সংবাদ

হামে শিশুমৃত্যু ৪৫০ ছাড়াল, এক দিনে ঝরল ১২ প্রাণ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৯:০১ এএম

হামে শিশুমৃত্যু ৪৫০ ছাড়াল, এক দিনে ঝরল ১২ প্রাণ

​দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল এবং বাকি আটজনের মধ্যে ছিল হামের তীব্র উপসর্গ। এ নিয়ে দেশে হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে।

​গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এক হাজার ১৯২ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন, যাদের মধ্যে এক হাজার ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪২২ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে, আর সবচেয়ে কম সাতজন ভর্তি হয়েছে রংপুর বিভাগে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ জনে। এর মধ্যে সাত হাজার ৪২১ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত আড়াই দশকে দেশে হাম ও এর উপসর্গের সংক্রমণ এর অর্ধেকও কখনো হয়নি। ​এর আগে দেশে হামের সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে (২৫ হাজার ৯৩৪ জন)। এরপর থেকে সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে কমছিল। এমনকি ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) থেকে পাওয়া ৬০টি মৃত শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে অত্যন্ত কম বয়সী শিশু, এমনকি নবজাতকেরও মৃত্যু হচ্ছে। ​মৃত শিশুদের মধ্যে ২৯টিরই বয়স ছিল ৩ থেকে ৮ মাস, অর্থাৎ তারা এখনো হামের প্রথম টিকা পাওয়ার বয়সেই পৌঁছায়নি। এছাড়া ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী ২১ জন, ১৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ৯ জন এবং ৯ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩১ জন ছেলে এবং ২৯ জন মেয়ে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হাসপাতালে আসার পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টা শিশুদের জন্য সবচেয়ে সংকটময় সময়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট শিশুর ৪০ শতাংশই মারা যাচ্ছে ভর্তির প্রথম দুই দিনের মধ্যে। এর মধ্যে ভর্তির দিনই ৫ জন, এক দিনের মাথায় ৯ জন এবং দুই দিনের মধ্যে আরও ৯ জন শিশু মারা গেছে। তবে ১০ দিন বা তার বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৭ জন এবং সর্বোচ্চ ৩৭ দিন লড়াই করে এক শিশুর মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া গেছে। ​মারা যাওয়া ৬০ শিশুর মধ্যে ৪৮ জনই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাণ হারিয়েছে, যার মধ্যে ৩০ জনই এসেছিল ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই সর্বোচ্চ ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় হামের চিকিৎসায় জরুরি পরিবর্তন এনেছে ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি কমিটি। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আগে যেখানে হামের প্রথম টিকার বয়স ৯ মাস নির্ধারিত ছিল, তা কমিয়ে এখন ৬ মাস করা হয়েছে, যাতে আরও কম বয়সী শিশুদের এই মরণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


হামে শিশুমৃত্যু ৪৫০ ছাড়াল, এক দিনে ঝরল ১২ প্রাণ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

​দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল এবং বাকি আটজনের মধ্যে ছিল হামের তীব্র উপসর্গ। এ নিয়ে দেশে হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে।

​গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এক হাজার ১৯২ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন, যাদের মধ্যে এক হাজার ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪২২ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে, আর সবচেয়ে কম সাতজন ভর্তি হয়েছে রংপুর বিভাগে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ জনে। এর মধ্যে সাত হাজার ৪২১ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত আড়াই দশকে দেশে হাম ও এর উপসর্গের সংক্রমণ এর অর্ধেকও কখনো হয়নি। ​এর আগে দেশে হামের সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে (২৫ হাজার ৯৩৪ জন)। এরপর থেকে সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে কমছিল। এমনকি ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) থেকে পাওয়া ৬০টি মৃত শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে অত্যন্ত কম বয়সী শিশু, এমনকি নবজাতকেরও মৃত্যু হচ্ছে। ​মৃত শিশুদের মধ্যে ২৯টিরই বয়স ছিল ৩ থেকে ৮ মাস, অর্থাৎ তারা এখনো হামের প্রথম টিকা পাওয়ার বয়সেই পৌঁছায়নি। এছাড়া ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী ২১ জন, ১৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ৯ জন এবং ৯ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩১ জন ছেলে এবং ২৯ জন মেয়ে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হাসপাতালে আসার পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টা শিশুদের জন্য সবচেয়ে সংকটময় সময়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট শিশুর ৪০ শতাংশই মারা যাচ্ছে ভর্তির প্রথম দুই দিনের মধ্যে। এর মধ্যে ভর্তির দিনই ৫ জন, এক দিনের মাথায় ৯ জন এবং দুই দিনের মধ্যে আরও ৯ জন শিশু মারা গেছে। তবে ১০ দিন বা তার বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৭ জন এবং সর্বোচ্চ ৩৭ দিন লড়াই করে এক শিশুর মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া গেছে। ​মারা যাওয়া ৬০ শিশুর মধ্যে ৪৮ জনই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাণ হারিয়েছে, যার মধ্যে ৩০ জনই এসেছিল ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই সর্বোচ্চ ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় হামের চিকিৎসায় জরুরি পরিবর্তন এনেছে ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি কমিটি। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আগে যেখানে হামের প্রথম টিকার বয়স ৯ মাস নির্ধারিত ছিল, তা কমিয়ে এখন ৬ মাস করা হয়েছে, যাতে আরও কম বয়সী শিশুদের এই মরণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত