রাজ্য রাজনীতিতে নীরব বিস্ফোরণ- বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় খারাপ ফলের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তাঁর ইস্তফা যতটা ‘দায় স্বীকার’, তার চেয়েও বেশি ‘বার্তা’- এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মধ্যমগ্রামের জেলা কার্যালয়ে আচমকা সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ইস্তফাপত্র প্রকাশ- টাইমিংটাই বলে দিচ্ছে, এটা নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং চাপা ক্ষোভের প্রকাশ। খোলা চিঠিতে দুর্নীতি, বিলাসী জীবনযাপন এবং ‘ভূঁইফোড়’ ভোট কৌশলী সংস্থার দাপট- সব কিছুর বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলেছেন তিনি। অর্থাৎ, তৃণমূলের ভেতরের কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুললেন দলেরই হেভিওয়েট সাংসদ।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ লাইন- পুরনো, সৎ, নিষ্ঠাবান কর্মীদের ফিরিয়ে আনার আবেদন। এই বার্তাটি সরাসরি গিয়ে পৌঁছায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দরজায়। আনুগত্য বজায় রেখেও যে অসন্তোষ এতটা তীব্র, তা স্পষ্ট।
তাহলে কি বিজেপির দিকে ঝোঁক?,'সংবাদ' প্রতিনিধির এমন প্রশ্নের জবাবে কৌশলি কাকলির উত্তরের ভঙ্গিমায় এখানেই আসল ‘বাকদৃষ্টি’- সরাসরি বিজেপিতে যাওয়ার ইঙ্গিত এখনো দেননি কাকলি।
কিন্তু দলের ভেতরে দুর্নীতি, কৌশলগত ব্যর্থতা ও বাইরের এজেন্সির দাপট নিয়ে তার ক্ষোভ- এই ভাষা গত কয়েক বছরে অনেক তৃণমূল নেতার ‘দলবদলের আগে’ শোনা গেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার মতো কৌশলগত জেলায় তাঁর এই অবস্থান বিজেপির কাছে রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে একটা বড় ‘কিন্তু’ আছে- তিনি এখনও প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য রেখেছেন। ফলে এটাকে সরাসরি দলত্যাগের প্রাক্কাল বলা এখনই বাড়াবাড়ি হবে। বরং এটা “প্রেশার পলিটিক্স” না “প্রি-এগজিট সিগন্যাল”- সেটাই এখন দেখার।
সারকথা এই ইস্তফা শুধু সাংগঠনিক নয়- এটা তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তির প্রকাশ। আর রাজনীতিতে অস্বস্তি যত বাড়ে, দলবদলের সম্ভাবনাও তত বাস্তব হয়ে ওঠে। চোখ রাখতে হবে- কাকলির পরবর্তী পদক্ষেপেই আসল গল্প লুকিয়ে।

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
রাজ্য রাজনীতিতে নীরব বিস্ফোরণ- বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় খারাপ ফলের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তাঁর ইস্তফা যতটা ‘দায় স্বীকার’, তার চেয়েও বেশি ‘বার্তা’- এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মধ্যমগ্রামের জেলা কার্যালয়ে আচমকা সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ইস্তফাপত্র প্রকাশ- টাইমিংটাই বলে দিচ্ছে, এটা নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং চাপা ক্ষোভের প্রকাশ। খোলা চিঠিতে দুর্নীতি, বিলাসী জীবনযাপন এবং ‘ভূঁইফোড়’ ভোট কৌশলী সংস্থার দাপট- সব কিছুর বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলেছেন তিনি। অর্থাৎ, তৃণমূলের ভেতরের কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুললেন দলেরই হেভিওয়েট সাংসদ।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ লাইন- পুরনো, সৎ, নিষ্ঠাবান কর্মীদের ফিরিয়ে আনার আবেদন। এই বার্তাটি সরাসরি গিয়ে পৌঁছায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দরজায়। আনুগত্য বজায় রেখেও যে অসন্তোষ এতটা তীব্র, তা স্পষ্ট।
তাহলে কি বিজেপির দিকে ঝোঁক?,'সংবাদ' প্রতিনিধির এমন প্রশ্নের জবাবে কৌশলি কাকলির উত্তরের ভঙ্গিমায় এখানেই আসল ‘বাকদৃষ্টি’- সরাসরি বিজেপিতে যাওয়ার ইঙ্গিত এখনো দেননি কাকলি।
কিন্তু দলের ভেতরে দুর্নীতি, কৌশলগত ব্যর্থতা ও বাইরের এজেন্সির দাপট নিয়ে তার ক্ষোভ- এই ভাষা গত কয়েক বছরে অনেক তৃণমূল নেতার ‘দলবদলের আগে’ শোনা গেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার মতো কৌশলগত জেলায় তাঁর এই অবস্থান বিজেপির কাছে রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে একটা বড় ‘কিন্তু’ আছে- তিনি এখনও প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য রেখেছেন। ফলে এটাকে সরাসরি দলত্যাগের প্রাক্কাল বলা এখনই বাড়াবাড়ি হবে। বরং এটা “প্রেশার পলিটিক্স” না “প্রি-এগজিট সিগন্যাল”- সেটাই এখন দেখার।
সারকথা এই ইস্তফা শুধু সাংগঠনিক নয়- এটা তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তির প্রকাশ। আর রাজনীতিতে অস্বস্তি যত বাড়ে, দলবদলের সম্ভাবনাও তত বাস্তব হয়ে ওঠে। চোখ রাখতে হবে- কাকলির পরবর্তী পদক্ষেপেই আসল গল্প লুকিয়ে।

আপনার মতামত লিখুন