সংবাদ

৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার: দু’মাসে নতুন ফল প্রকাশের নির্দেশ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার: দু’মাসে নতুন ফল প্রকাশের নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘অস্বচ্ছ’ আখ্যা দিয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নতুন মেধা তালিকা প্রকাশ করে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত আইনের ‘ব্যত্যয়’ ঘটানো হয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

৪৬৫ জন চাকরিপ্রার্থীর করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। অন্যদিকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান।

রায়ের পর রিটকারীদের আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব সাংবাদিকদের বলেন, "পুরো বিষয়টি আজকে আদালতের সামনে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ৪৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডার প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ ছিল। আদালত স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন, প্রচলিত আইনকে পাশ কাটিয়ে এবং ব্যত্যয় ঘটিয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।"

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোথায় আইনের ব্যত্যয় হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "আমাদের নিয়ম রয়েছে, ক্যাডার পোস্টে নিয়োগ দেওয়ার পর উত্তীর্ণ বাকি প্রার্থীদের নিয়ে ২০১০ এবং ২০২৩ সালের নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী একটি মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে প্রার্থীদের পছন্দক্রম আহ্বান করে পিএসসি তাদের সুপারিশ করবে। কিন্তু এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।"

আইনের সুস্পষ্ট বিধান মানা হয়নি এবং কার্যক্রম অস্বচ্ছভাবে হয়েছে উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, "এ কারণেই আদালত আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা বা ফল প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।"

রিটকারী ৪৬৫ জনের বিষয়ে তিনি বলেন, "এই রিটকারীদের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। তবে আদালত বলেছেন, নতুন করে মেধা তালিকা তৈরির সময় অধিযাচিত পদের বিধিবিধান অনুযায়ী এই প্রার্থীরা যদি যোগ্য হন, তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে পিএসসি তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।"

ইতোমধ্যে ৪৩তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া ৬৪২ জনের ভাগ্যে কী ঘটবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, "যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের নিয়ে আমরা কিছু বলিনি। তারা নিয়ম অনুযায়ী পেয়ে থাকলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই যেহেতু স্বচ্ছ হয়নি, তাই নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া করতে গিয়ে তাদের নিয়োগ যদি বাতিল হয়ে যায়, সেই সম্ভাবনাও রয়ে গেছে।"

অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রমাণিত হলে সরকার এবং পিএসসি চাইলে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিএসসির মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে এমন অস্বচ্ছতা মেধাবীদের নিরুৎসাহিত করবে উল্লেখ করে রিটকারীদের এই আইনজীবী বলেন, "সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী পিএসসিকে বিশ্বাস করে পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটি যদি অন্যায়ভাবে নিয়োগ দেয়, তবে মেধাবীরা আর সরকারি চাকরিতে আবেদনই করবে না।  আদালতও তার রায়ে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এই নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে হয়নি।"

পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এতে ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। ওই পরীক্ষায় প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার প্রার্থী অংশ নেন।

৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার মূল বিজ্ঞপ্তিটি ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন।  পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারি এর ফল প্রকাশিত হয়। । একই বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৩ সালের ২০ আগস্ট লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮০০ জনকে মৌখিক পরীক্ষায়  ডাকা হয়। ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে অক্টোবরে শেষ হয়। রিটকারী এই ৪৬৫ জনও সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত ভাইভায় অংশ নিয়েছিলেন। সবশেষে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছিল পিএসসি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার: দু’মাসে নতুন ফল প্রকাশের নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘অস্বচ্ছ’ আখ্যা দিয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নতুন মেধা তালিকা প্রকাশ করে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত আইনের ‘ব্যত্যয়’ ঘটানো হয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

৪৬৫ জন চাকরিপ্রার্থীর করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। অন্যদিকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান।

রায়ের পর রিটকারীদের আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব সাংবাদিকদের বলেন, "পুরো বিষয়টি আজকে আদালতের সামনে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ৪৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডার প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ ছিল। আদালত স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন, প্রচলিত আইনকে পাশ কাটিয়ে এবং ব্যত্যয় ঘটিয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।"

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোথায় আইনের ব্যত্যয় হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "আমাদের নিয়ম রয়েছে, ক্যাডার পোস্টে নিয়োগ দেওয়ার পর উত্তীর্ণ বাকি প্রার্থীদের নিয়ে ২০১০ এবং ২০২৩ সালের নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী একটি মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে প্রার্থীদের পছন্দক্রম আহ্বান করে পিএসসি তাদের সুপারিশ করবে। কিন্তু এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।"

আইনের সুস্পষ্ট বিধান মানা হয়নি এবং কার্যক্রম অস্বচ্ছভাবে হয়েছে উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, "এ কারণেই আদালত আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা বা ফল প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।"

রিটকারী ৪৬৫ জনের বিষয়ে তিনি বলেন, "এই রিটকারীদের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। তবে আদালত বলেছেন, নতুন করে মেধা তালিকা তৈরির সময় অধিযাচিত পদের বিধিবিধান অনুযায়ী এই প্রার্থীরা যদি যোগ্য হন, তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে পিএসসি তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।"

ইতোমধ্যে ৪৩তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া ৬৪২ জনের ভাগ্যে কী ঘটবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, "যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের নিয়ে আমরা কিছু বলিনি। তারা নিয়ম অনুযায়ী পেয়ে থাকলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই যেহেতু স্বচ্ছ হয়নি, তাই নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া করতে গিয়ে তাদের নিয়োগ যদি বাতিল হয়ে যায়, সেই সম্ভাবনাও রয়ে গেছে।"

অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রমাণিত হলে সরকার এবং পিএসসি চাইলে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিএসসির মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে এমন অস্বচ্ছতা মেধাবীদের নিরুৎসাহিত করবে উল্লেখ করে রিটকারীদের এই আইনজীবী বলেন, "সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী পিএসসিকে বিশ্বাস করে পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটি যদি অন্যায়ভাবে নিয়োগ দেয়, তবে মেধাবীরা আর সরকারি চাকরিতে আবেদনই করবে না।  আদালতও তার রায়ে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এই নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে হয়নি।"

পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এতে ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। ওই পরীক্ষায় প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার প্রার্থী অংশ নেন।

৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার মূল বিজ্ঞপ্তিটি ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন।  পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারি এর ফল প্রকাশিত হয়। । একই বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৩ সালের ২০ আগস্ট লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮০০ জনকে মৌখিক পরীক্ষায়  ডাকা হয়। ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে অক্টোবরে শেষ হয়। রিটকারী এই ৪৬৫ জনও সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত ভাইভায় অংশ নিয়েছিলেন। সবশেষে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছিল পিএসসি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত