ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদযাত্রায় ২৭টি রুটে প্রায় পাঁচ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৮০০টি বাস রুটের মধ্যে মাত্র ২৭টি রুটের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। পুরো চিত্র ধরা পড়লে এই পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ‘গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপকমিটি’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা, যাত্রাবাড়ী-বরিশাল, চট্টগ্রাম-বগুড়া, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম, সায়েদাবাদ-পিরোজপুরসহ ২৭টি রুটে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।
যাত্রীদের সরাসরি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে এক হাজার ১০০ টাকার নিয়মিত ভাড়া এক লাফে বেড়ে দুই হাজার ২০০ টাকা হয়েছে, যা মূল ভাড়ার দ্বিগুণ। ঢাকা-খুলনা রুটে নিয়মিত ভাড়া ৫৪১ টাকা হলেও ঈদ উপলক্ষে আদায় করা হচ্ছে এক হাজার টাকা।
একইভাবে ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৯০০ টাকা। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে এক হাজার টাকার নিয়মিত ভাড়ার জায়গায় দিতে হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকা। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৫৫২ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৮০০ টাকা।
দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। যাত্রাবাড়ী-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৮৫০ টাকা। যাত্রাবাড়ী-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার টাকায়।
দূরপাল্লার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কাছের গন্তব্যগুলোতেও চলছে একই নৈরাজ্য। যাত্রাবাড়ী-ভাঙ্গা রুটে ২০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা, যাত্রাবাড়ী-শিবচর রুটে ২০০ টাকার ভাড়া ৩৫০ টাকা এবং সায়েদাবাদ-টেকেরহাট রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি দেশের সামগ্রিক পরিবহন খাতের একটি ক্ষুদ্র চিত্র মাত্র। সারা দেশে প্রায় ৮০০টি রুটের সবগুলোর হিসাব করলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যে হিসাব করেছি, তা মাত্র ২৭টি রুটের। দেশের সব রুটের হিসাব করলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, পরিবহন মালিকরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবেন না। কিন্তু তারা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।’
এর আগে গত ঈদুল ফিতরের সময় ঈদযাত্রায় প্রায় ১৪৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তবে ওই হিসাব ছিল শুধুমাত্র বাস ও মিনিবাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চিত্র।
এবারের প্রতিবেদন প্রকাশের পর যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদযাত্রায় ২৭টি রুটে প্রায় পাঁচ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৮০০টি বাস রুটের মধ্যে মাত্র ২৭টি রুটের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। পুরো চিত্র ধরা পড়লে এই পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ‘গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপকমিটি’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা, যাত্রাবাড়ী-বরিশাল, চট্টগ্রাম-বগুড়া, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম, সায়েদাবাদ-পিরোজপুরসহ ২৭টি রুটে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।
যাত্রীদের সরাসরি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে এক হাজার ১০০ টাকার নিয়মিত ভাড়া এক লাফে বেড়ে দুই হাজার ২০০ টাকা হয়েছে, যা মূল ভাড়ার দ্বিগুণ। ঢাকা-খুলনা রুটে নিয়মিত ভাড়া ৫৪১ টাকা হলেও ঈদ উপলক্ষে আদায় করা হচ্ছে এক হাজার টাকা।
একইভাবে ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৯০০ টাকা। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে এক হাজার টাকার নিয়মিত ভাড়ার জায়গায় দিতে হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকা। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৫৫২ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৮০০ টাকা।
দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। যাত্রাবাড়ী-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৮৫০ টাকা। যাত্রাবাড়ী-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার টাকায়।
দূরপাল্লার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কাছের গন্তব্যগুলোতেও চলছে একই নৈরাজ্য। যাত্রাবাড়ী-ভাঙ্গা রুটে ২০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা, যাত্রাবাড়ী-শিবচর রুটে ২০০ টাকার ভাড়া ৩৫০ টাকা এবং সায়েদাবাদ-টেকেরহাট রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি দেশের সামগ্রিক পরিবহন খাতের একটি ক্ষুদ্র চিত্র মাত্র। সারা দেশে প্রায় ৮০০টি রুটের সবগুলোর হিসাব করলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যে হিসাব করেছি, তা মাত্র ২৭টি রুটের। দেশের সব রুটের হিসাব করলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, পরিবহন মালিকরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবেন না। কিন্তু তারা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।’
এর আগে গত ঈদুল ফিতরের সময় ঈদযাত্রায় প্রায় ১৪৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তবে ওই হিসাব ছিল শুধুমাত্র বাস ও মিনিবাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চিত্র।
এবারের প্রতিবেদন প্রকাশের পর যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন