সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে পশুরহাট


প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে পশুরহাট
চুয়াডাঙ্গার শিয়ালমারি পশুর হাটে গরু দেখছেন ক্রেতারা। দাম কিছুটা বেশি হলেও হাটে পশুর আমদানি ছিল প্রচুর। ছবি : সংবাদ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠেছে। জেলার শিয়ালমারি, ডুগডুগি, মুন্সিগঞ্জ ও আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন হাটে প্রতিদিন বাড়ছে কোরবানির পশুর আমদানি। তবে পশুখাদ্য ও পরিচর্যা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ছিল জেলার বৃহত্তম পশুর হাট জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারি হাটের শেষ দিন। সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই হাটে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ট্রাক নিয়ে পশু কিনতে এসেছেন। হাটে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের গরু পাওয়া গেলেও সাধারণ ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ছিল মাঝারি সাইজের দেশি গরুর দিকে।

দর্শনা থেকে গরু কিনতে আসা আসলাম শেখ বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম অনেক বেশি। ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে গরু খুঁজছি, কিন্তু পছন্দের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে দেড় লাখ টাকার ওপরে।’ অন্যদিকে খামারি জামাল হোসেন বলেন, ‘গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান হবে।’

ফরিদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী বিল্লাল ব্যাপারী জানান, এই হাটের গরুর মান ভালো বলে তিনি নিয়মিত এখানে আসেন। এরই মধ্যে তিনি ১০টি গরু কিনেছেন। ছাগলের হাটেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের ছাগল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় এবার কোরবানির উপযোগী ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৪৪ হাজার ৩৯৬। জেলায় পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩১ হাজার ১৮১টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৭০ হাজার ৬৬টি অতিরিক্ত পশু জেলায় রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, পশুর স্বাস্থ্য যাচাইয়ে প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। হাটে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে। তবে পশুর আধিক্যের কারণে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে পশুরহাট

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠেছে। জেলার শিয়ালমারি, ডুগডুগি, মুন্সিগঞ্জ ও আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন হাটে প্রতিদিন বাড়ছে কোরবানির পশুর আমদানি। তবে পশুখাদ্য ও পরিচর্যা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ছিল জেলার বৃহত্তম পশুর হাট জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারি হাটের শেষ দিন। সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই হাটে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ট্রাক নিয়ে পশু কিনতে এসেছেন। হাটে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের গরু পাওয়া গেলেও সাধারণ ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ছিল মাঝারি সাইজের দেশি গরুর দিকে।

দর্শনা থেকে গরু কিনতে আসা আসলাম শেখ বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম অনেক বেশি। ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে গরু খুঁজছি, কিন্তু পছন্দের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে দেড় লাখ টাকার ওপরে।’ অন্যদিকে খামারি জামাল হোসেন বলেন, ‘গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান হবে।’

ফরিদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী বিল্লাল ব্যাপারী জানান, এই হাটের গরুর মান ভালো বলে তিনি নিয়মিত এখানে আসেন। এরই মধ্যে তিনি ১০টি গরু কিনেছেন। ছাগলের হাটেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের ছাগল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় এবার কোরবানির উপযোগী ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৪৪ হাজার ৩৯৬। জেলায় পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩১ হাজার ১৮১টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৭০ হাজার ৬৬টি অতিরিক্ত পশু জেলায় রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, পশুর স্বাস্থ্য যাচাইয়ে প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। হাটে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে। তবে পশুর আধিক্যের কারণে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত