কোরবানির ঈদের আনন্দ যখন দুয়ারে, তখন পশুর হাটগুলোতে উপচে পড়া ভিড় আর কোটি কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে আমেজ ও উৎকণ্ঠা দুই-ই কাজ করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মনে। বিশেষ করে পশু বিক্রির কষ্টার্জিত টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে খামারিদের কপালে থাকে চিন্তার ভাঁজ। এই দুশ্চিন্তা দূর করতে এবং ব্যবসায়ীদের ঘাম ঝরানো টাকা ছিনতাইয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রুখতে এবার ‘কার্যকরী ব্যবস্থা’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একই সাথে হাটে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার ঝুঁকি এড়াতে ডিজিটাল বা ক্যাশলেস লেনদেনে বিশেষ জোর দিচ্ছে বাহিনীটি।
রবিবার ঢাকার ঐতিহ্যবাহী
গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন র্যাবের
মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। এ সময় তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে
পশুর হাটে নগদ টাকার লেনদেন পরিহার করে ‘ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে’ মূল্য পরিশোধ
করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি
হয়ে র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, "ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীসহ
বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে। সেজন্য পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে
পশু বিক্রির টাকা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা প্রতিরোধে র্যাব কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।"
এই পরিস্থিতি অত্যন্ত
দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে এরই মধ্যে পশুর হাট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা
এবং টহলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
হাটের সার্বিক শৃঙ্খলা
বজায় রাখার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "কোরবানির পশুরহাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে
কন্ট্রোল রুম এবং ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ লেনদেন পরিহার করে ক্যাশলেস
বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে।"
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে
দেন, দেশের কোনো প্রান্তে কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন কেউ জোরপূর্বক কোনো নির্দিষ্ট
হাটে নিতে বাধ্য করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া খামারিরা
যাতে নিরাপদে গবাদি পশু হাটগুলোতে নিয়ে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ব্যাটালিয়নগুলো
তাদের নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রোবস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে
বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
কোরবানির হাটের
আরেকটি বড় আতঙ্ক হলো জাল নোটের কারবার। এ বিষয়ে সতর্ক বার্তা দিয়ে র্যাব প্রধান বলেন,
"জাল টাকা প্রতিরোধ এবং শনাক্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ জাল টাকা উৎপাদনকারীদের
বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
একই সাথে প্রযুক্তির
অপব্যবহার রোধে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, "পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদ
এবং কোরবানিকে কেন্দ্র করে গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
দেশের আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক তৎপরতা দমনে
র্যাবের সদস্যরা নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিযানিক কার্যক্রম সচল রেখেছে
বলে আশ্বস্ত করেন মহাপরিচালক।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
কোরবানির ঈদের আনন্দ যখন দুয়ারে, তখন পশুর হাটগুলোতে উপচে পড়া ভিড় আর কোটি কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে আমেজ ও উৎকণ্ঠা দুই-ই কাজ করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মনে। বিশেষ করে পশু বিক্রির কষ্টার্জিত টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে খামারিদের কপালে থাকে চিন্তার ভাঁজ। এই দুশ্চিন্তা দূর করতে এবং ব্যবসায়ীদের ঘাম ঝরানো টাকা ছিনতাইয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রুখতে এবার ‘কার্যকরী ব্যবস্থা’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একই সাথে হাটে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার ঝুঁকি এড়াতে ডিজিটাল বা ক্যাশলেস লেনদেনে বিশেষ জোর দিচ্ছে বাহিনীটি।
রবিবার ঢাকার ঐতিহ্যবাহী
গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন র্যাবের
মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। এ সময় তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে
পশুর হাটে নগদ টাকার লেনদেন পরিহার করে ‘ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে’ মূল্য পরিশোধ
করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি
হয়ে র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, "ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীসহ
বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে। সেজন্য পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে
পশু বিক্রির টাকা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা প্রতিরোধে র্যাব কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।"
এই পরিস্থিতি অত্যন্ত
দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে এরই মধ্যে পশুর হাট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা
এবং টহলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
হাটের সার্বিক শৃঙ্খলা
বজায় রাখার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "কোরবানির পশুরহাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে
কন্ট্রোল রুম এবং ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ লেনদেন পরিহার করে ক্যাশলেস
বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে।"
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে
দেন, দেশের কোনো প্রান্তে কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন কেউ জোরপূর্বক কোনো নির্দিষ্ট
হাটে নিতে বাধ্য করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া খামারিরা
যাতে নিরাপদে গবাদি পশু হাটগুলোতে নিয়ে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ব্যাটালিয়নগুলো
তাদের নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রোবস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে
বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
কোরবানির হাটের
আরেকটি বড় আতঙ্ক হলো জাল নোটের কারবার। এ বিষয়ে সতর্ক বার্তা দিয়ে র্যাব প্রধান বলেন,
"জাল টাকা প্রতিরোধ এবং শনাক্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ জাল টাকা উৎপাদনকারীদের
বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
একই সাথে প্রযুক্তির
অপব্যবহার রোধে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, "পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদ
এবং কোরবানিকে কেন্দ্র করে গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
দেশের আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক তৎপরতা দমনে
র্যাবের সদস্যরা নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিযানিক কার্যক্রম সচল রেখেছে
বলে আশ্বস্ত করেন মহাপরিচালক।

আপনার মতামত লিখুন