ্যেও কতটুকু প্রকৃত ভোট পড়েছে, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ। কারণ ভোটকেন্দ্রগুলো প্রায় ফাঁকা ছিল, যা সবাই নিজ চোখে দেখেছে।”

নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যখন নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষ সেই প্রক্রিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।”

আরেক আইনজীবী আসলাম মিঞা বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট একটা জাতির বিবেক এবং এদেশের ১৮ কোটি মানুষ এই সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে থাকে। এখানে যারা প্র্যাকটিস করেন তারা বিবেকবান এবং তারা বিবেকের তাড়নায় আজকে সুপ্রিম কোর্টের ভোট দিতে যাননি এবং তারা এই ভোটকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এরকম কোনো নজির নেই যে, এক পক্ষ ইলেকশন করবে আর আরেক পক্ষকে ইলেকশন করতে দিবে না। এই প্রহসনের নির্বাচনকে বাতিল করে নতুন একটা নির্বাচন দিয়ে, সবার পার্টিসিপেশনে (অংশগ্রহণে) একটা ইলেকশন দিয়ে, আইনজীবীদের প্লাস (পাশাপাশি) ১৮ কোটি মানুষের যে আশা-ভরসার স্থল, তাকে একটা সুন্দর রূপ দিবে, এটাই আশা করি।”

বিএনপি সমর্থিত প্যানেল

বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দুটি সহ-সভাপতি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, দুটি সহ-সম্পাদক পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাতটি সদস্য পদে এ কে এম আজাদ হোসেন, এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া, রিপন কুমার বড়ুয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।

জামায়াত সমর্থিত প্যানেল

জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলে সভাপতি পদে আবদুল বাতেন, দুটি সহ-সভাপতি পদে আব্দুল হক ও মইনুদ্দিন ফারুকী, সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার, কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম জাহাঙ্গীর আলম, দুটি সহ-সম্পাদক পদে মো. তারিকুল ইসলাম ও যোবায়ের আহমদ ভুইয়া প্রার্থী হয়েছেন। সাতটি সদস্য পদে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, ফারজানা খানম, ইসরাত জাহান অনি, মো. ফয়েজউল্লাহ, মো. জুবায়ের টিটু, মাহমুদুল হাসান ও মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন লিংকন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এনসিপি সমর্থিত প্যানেল

এনসিপি সমর্থিতরা আংশিক প্যানেল দিয়েছেন। এর মধ্যে সম্পাদক পদে আজমল হোসেন বাচ্চু, সহ-সম্পাদক পদে মোস্তফা আসগর শরীফী এবং সদস্য পদে আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মো. বনি আমিন ও মাজহারুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন।

প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ, সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন ভুইয়া, মো. আবু ইয়াহিয়া দুলাল, মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান, সদস্য পদে মো. জোবায়ের তায়েব ও তপন কুমার দাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থকরা না থাকায় মূলত লড়াই হবে সরকার সমর্থক ও বিরোধী দলের সমর্থকদের মধ্যে।

এর আগে জুলাই ২০২৪ সালের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি হন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হক। এছাড়া আরও পাঁচটি পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও সাতটি পদে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত