সংবাদ

হাম ও উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩০৩


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

হাম ও উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩০৩
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩০৩ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১২ শিশুর মধ্যে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮ জন এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দুই মাসে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭৭ জনে। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৪ জনের। সব মিলিয়ে এই দুই মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৫১ জনের।

এই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ জন। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৪১৬ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৬ হাজার ৫৫ জন। বাকি রোগীরা এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। প্রথমে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে পরে তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। এটি মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু দেশের কিছু অঞ্চলে টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়াচ্ছে এই রোগ।

এ ছাড়া পুষ্টিহীনতা, অপুষ্টি ও সচেতনতার অভাব মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ানোর অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটছে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের এবং যাদের টিকা দেওয়া হয়নি, তাদের মধ্যে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়ার জন্য দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে বিশেষ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত সপ্তাহে সংসদে জানিয়েছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে হাম আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সন্তানের টিকার কার্ড পরীক্ষা করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ৯ ও ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দিতে হবে। কোনো শিশুর জ্বর, সর্দি, কাশি ও গায়ে লাল ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকার বিকল্প নেই। ব্যাপক সচেতনতা ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা গেলে খুব দ্রুত এই রোগের প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


হাম ও উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩০৩

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩০৩ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১২ শিশুর মধ্যে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮ জন এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দুই মাসে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭৭ জনে। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৪ জনের। সব মিলিয়ে এই দুই মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৫১ জনের।

এই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ জন। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৪১৬ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৬ হাজার ৫৫ জন। বাকি রোগীরা এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। প্রথমে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে পরে তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। এটি মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু দেশের কিছু অঞ্চলে টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়াচ্ছে এই রোগ।

এ ছাড়া পুষ্টিহীনতা, অপুষ্টি ও সচেতনতার অভাব মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ানোর অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটছে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের এবং যাদের টিকা দেওয়া হয়নি, তাদের মধ্যে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়ার জন্য দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে বিশেষ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত সপ্তাহে সংসদে জানিয়েছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে হাম আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সন্তানের টিকার কার্ড পরীক্ষা করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ৯ ও ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দিতে হবে। কোনো শিশুর জ্বর, সর্দি, কাশি ও গায়ে লাল ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকার বিকল্প নেই। ব্যাপক সচেতনতা ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা গেলে খুব দ্রুত এই রোগের প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত