কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে এক শ্রমিকদল নেতার এক্সকাভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৪ মে) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর মহেন্দ্রপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত আইয়ুব আলী মণ্ডল (৪৯) জগন্নাথপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি মহেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত লোয়াই মণ্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় আজ সোমবার দুপুরে তিনি কুমারখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চর মহেন্দ্রপুর এলাকায় পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁষে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করে আসছিলেন স্থানীয় শরিফুল খান ও মাসুদ শেখ। গত রোববার দুপুরে সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে একজনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ধারণা, আইয়ুব আলী মণ্ডল তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন। এই সন্দেহের জেরে গভীর রাতে আইয়ুব আলীর এক্সকাভেটরে আগুন দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইয়ুব আলীর ছেলে অন্তু মণ্ডল জানান, রাত তিনটার দিকে এক্সকাভেটরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানি ঢেলে আগুন নেভানো হলেও যন্ত্রটির ব্যাটারি, ইঞ্জিন, কাভার ও পাম্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আইয়ুব আলী বলেন, ‘শরিফুল ও মাসুদের ধারণা আমিই ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দিয়েছি। সেই সন্দেহে তারা আমার জানমাল ও যন্ত্রের ক্ষতি করেছেন। আমি এর বিচার চাই।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শরিফুল ও মাসুদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, রোববার চর মহেন্দ্রপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। তবে এই অভিযানের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, এক্সকাভেটর পোড়ানোর ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন