সংবাদ

সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর ফোর্স কমান্ডার হচ্ছেন লে. জে. মিনহাজুল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম

সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর ফোর্স কমান্ডার হচ্ছেন লে. জে. মিনহাজুল

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন সাইপ্রাসে (ইউএনএফআইসিওয়াইপি) ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম (এনডিইউ, পিএসসি, পিএইচডি)। নতুন এই কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অসামান্য ভূমিকা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ও গৌরবের বিষয়ে আলোচনা হয়। জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম। সেখানে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ করে তিনি সাইপ্রাসে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম বাংলাদেশের অষ্টম সেনা কর্মকর্তা, যিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। বর্তমানে জাতিসংঘের ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে বিভিন্ন দেশের মোট ১০ জন সামরিক কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন, যার মধ্যে পশ্চিম সাহারা মিশনে কর্মরত আছেন বাংলাদেশের মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান। সাইপ্রাসে লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম যোগ দিলে ফোর্স কমান্ডার পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তার সংখ্যা হবে দুইজন। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাতজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা আটটি ভিন্ন দেশে এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ১৯৯৩ সালে মোজাম্বিকে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মরহুম আনিসুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সাইপ্রাসে পরিচালিত মিশনটি জাতিসংঘের দীর্ঘতম সময় ধরে চলা শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান দায়িত্ব হলো জাতিসংঘের বাফার জোন (গ্রিন লাইন) বজায় রাখা এবং যুদ্ধবিরতি রেখাগুলোর তত্ত্বাবধান করা। বাংলাদেশসহ মোট ১৮টি দেশের সামরিক সদস্যরা এই মিশনে অংশগ্রহণ করছেন।

লে. জেনারেল মিনহাজুল আলমের কর্মজীবন

১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী মিনহাজুল আলম ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অব অনার’ পুরস্কারে ভূষিত হন।

চাকরি জীবনে তিনি ‘অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠন’-এ নেতৃত্ব দেওয়াসহ সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) চিফ ইন্সট্রাক্টর ও কমান্ড্যান্ট এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিএমটিএফ) ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জাতিসংঘের এই নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জিওসি এবং কক্সবাজারের দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর ফোর্স কমান্ডার হচ্ছেন লে. জে. মিনহাজুল

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন সাইপ্রাসে (ইউএনএফআইসিওয়াইপি) ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম (এনডিইউ, পিএসসি, পিএইচডি)। নতুন এই কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অসামান্য ভূমিকা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ও গৌরবের বিষয়ে আলোচনা হয়। জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম। সেখানে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ করে তিনি সাইপ্রাসে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম বাংলাদেশের অষ্টম সেনা কর্মকর্তা, যিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। বর্তমানে জাতিসংঘের ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে বিভিন্ন দেশের মোট ১০ জন সামরিক কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন, যার মধ্যে পশ্চিম সাহারা মিশনে কর্মরত আছেন বাংলাদেশের মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান। সাইপ্রাসে লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম যোগ দিলে ফোর্স কমান্ডার পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তার সংখ্যা হবে দুইজন। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাতজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা আটটি ভিন্ন দেশে এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ১৯৯৩ সালে মোজাম্বিকে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মরহুম আনিসুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সাইপ্রাসে পরিচালিত মিশনটি জাতিসংঘের দীর্ঘতম সময় ধরে চলা শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান দায়িত্ব হলো জাতিসংঘের বাফার জোন (গ্রিন লাইন) বজায় রাখা এবং যুদ্ধবিরতি রেখাগুলোর তত্ত্বাবধান করা। বাংলাদেশসহ মোট ১৮টি দেশের সামরিক সদস্যরা এই মিশনে অংশগ্রহণ করছেন।

লে. জেনারেল মিনহাজুল আলমের কর্মজীবন

১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী মিনহাজুল আলম ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অব অনার’ পুরস্কারে ভূষিত হন।

চাকরি জীবনে তিনি ‘অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠন’-এ নেতৃত্ব দেওয়াসহ সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) চিফ ইন্সট্রাক্টর ও কমান্ড্যান্ট এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিএমটিএফ) ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জাতিসংঘের এই নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জিওসি এবং কক্সবাজারের দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত