তীব্র রোদ কিংবা আচমকা বজ্রবৃষ্টি, খোলা মাঠে কাজ করা কৃষকদের কাছে প্রকৃতির এই রূপ বরাবরই আতঙ্কের। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে ‘কৃষক ছাউনি’ নামের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। মাঠের মাঝখানে এক চিলতে পাকা ছাদ এখন এই অঞ্চলের অন্নদাতাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন কৃষকেরা। খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই তাদের পড়তে হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে। কৃষকদের জীবনের ঝুঁকি কমাতে এবং কর্মঘণ্টায় একটু স্বস্তি দিতে নেওয়া হয়েছে এই মানবিক উদ্যোগ।
উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০২২ সালে সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি ‘কৃষক ছাউনি’ নির্মাণ করা হয়। চারপাশ খোলা ও ওপরে পাকা ছাদবিশিষ্ট এই ছাউনিগুলোতে রয়েছে বসার সুব্যবস্থা। বর্তমানে এগুলো মাঠের কৃষকদের কাছে পরম আশ্রয়ের ঠিকানা।
শিবরাম গ্রামের স্থানীয় এক কৃষক তার আঞ্চলিক ভাষায় স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, "আগে মেঘ ডাকলে ভয়ে মাঠ থুইয়া দৌড় দেওয়া লাগত। এ্যালা বাড়িত যাওয়ার আগেই এই ছাউনির নিচে আশ্রয় নিবার পারি। রোইদ লাগলে একনা জিরি নেই। এটা আমাগোরে খুব উপকার হইছে।"
কেবল রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষাই নয়, তপ্ত দুপুরে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া কিংবা দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্যও কৃষকেরা এখন এই ছাউনি ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে কৃষকদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুন্দরগঞ্জের এই ‘কৃষক ছাউনি’ মডেলটি সারা দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি ইউনিয়নের ফসলি মাঠে এমন ছাউনি নির্মাণ করা হলে বজ্রপাতে মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশেই কমে আসবে বলে প্রত্যাশা সুন্দরগঞ্জবাসীর।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
তীব্র রোদ কিংবা আচমকা বজ্রবৃষ্টি, খোলা মাঠে কাজ করা কৃষকদের কাছে প্রকৃতির এই রূপ বরাবরই আতঙ্কের। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে ‘কৃষক ছাউনি’ নামের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। মাঠের মাঝখানে এক চিলতে পাকা ছাদ এখন এই অঞ্চলের অন্নদাতাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন কৃষকেরা। খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই তাদের পড়তে হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে। কৃষকদের জীবনের ঝুঁকি কমাতে এবং কর্মঘণ্টায় একটু স্বস্তি দিতে নেওয়া হয়েছে এই মানবিক উদ্যোগ।
উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০২২ সালে সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি ‘কৃষক ছাউনি’ নির্মাণ করা হয়। চারপাশ খোলা ও ওপরে পাকা ছাদবিশিষ্ট এই ছাউনিগুলোতে রয়েছে বসার সুব্যবস্থা। বর্তমানে এগুলো মাঠের কৃষকদের কাছে পরম আশ্রয়ের ঠিকানা।
শিবরাম গ্রামের স্থানীয় এক কৃষক তার আঞ্চলিক ভাষায় স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, "আগে মেঘ ডাকলে ভয়ে মাঠ থুইয়া দৌড় দেওয়া লাগত। এ্যালা বাড়িত যাওয়ার আগেই এই ছাউনির নিচে আশ্রয় নিবার পারি। রোইদ লাগলে একনা জিরি নেই। এটা আমাগোরে খুব উপকার হইছে।"
কেবল রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষাই নয়, তপ্ত দুপুরে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া কিংবা দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্যও কৃষকেরা এখন এই ছাউনি ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে কৃষকদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুন্দরগঞ্জের এই ‘কৃষক ছাউনি’ মডেলটি সারা দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি ইউনিয়নের ফসলি মাঠে এমন ছাউনি নির্মাণ করা হলে বজ্রপাতে মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশেই কমে আসবে বলে প্রত্যাশা সুন্দরগঞ্জবাসীর।

আপনার মতামত লিখুন