ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এক নেত্রীর ফেইসবুক পোস্টে পাকিস্তানি এক নারীর ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার। একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হয়ে নারীদের নিয়ে এমন মন্তব্য করায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতারা তাকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে মানসিক চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন এবং তিনি জিএস পদের জন্য অযোগ্য বলেও মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সমালোচনার মুখে সালাউদ্দিন আম্মার তার করা মন্তব্যটি মুছে ফেলেন। তবে এরই মধ্যে মন্তব্যটির একাধিক স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশট থেকে দেখা যায়, ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা পাকিস্তানি এক নারীর সঙ্গে তোলা ছবি নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “Bangladesh + Pakistan, ঢাকা ইউনিভার্সিটি + পিকিং ইউনিভার্সিটি।” সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার লিখেন, “নিয়ে আসেন আমার জন্য।” মন্তব্যটিতে ৯১১টিরও বেশি রিয়্যাক্ট পড়ে।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই মন্তব্য করেন, একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির ভাষা কখনোই নারীর প্রতি অসম্মানজনক বা হেয়প্রতিপন্ন করার মতো হতে পারে না। তাদের মতে, এমন মন্তব্য সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয় এবং নারীদের প্রতি বিদ্যমান অসহিষ্ণু মানসিকতাকে আরও উসকে দেয়।
রাবি শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল জীবন ফেসবুকে আম্মারের সমালোচনা করে লেখেন, “একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির ভাষা কখনোই নারীর প্রতি অসম্মান, হেয়প্রতিপন্ন করার মতো হতে পারে না। এমন মন্তব্য নিঃসন্দেহে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যারা ‘সা....মা...ছিঁড়ে ফেলার মতো অশ্লীল স্লোগান দিতে পারে, তাদের কাছ থেকে এমন মানসিকতা অস্বাভাবিক নয়।”
রাবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের বোনেরা যেভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে, তাতে বারবার একই গোষ্ঠীর দিকেই আঙুল উঠেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, তাদের নিজেদের নেত্রীরাও তাদের কাছে নিরাপদ নয়।”
আম্মারকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এই উন্মাদের কারণে সারা দেশে সমালোচিত হচ্ছে। তিনি এই জিএস পদের উপযুক্ত নন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত তার মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।”এদিকে, রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভও সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “কোটি টাকার টেস্টি ট্রিটের স্যান্ডউইচ আর বিরিয়ানির জোরে এসব টিকটকার, ছাপড়িরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়েছে। আল্লাহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান অন্তত এদের হাত থেকে রক্ষা করুক।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সালাউদ্দিন আম্মারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সালাউদ্দিন আম্মার ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়ে জানান, অনলাইন মিটিংয়ে আছেন।

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এক নেত্রীর ফেইসবুক পোস্টে পাকিস্তানি এক নারীর ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার। একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হয়ে নারীদের নিয়ে এমন মন্তব্য করায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতারা তাকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে মানসিক চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন এবং তিনি জিএস পদের জন্য অযোগ্য বলেও মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সমালোচনার মুখে সালাউদ্দিন আম্মার তার করা মন্তব্যটি মুছে ফেলেন। তবে এরই মধ্যে মন্তব্যটির একাধিক স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশট থেকে দেখা যায়, ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা পাকিস্তানি এক নারীর সঙ্গে তোলা ছবি নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “Bangladesh + Pakistan, ঢাকা ইউনিভার্সিটি + পিকিং ইউনিভার্সিটি।” সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার লিখেন, “নিয়ে আসেন আমার জন্য।” মন্তব্যটিতে ৯১১টিরও বেশি রিয়্যাক্ট পড়ে।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই মন্তব্য করেন, একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির ভাষা কখনোই নারীর প্রতি অসম্মানজনক বা হেয়প্রতিপন্ন করার মতো হতে পারে না। তাদের মতে, এমন মন্তব্য সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয় এবং নারীদের প্রতি বিদ্যমান অসহিষ্ণু মানসিকতাকে আরও উসকে দেয়।
রাবি শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল জীবন ফেসবুকে আম্মারের সমালোচনা করে লেখেন, “একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির ভাষা কখনোই নারীর প্রতি অসম্মান, হেয়প্রতিপন্ন করার মতো হতে পারে না। এমন মন্তব্য নিঃসন্দেহে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যারা ‘সা....মা...ছিঁড়ে ফেলার মতো অশ্লীল স্লোগান দিতে পারে, তাদের কাছ থেকে এমন মানসিকতা অস্বাভাবিক নয়।”
রাবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের বোনেরা যেভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে, তাতে বারবার একই গোষ্ঠীর দিকেই আঙুল উঠেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, তাদের নিজেদের নেত্রীরাও তাদের কাছে নিরাপদ নয়।”
আম্মারকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এই উন্মাদের কারণে সারা দেশে সমালোচিত হচ্ছে। তিনি এই জিএস পদের উপযুক্ত নন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত তার মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।”এদিকে, রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভও সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “কোটি টাকার টেস্টি ট্রিটের স্যান্ডউইচ আর বিরিয়ানির জোরে এসব টিকটকার, ছাপড়িরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়েছে। আল্লাহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান অন্তত এদের হাত থেকে রক্ষা করুক।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সালাউদ্দিন আম্মারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সালাউদ্দিন আম্মার ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়ে জানান, অনলাইন মিটিংয়ে আছেন।

আপনার মতামত লিখুন