রাজধানীর মিরপুরে এক স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘গদির নিরাপত্তা নয়, মানুষের নিরাপত্তা চাই’, ‘তনু, আসিয়া,.. এরপর কে?’ এবং ‘ধর্ষকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে রাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “প্রতিবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীর পোশাক কিংবা চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এটি কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো অনেকে ধর্ষিতার দোষ খুঁজতে ব্যস্ত। আমরা এমন এক দেশে বাস করছি, যেখানে একজন বাবা তার মেয়ের বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা পর্যন্ত আশা করতে পারেন না।”
তিনি আরও বলেন, “দশ বছর আগে তনু ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও এখনো প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়নি। আমরা দেখেছি প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও বিচার প্রক্রিয়া বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে কেউ ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করার সাহস পেত না।”
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রেয়সী রায় বলেন, “এক বছরের মধ্যেও শিশু আসিয়ার ধর্ষণের বিচার হয়নি। আমরা বিচার চাই, কিন্তু সঠিক বিচার পাচ্ছি না। বিচারহীনতা চলতে থাকলে মানুষ একসময় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে বাধ্য হবে। রাষ্ট্র যদি নাগরিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে।”
ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য সচিব ওয়াজেদ শিশির অভি বলেন, “ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর একজন নারীকে সমাজে নানা ধরনের হেনস্তার মুখোমুখি হতে হয়। সমাজে এখনো ধারণা প্রচলিত আছে যে নারীর চলাফেরার কারণেই ধর্ষণ ঘটে। অথচ আমরা বোরকা পরিহিত নারীকেও ধর্ষণের শিকার হতে দেখেছি।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের টাকায় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে। গদির নিরাপত্তার জন্য নয়, জনগণের নিরাপত্তার জন্যই আপনাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে এক স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘গদির নিরাপত্তা নয়, মানুষের নিরাপত্তা চাই’, ‘তনু, আসিয়া,.. এরপর কে?’ এবং ‘ধর্ষকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে রাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “প্রতিবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীর পোশাক কিংবা চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এটি কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো অনেকে ধর্ষিতার দোষ খুঁজতে ব্যস্ত। আমরা এমন এক দেশে বাস করছি, যেখানে একজন বাবা তার মেয়ের বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা পর্যন্ত আশা করতে পারেন না।”
তিনি আরও বলেন, “দশ বছর আগে তনু ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও এখনো প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়নি। আমরা দেখেছি প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও বিচার প্রক্রিয়া বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে কেউ ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করার সাহস পেত না।”
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রেয়সী রায় বলেন, “এক বছরের মধ্যেও শিশু আসিয়ার ধর্ষণের বিচার হয়নি। আমরা বিচার চাই, কিন্তু সঠিক বিচার পাচ্ছি না। বিচারহীনতা চলতে থাকলে মানুষ একসময় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে বাধ্য হবে। রাষ্ট্র যদি নাগরিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে।”
ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য সচিব ওয়াজেদ শিশির অভি বলেন, “ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর একজন নারীকে সমাজে নানা ধরনের হেনস্তার মুখোমুখি হতে হয়। সমাজে এখনো ধারণা প্রচলিত আছে যে নারীর চলাফেরার কারণেই ধর্ষণ ঘটে। অথচ আমরা বোরকা পরিহিত নারীকেও ধর্ষণের শিকার হতে দেখেছি।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের টাকায় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে। গদির নিরাপত্তার জন্য নয়, জনগণের নিরাপত্তার জন্যই আপনাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন