সংবাদ

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে মোহতাসিম খানের ‘আপত্তি’


দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে মোহতাসিম খানের ‘আপত্তি’
মালিক মোহতাসিম খান

‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানালেন মালিক মোহতাসিম খান। জামাত-ই-ইসলামি হিন্দ-এর সহ-সভাপতি দাবি করেছেন, কোনও সরকার নাগরিকদের উপর নির্দিষ্ট কোনও গান গাওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে যে খবর সামনে এসেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন তিনি।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালিক মোহতাসিম খান বলেন, দেশপ্রেম বা দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। তার কথায়, জাতীয় সঙ্গীত জন গণ মন নিয়েও অতীতে বাধ্যতামূলক করার প্রশ্নে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দেশকে ভালোবাসা এবং দেশের প্রতি শ্রদ্ধা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনও সরকার নাগরিকদের বলে দিতে পারে না কোন গান গাইতে হবে বা গাওয়া যাবে না। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তার বক্তব্য, কেউ চাইলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই পারেন, কিন্তু কেউ যদি তা গাইতে না চান, তাহলে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়। তার মতে, মাদ্রাসাগুলিরও এই বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটি যদি শুধুমাত্র পরামর্শ হিসেবে দেওয়া হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, কিন্তু বাধ্যতামূলক নির্দেশে পরিণত করা হলে তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার বিরোধী হবে।

এদিন, ইদ-উল-আজহা উপলক্ষে কোরবানির প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন জামাত নেতা। তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে কোরবানির জন্য গরু ছাড়াও মহিষ, ছাগল, ভেড়া-সহ একাধিক বিকল্প রয়েছে। তাই গরু কোরবানি নিয়েই জোরাজুরি না করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের কাছে আবেদন জানান তিনি।

তবে একই সঙ্গে গবাদি পশুর বেচাকেনার উপর কড়া বিধিনিষেধের সমালোচনাও করেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ পশুপালন এবং গবাদি পশুর ব্যবসার উপর নির্ভরশীল।

এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি, দেশে থাকা বড় কসাইখানাগুলিতে গরুর মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানির বিষয়েও সমান নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে মোহতাসিম খানের ‘আপত্তি’

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানালেন মালিক মোহতাসিম খান। জামাত-ই-ইসলামি হিন্দ-এর সহ-সভাপতি দাবি করেছেন, কোনও সরকার নাগরিকদের উপর নির্দিষ্ট কোনও গান গাওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে যে খবর সামনে এসেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন তিনি।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালিক মোহতাসিম খান বলেন, দেশপ্রেম বা দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। তার কথায়, জাতীয় সঙ্গীত জন গণ মন নিয়েও অতীতে বাধ্যতামূলক করার প্রশ্নে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দেশকে ভালোবাসা এবং দেশের প্রতি শ্রদ্ধা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনও সরকার নাগরিকদের বলে দিতে পারে না কোন গান গাইতে হবে বা গাওয়া যাবে না। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তার বক্তব্য, কেউ চাইলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই পারেন, কিন্তু কেউ যদি তা গাইতে না চান, তাহলে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়। তার মতে, মাদ্রাসাগুলিরও এই বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটি যদি শুধুমাত্র পরামর্শ হিসেবে দেওয়া হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, কিন্তু বাধ্যতামূলক নির্দেশে পরিণত করা হলে তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার বিরোধী হবে।

এদিন, ইদ-উল-আজহা উপলক্ষে কোরবানির প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন জামাত নেতা। তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে কোরবানির জন্য গরু ছাড়াও মহিষ, ছাগল, ভেড়া-সহ একাধিক বিকল্প রয়েছে। তাই গরু কোরবানি নিয়েই জোরাজুরি না করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের কাছে আবেদন জানান তিনি।

তবে একই সঙ্গে গবাদি পশুর বেচাকেনার উপর কড়া বিধিনিষেধের সমালোচনাও করেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ পশুপালন এবং গবাদি পশুর ব্যবসার উপর নির্ভরশীল।

এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি, দেশে থাকা বড় কসাইখানাগুলিতে গরুর মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানির বিষয়েও সমান নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত