সংবাদ

সাবেক নারী এমপি তুহিন ফের গ্রেপ্তার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

সাবেক নারী এমপি তুহিন ফের গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ এবং গুরুতর জখমের ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত সাবেক এই এমপিকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাশেদুল ইসলাম আসামি সাবিনা আক্তার তুহিনকে আদালতে হাজির করে এই আবেদন করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে এক ব্যবসায়ী ও তার শ্যালক ভ্যানগাড়িতে কাপড় বিক্রি করছিলেন। ওই সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাধারণ ছাত্রদের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

হামলার একপর্যায়ে রাবার বুলেটের আঘাতে ওই ব্যবসায়ী রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।​

এর কিছুক্ষণ পরেই একই এলাকায় কাপড় গোছানোর সময় ওই ব্যবসায়ীর শ্যালকের ওপরও নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে একটি গুলি তার বাম পায়ে লাগলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এ ছাড়া তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ছোড়া টিয়ারশেলের আঘাতে তার দুটি চোখই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনার সঙ্গে সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জেলহাজতে থাকা এই আসামিকে বর্তমান মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ২২ জুন ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


সাবেক নারী এমপি তুহিন ফের গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ এবং গুরুতর জখমের ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত সাবেক এই এমপিকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাশেদুল ইসলাম আসামি সাবিনা আক্তার তুহিনকে আদালতে হাজির করে এই আবেদন করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে এক ব্যবসায়ী ও তার শ্যালক ভ্যানগাড়িতে কাপড় বিক্রি করছিলেন। ওই সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাধারণ ছাত্রদের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

হামলার একপর্যায়ে রাবার বুলেটের আঘাতে ওই ব্যবসায়ী রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।​

এর কিছুক্ষণ পরেই একই এলাকায় কাপড় গোছানোর সময় ওই ব্যবসায়ীর শ্যালকের ওপরও নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে একটি গুলি তার বাম পায়ে লাগলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এ ছাড়া তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ছোড়া টিয়ারশেলের আঘাতে তার দুটি চোখই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনার সঙ্গে সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জেলহাজতে থাকা এই আসামিকে বর্তমান মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ২২ জুন ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত