ডা. সারওয়ার আলী। একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের বড় সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের সভাপতি। সেই সঙ্গে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টিও। তার সঙ্গে আলাপচারিতায় ছিলেন সংবাদ-এর ডিজিটাল বিভাগের প্রধান রাশেদ আহমেদ। পুরো আলোচনা হুবহু তুলে ধরা হলো।
রাশেদ আহমেদ: আপনার জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন সেই শুরু থেকে। আপনার কর্মজীবন।
ডা. সারওয়ার আলী: ১৯৬১ সালে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হলাম। তারপর থেকে এই ষাটের দশকের যে ছাত্র আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, তার সাথে যুক্ত হই। ১৯৬৮ সালে ডাক্তারি পাস করলাম বটে, কিন্তু ছাত্র সংসদ এবং পরিষদের সাথে সংযোগ, সেটি ১৯৬৯ পর্যন্তই ছিল। তাই ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে যোগ দেওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। তারপর মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে সৌভাগ্য হলো যোগ দেওয়ার।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে দীর্ঘ সময়ে বিএমএ-তে (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন) কাজ করেছি। ’৯৭ সাল পর্যন্ত চার বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। পাশাপাশি বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ করেছি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রথম যে প্রতিনিধি দলটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার প্রেরণ করেছিলো সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সমর্থনের জন্য, তার সদস্য হওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার।
যুদ্ধের পরে প্রধানত ছায়ানটে। ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের বর্ষবরণে প্রথম আসলাম।’৮০ সাল থেকে আমি ছায়ানটের কার্যনির্বাহী পরিষদে আছি। বর্তমানে তার সভাপতি। ১৯৯৬ সালে আমরা আটজন একেবারে সাধারণ নাগরিক। আমরা একটা ভাড়া বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করি।
রাশেদ আহমেদ: সেগুনবাগিচায়?
ডা. সারওয়ার আলী: জি, সেগুনবাগিচায়। এটি তো ৩০ বছর পূর্ণ হতে চলল। এখন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধের স্মারকের অভিনব সংগ্রহ। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা চেষ্টা করি মুক্তিযুদ্ধের যে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস, সেটি তুলে ধরার। এটি বর্তমানে একটা নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। এখন বয়স হয়েছে, ৮৪ বছর প্রায় বয়স। জিবের ক্যান্সার হয়েছে, সে কারণে কথা হয়তো একটু জড়িয়ে আসবে। আশা করছি, শ্রোতাদের বুঝতে অসুবিধা হবে না।
রাশেদ আহমেদ: মুক্তিযুদ্ধ যখন করেছিলেন, নিশ্চয়ই একটা লক্ষ্য, একটা উদ্দেশ্য, একটা স্বপ্ন নিয়ে করেছিলেন। মানে বর্তমান অবস্থাটা কী?
ডা. সারওয়ার আলী: মুক্তিযুদ্ধের যে জনআকাঙ্ক্ষা, সে জনআকাঙ্ক্ষাটা সৃষ্টি হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান আমলে যে বাঙালির স্বাধিকার এবং দেশে একটা সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে একটা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা। এই জনআকাঙ্ক্ষাতেই মুক্তিযুদ্ধ রূপ নিয়েছে, যখন গণহত্যা শুরু হয় তারপর থেকে।
এই জনআকাঙ্ক্ষাটা এই গত অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বারবার ব্যাহত হয়েছে। তার কারণটি মূলত এই যে সমাজের গভীরে দুটি একেবারে ভিন্ন চিন্তাধারার একটা সংঘাত আমরা লক্ষ করছি। একটি জাতীয়তাবাদী চিন্তা, যে চিন্তাধারা ধারণ করছে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। পাশাপাশি ধারণা করি এখন যে পাকিস্তানি যে মূল্যবোধ ও চিন্তাধারা ছিল, যার সাথে আমাদের ধর্ম পরিচয়ের সাথে জাতীয় পরিচয়ের একটা সংঘাত আছে। কাজেই এই সংঘাতটি বিলুপ্ত হয়নি। তার ফলে ৫০ বছর একটা সংঘাতময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলছে।
এর মধ্যে বড় বিশ্লেষণ হচ্ছে যে আমাদের ধর্ম পরিচয় আর জাতীয় পরিচয়ের মধ্যে তো কোনোদিনই সংঘাত নেই। কিন্তু বাংলাদেশে এবং শুধু আমার ধারণা সমগ্র উপমহাদেশে ধর্মান্ধতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার ফলে এই জাতীয়তাবাদটি বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এটিকে প্রতিরোধ করাটাই বড় দায়িত্ব বলে মনে হয়েছে। এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের চেষ্টা, ছায়ানটের চেষ্টা হচ্ছে—একদিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার মধ্য দিয়ে, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয় সত্তা সেটি হৃদয়ে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের একটা চেষ্টা করে, সেই চেষ্টাটাই চলছে।
রাশেদ আহমেদ: ’২৪-এর যে গণআন্দোলন হলো, সেই আন্দোলনে ছায়ানটও আক্রান্ত হলো। এইটাকে কীভাবে আপনি ব্যাখ্যা করবেন, কীভাবে দেখছেন?
ডা. সারওয়ার আলী: ওটা ’২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে... একজন তরুণের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একদল মানুষ প্রথমে তো সংবাদপত্র আক্রমণ করল, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার; তারপর তারা দল বেঁধে ছায়ানটে গিয়ে ছায়ানট ভবন আক্রমণ করে। পরবর্তীতে পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে বড় ধরনের ক্ষতি ঘটেনি। তাতে বোঝা যায় যে বাঙালি সংস্কৃতি ধর্মসম্মত নয়, এমন প্রচারণায় যারা বিশ্বাস করে, তাদের মধ্যে যারা উগ্রপন্থী, তাদেরই কর্মকাণ্ড বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে।
কিন্তু পাশাপাশি লক্ষ করলাম, ঘটনা তো ঘটল রাতের বেলা। দুই দিনের ফেসবুক প্রচারণায়, কেবল ফেসবুকের প্রচারণায় সাধারণ মানুষ ছায়ানটের সামনে এসে দাঁড়ালো। আমাদের অস্ত্র তো কেবল গান- আমরা গান গাইলাম আর মানুষ সামনে এসে গলা মেলালো। তাতে বোঝা গেল সমাজে এই শক্তিটিরও উপস্থিতি আছে। এবং এটিকে যত বেশি বেগবান করা যাবে, তত বেশি শুধু ছায়ানট নয়, বাংলাদেশের গঠনের যে জনআকাঙ্ক্ষা, সেটি পূরণের পথে মানুষ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
রাশেদ আহমেদ: বাংলাদেশের এই যে উগ্রপন্থার উত্থান, সেই উত্থানটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ডা. সারওয়ার আলী: এটা বৈশ্বিক বলে আমার ধারণা। আমরা ঐতিহাসিকভাবে এই লেগেসিটা ধারন করেছি দেশভাগ থেকে। এমনটি নয় যে এটি ’২৪-এ ঘটেছে। এই শক্তিটি সমাজের গভীরে ছিল। ’২৪-এ অনুকূল পরিবেশ পেয়েছে তারা, যে পরিবেশে তারা রাষ্ট্র ক্ষমতার ওপর প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পেয়েছে। এবং বর্তমানে যে নির্বাচিত সরকার আছে, খুব আশা করছি যে এদের ক্ষমতার বলয়ে এই প্রভাবটা থাকবে না, কমবে আশা করছি। কিন্তু এই শক্তিটি যে বহু বছর ধরে রয়েছে, তাদেরই কাজ বলে মনে হয় আমার কাছে।
রাশেদ আহমেদ: এই শক্তিটা লালন-পালন করল কারা? মুক্তিযুদ্ধের সময় যে চেতনা, সেই চেতনার মধ্যে কিন্তু এই শক্তির উত্থানের সুযোগ নেই।
ডা. সারওয়ার আলী: অনেকগুলো কারণ আছে। বড় একটা কারণ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরে একটা আত্মতুষ্টি আমাদের মধ্যে কাজ করেছে। আর ওরা সমাজের গভীরে কাজ করে গেছে। তার সুফল তারা পেয়েছে, আর আমরা একটা আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে সর্বগ্রাসী লোভ, ক্ষমতায় সর্বোত্তম অপব্যবহার, এর ফলে জনমনে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, তাকে কিছু মানুষ ব্যবহার করে এই জায়গায় সুযোগ নিয়েছে। মনে রাখতে হবে যে মুক্তিযুদ্ধের যে বিজয়, সেটি তো সমাজের শক্তির সর্বোচ্চ প্রতিফলন। একটা সামাজিক পরিস্থিতি কী পরিমাণ উত্থান হলে একটা দেশের অসহায় মানুষ একটা সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারে! ভারতের সমর্থনটা বিরাট বিষয় ছিল, কিন্তু সমাজের শক্তিটাইতো বড়। সেই শক্তিতে অবক্ষয় হয়েছে। তার প্রচুর নিদর্শন আমরা দেখছি।
কাজেই সেই কারণে বলা উচিত যে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ সেটি এখনো বিপদ অবস্থায় আছে। আমরা খুব চাইছি ছায়ানটের মধ্য দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মধ্য দিয়ে এবং সমাজের নানা মানুষ মিলে এটিকে শক্তিশালী করা যায়, তবেই মুক্তিযুদ্ধের যে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, সে রাষ্ট্রটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
রাশেদ আহমেদ: কীভাবে সম্ভব হবে? এখন যে পরিস্থিতি...
ডা. সারওয়ার আলী: আমাকে যদি বলেন যে, আমি একা একলা মানুষ নই, আমার তো বহুবছর ধরে অনেকের সাথে সংযোগ রয়েছে, এখন মনে হচ্ছে যে রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে সম্ভবত এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। এটা এই সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের মধ্য দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমৃদ্ধ করার মধ্য দিয়ে এ কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করা খুব প্রয়োজন। এটি আমি বলি না যে ছায়ানট এ কাজ করবে বা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করবে, কিন্তু সমাজের বিভিন্ন পেশা-শ্রেণির মানুষ আছে, তাদের মধ্যে যদি এই চেতনাটিকে প্রসার করা যায়, তাদের বোঝানো যায় যে সাধারণ মানুষের গানের সাথে, জীবনাচরণের সাথে আমার ধর্ম বিশ্বাসের কোনো বিরোধ নেই। এই সত্যগুলোকে যদি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলেই সমাজে বড় সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।সেটি বড় কাজ তো রাজনৈতিক দলগুলোর।
রাশেদ আহমেদ: সেই বড় কাজ তো রাজনৈতিক দলগুলোর?
ডা. সারওয়ার আলী: কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা তো গত ৫০ বছর ভালো না। ক্ষমতায় যাওয়া ও থাকার যে আগ্রহ যদ্দুর, সমাজের নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে দূর করার চেষ্টাটা কম। বরং এই শক্তির সাথে সমঝোতার প্রয়াসটাই বেশি দেখি আমরা। তার কুফল তো ভোগ করছে সমাজ।
রাশেদ আহমেদ: ধর্মীয় রাজনীতি বাংলাদেশে চালু করা হলো। সেই ধর্মীয় রাজনীতির তো এই পরিস্থিতির একটি সুফল বলা চলে।
ডা. সারওয়ার আলী: হ্যাঁ, মনে করেন যে ’৭৫-এর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পরে যে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, সেটি উন্মুক্ত করা হলো। কিন্তু এটি নিষিদ্ধ করলেই মানুষের চিন্তাধারার প্রকাশ তো বন্ধ করা যায় না। আমি আবার বলছি, এই ধারাটি ছিল, এই ধারাটি পুষ্ট হয়েছে। এবং বৈশ্বিকভাবে ইসলামোফোবিয়াকে নিয়ে যে একটা উগ্রবাদী চিন্তা, সে উগ্রবাদী চিন্তাটা বাংলাদেশ সমাজে একটা ব্যাপক মানুষ গ্রহণ করেছে। এই বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে অগ্রসর হওয়া দরকার। সেজন্য বলছি যে এখন আশার বিষয় এটিই যে এ কাজটি দুঃসাধ্য মনে হচ্ছে, কিন্তু অসাধ্য মনে হচ্ছে না চেষ্টা করলে হবে।
রাশেদ আহমেদ: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও একটির জন্য দায়ী?
ডা. সারওয়ার আলী: শিক্ষা ক্ষেত্রে খুব আত্মহননের কাজ হয়েছে। এই যে ধরেন যে যে কার্যক্রমের ওপর আমাদের কোনোই নিয়ন্ত্রণ নেই, সেই ধর্ম শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার সাথে সমকক্ষ করে দেওয়া। এটি ভালোমন্দ ভাবার অবকাশ নাই, কিন্তু এটার প্রভাবটা খুব ভালো পড়েনি। এমনিতেই সাধারণ শিক্ষায় যারা আছে তাদের মধ্যে উগ্রতা হয়তো হতো না যদি এ কাজটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বা এ পর্যায়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না হতো। আমার ব্যক্তিগত ধারণা এটি।
রাশেদ আহমেদ: এইটা নিয়ে আপনারা তখন প্রতিবাদ করলেন না, বা কিছু বললেন না কেন?
ডা. সারওয়ার আলী: আমি আবার বলছি যে কাউকে দোষ দেওয়া যায় না, দোষ তো আমাদের নিজেদেরই। আমি তো আবার বলছি যে বিজয় হয়েছে, সব পেয়ে গেছি, দেশ পৌঁছে গেছে, কাজেই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাই যথেষ্ট- এই চিন্তাধারা আমাদের খুব ক্ষতি করেছে।
রাশেদ আহমেদ: সম্প্রতি কী অবস্থা দেখছেন দেশের? মানে এটি কোন দিকে যাচ্ছে? রাষ্ট্র সঠিক পথে যাচ্ছে কি না এবং যাওয়ার জন্য কী করা দরকার?
ডা. সারওয়ার আলী: একটা নির্বাচন হয়েছে, একটা নির্বাচিত সরকার এসেছে, এটা তো বড় পাওয়া। যদিও একটা বড় দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, এই দুর্বলতাটা থেকে গেল। কিন্তু যদি নির্বাচিত সরকারও ভালোভাবে কাজ করে এবং সকল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আগামীতে হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভালো হবে। কিন্তু আমাকে যদি বলেন আপনি যে এটি কি শেষ হয়ে যাবে উগ্রবাদী পরিস্থিতি? আমার মনে হয় তা সমাজের গভীরে বহু ধরনের চিন্তাধারা এমন, এটি সহজ হবে না। বাংলাদেশে খুব সজাগ হতে হবে যে সমাজের গভীরে যে দীর্ঘ বিস্তীর্ণ বিভাজন রেখা, সেটি যদি আমরা অতিক্রম না করতে পারি, তবে এ কাজ সহজ নয়। তাহলে আজ আমরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ নয়, একটা আধুনিক চিন্তাধারার মানুষের বাংলাদেশ গঠন করা খুব কঠিন হয়ে পড়বে।
রাশেদ আহমেদ: ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসকে যদি আপনাকে মূল্যায়ন করতে বলি...
ডা. সারওয়ার আলী: আমার এটি ব্যক্তিগত বিবেচনা হচ্ছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ধর্মান্ধ শক্তি, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি, সংস্কৃতি বিনাশী শক্তি, নারী বিদ্বেষী শক্তির প্রভাব ছিল। সে অর্থে ওই সরকারের কার্যক্রম খুব ক্ষতি করেছে, এটি সত্যি বলতে বাধা নেই। আমি আবার প্রত্যাশা করছি, নির্বাচিত সরকারের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি ভালো হবে।
রাশেদ আহমেদ: তারা আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটা বাণিজ্য চুক্তি করে গিয়েছে।
ডা. সারওয়ার আলী: সেখান থেকে তো এটিই এখন স্পষ্ট যে যারা ক্ষমতার অংশীদার, সম্ভবত তাদের সম্মতি নিয়ে এই কাজটি হয়েছে। আর একক পরাশক্তি পৃথিবীর, সেখানে সম্ভবত এর থেকে বেরিয়ে আসার মতো আগ্রহ, ইচ্ছা ও সামর্থ্য ক্ষমতায় যারা রয়েছেন তাদের ছিল না মনে হয়। এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে, কিন্তু এটি অসমর্থ হওয়া এবং বাস্তবায়ন না করার যে সামর্থ্য, শক্তি বা ইচ্ছা যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের সম্ভবত নেই।
রাশেদ আহমেদ: মুক্তিযুদ্ধ যখন করেছেন আপনারা, তখন জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আল-বদর, আল-শামস, রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল। তারা এখন রাষ্ট্রে বিভিন্ন জায়গায় আছে, সংসদে বিরোধী দল।
ডা. সারওয়ার আলী: ভাবতে কষ্ট হয়, কিন্তু এটি বুঝি যে এটিই তো বাস্তবতা। এটি মানি কি না মানি, সেটি ব্যাপার নয়। তাদের নির্বাচনে যে পরিমাণ আসন পেয়েছে, এর চেয়ে হয়তো কম পেত, পাওয়াটা সঙ্গতিশীল ছিল; কিন্তু একটা শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে তারা। রাজনৈতিকভাবে মানুষের চিন্তাধারার পরিবর্তন যদি আমরা না ঘটাতে পারি, তবে কেবল বিরোধিতা করে এ কাজটা হবে না। হ্যাঁ? এই বাস্তবতা, এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে অগ্রসর হতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: ছায়ানট এখন কী কাজ করছে?
ডা. সারওয়ার আলী: আমরা সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে সংষ্কৃতিকে লালন করছি এবং আমরা মনে করি বহু বক্তৃতার চাইতে একটি গান, সেটি রবীন্দ্রনাথের হোক, নজরুলের হোক, লালনের হোক আর আব্দুল করিমেরই হোক, সেটি মানুষকে অনেক বেশি চিন্তাধারায় প্রভাবিত করতে পারে। এই বিশ্বাস নিয়ে ছায়ানট তো ৬০ বছরের মতো চলছে, এখনও চলছে। কাজেই আশার জায়গা তো আছে।
রাশেদ আহমেদ: সামনে আর কী করবে?
ডা. সারওয়ার আলী: আমরা পহেলা বৈশাখে নববর্ষের কথনে বলেছি যে আমরা সাধারণ মানুষের... আমি যেন নির্বিঘ্নে গান গাইতে পারি। আমাদের সংস্কৃতি চর্চা যেন নির্বিঘ্ন হয়। রাষ্ট্র সমাজ যদি এ সুযোগ দেয়, তবে এটিই আমার একটা বড় অবলম্বন হবে, একটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে একটা আধুনিক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে।
রাশেদ আহমেদ: মুক্তিযুদ্ধকে নানাভাবে অপমান-অপদস্থ করার একটি অপচেষ্টা চলছে এখন। তো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর একটি বড় প্রতিষ্ঠান। তো সেটার প্রতিরোধ করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কি কোনো কর্মসূচি দেবে।
ডা. সারওয়ার আলী: আমরা মুক্ত ইতিহাসটা মানুষের কাছে জানতে দেই। যত বেশি মানুষ জানবে, তত বেশি স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তান বাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ, তাদের সাথে যারা সহযোগী ছিল তাদের আচরণ- এই ব্যাপারে মানুষ সচেতন হবে। এই চেষ্টাই করি। আমরা তো কাউকে নিষেধ করি না, আমরা মুখ বন্ধ করি না। কাজেই আমাদের বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে যদি এটি বৃদ্ধি করতে পারি, তাহলেই এই অপতথ্যের প্রচার, এ প্রচারটা বন্ধ হবে।
আমি আপনাকে বলি, কিছুদিন আগে প্রথম আলো আর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে শিক্ষার্থীদের। আমরা সেখানে বলেছি যে, একটা সীমা রেখা করেন। মানে প্রকাশ্য তথ্যে একজন বলছেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী ধর্ষণ করেছে মুক্তিযোদ্ধারা আর ভারতীয় বাহিনী। পাকিস্তান বাহিনী বা তাদের সহযোগীরা করেনি!এত বড় অপতথ্য যদি ফেসবুকে অন্তত প্রকাশ করার সুযোগ থাকে, তবে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব? আমরা তো রাষ্ট্রের কাছে বলবো যে এই ধরণের অপপ্রচার যারা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। সরকার দায়িত্ব নিয়ে সংসদে আইনের মধ্য দিয়ে করবে যে এমন কিছু প্রচার করতে দেবে না যেটি তার মতবাদের বিষয় নয়, যেটি সম্পূর্ণ একটা মিথ্যা কথা, সম্পূর্ণ অপতথ্য। ওই জায়গাটিতে রাষ্ট্র সরকার যদি নজর না দেয়, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রচারটা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু শুধু মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তো একমাত্র পথ হতে পারে না, তাই না? সেই চেষ্টাই করছি আমরা।
রাশেদ আহমেদ: ’৪৭- কে ওপরে তুলে মুক্তিযুদ্ধকে নিচের দিকে নামানোর একটা প্রচেষ্টা তো দেখতে পাচ্ছি...
ডা. সারওয়ার আলী: একজন সাংবাদিক বলছিলেন যে পরিস্থিতি হয়ে গেছে এমন যে কিছু মানুষ বিশ্বাস করে ৪৭-এই দেশ স্বাধীন হয়েছে আর ৭১-এ দেশভাগ হয়েছে। এই ধরনের যদি চিন্তাধারা কিছু মানুষের মধ্যেও থাকে, তবে তো দেশটা অন্যরকম হয়ে যাবে। কাজেই খুব খারাপ অবস্থায় আছি। একটা বিপন্ন সমাজ, বিপন্ন সংস্কৃতির মধ্যে রয়েছি। আর তার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো একটি দোষ থেকে কখনো মুক্তি পাবে না। ওদের রাজনীতি নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে মানুষের। যে মগজে আমি শাসন করব, এখান দিয়ে সমাজ যদি না বদলায়, রাষ্ট্র যদি এভাবে আসে, আমি কিছু ভাবতাম না। এটি বর্তমান সরকারের আমলে কমেছে, একেবারেই শেষ হয়ে যায় নাই। কাজেই ওই জায়গাটাতেই দাঁড়াতে হবে সাধারণ মানুষকে। এই অনুরোধ আমাদের ছায়ানটের পক্ষ থেকেও এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পক্ষ থেকেও।
রাশেদ আহমেদ: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
ডা. সারওয়ার আলী: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
ডা. সারওয়ার আলী। একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের বড় সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের সভাপতি। সেই সঙ্গে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টিও। তার সঙ্গে আলাপচারিতায় ছিলেন সংবাদ-এর ডিজিটাল বিভাগের প্রধান রাশেদ আহমেদ। পুরো আলোচনা হুবহু তুলে ধরা হলো।
রাশেদ আহমেদ: আপনার জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন সেই শুরু থেকে। আপনার কর্মজীবন।
ডা. সারওয়ার আলী: ১৯৬১ সালে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হলাম। তারপর থেকে এই ষাটের দশকের যে ছাত্র আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, তার সাথে যুক্ত হই। ১৯৬৮ সালে ডাক্তারি পাস করলাম বটে, কিন্তু ছাত্র সংসদ এবং পরিষদের সাথে সংযোগ, সেটি ১৯৬৯ পর্যন্তই ছিল। তাই ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে যোগ দেওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। তারপর মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে সৌভাগ্য হলো যোগ দেওয়ার।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে দীর্ঘ সময়ে বিএমএ-তে (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন) কাজ করেছি। ’৯৭ সাল পর্যন্ত চার বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। পাশাপাশি বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ করেছি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রথম যে প্রতিনিধি দলটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার প্রেরণ করেছিলো সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সমর্থনের জন্য, তার সদস্য হওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার।
যুদ্ধের পরে প্রধানত ছায়ানটে। ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের বর্ষবরণে প্রথম আসলাম।’৮০ সাল থেকে আমি ছায়ানটের কার্যনির্বাহী পরিষদে আছি। বর্তমানে তার সভাপতি। ১৯৯৬ সালে আমরা আটজন একেবারে সাধারণ নাগরিক। আমরা একটা ভাড়া বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করি।
রাশেদ আহমেদ: সেগুনবাগিচায়?
ডা. সারওয়ার আলী: জি, সেগুনবাগিচায়। এটি তো ৩০ বছর পূর্ণ হতে চলল। এখন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধের স্মারকের অভিনব সংগ্রহ। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা চেষ্টা করি মুক্তিযুদ্ধের যে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস, সেটি তুলে ধরার। এটি বর্তমানে একটা নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। এখন বয়স হয়েছে, ৮৪ বছর প্রায় বয়স। জিবের ক্যান্সার হয়েছে, সে কারণে কথা হয়তো একটু জড়িয়ে আসবে। আশা করছি, শ্রোতাদের বুঝতে অসুবিধা হবে না।
রাশেদ আহমেদ: মুক্তিযুদ্ধ যখন করেছিলেন, নিশ্চয়ই একটা লক্ষ্য, একটা উদ্দেশ্য, একটা স্বপ্ন নিয়ে করেছিলেন। মানে বর্তমান অবস্থাটা কী?
ডা. সারওয়ার আলী: মুক্তিযুদ্ধের যে জনআকাঙ্ক্ষা, সে জনআকাঙ্ক্ষাটা সৃষ্টি হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান আমলে যে বাঙালির স্বাধিকার এবং দেশে একটা সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে একটা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা। এই জনআকাঙ্ক্ষাতেই মুক্তিযুদ্ধ রূপ নিয়েছে, যখন গণহত্যা শুরু হয় তারপর থেকে।
এই জনআকাঙ্ক্ষাটা এই গত অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বারবার ব্যাহত হয়েছে। তার কারণটি মূলত এই যে সমাজের গভীরে দুটি একেবারে ভিন্ন চিন্তাধারার একটা সংঘাত আমরা লক্ষ করছি। একটি জাতীয়তাবাদী চিন্তা, যে চিন্তাধারা ধারণ করছে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। পাশাপাশি ধারণা করি এখন যে পাকিস্তানি যে মূল্যবোধ ও চিন্তাধারা ছিল, যার সাথে আমাদের ধর্ম পরিচয়ের সাথে জাতীয় পরিচয়ের একটা সংঘাত আছে। কাজেই এই সংঘাতটি বিলুপ্ত হয়নি। তার ফলে ৫০ বছর একটা সংঘাতময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলছে।
এর মধ্যে বড় বিশ্লেষণ হচ্ছে যে আমাদের ধর্ম পরিচয় আর জাতীয় পরিচয়ের মধ্যে তো কোনোদিনই সংঘাত নেই। কিন্তু বাংলাদেশে এবং শুধু আমার ধারণা সমগ্র উপমহাদেশে ধর্মান্ধতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার ফলে এই জাতীয়তাবাদটি বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এটিকে প্রতিরোধ করাটাই বড় দায়িত্ব বলে মনে হয়েছে। এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের চেষ্টা, ছায়ানটের চেষ্টা হচ্ছে—একদিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার মধ্য দিয়ে, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয় সত্তা সেটি হৃদয়ে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের একটা চেষ্টা করে, সেই চেষ্টাটাই চলছে।
রাশেদ আহমেদ: ’২৪-এর যে গণআন্দোলন হলো, সেই আন্দোলনে ছায়ানটও আক্রান্ত হলো। এইটাকে কীভাবে আপনি ব্যাখ্যা করবেন, কীভাবে দেখছেন?
ডা. সারওয়ার আলী: ওটা ’২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে... একজন তরুণের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একদল মানুষ প্রথমে তো সংবাদপত্র আক্রমণ করল, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার; তারপর তারা দল বেঁধে ছায়ানটে গিয়ে ছায়ানট ভবন আক্রমণ করে। পরবর্তীতে পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে বড় ধরনের ক্ষতি ঘটেনি। তাতে বোঝা যায় যে বাঙালি সংস্কৃতি ধর্মসম্মত নয়, এমন প্রচারণায় যারা বিশ্বাস করে, তাদের মধ্যে যারা উগ্রপন্থী, তাদেরই কর্মকাণ্ড বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে।
কিন্তু পাশাপাশি লক্ষ করলাম, ঘটনা তো ঘটল রাতের বেলা। দুই দিনের ফেসবুক প্রচারণায়, কেবল ফেসবুকের প্রচারণায় সাধারণ মানুষ ছায়ানটের সামনে এসে দাঁড়ালো। আমাদের অস্ত্র তো কেবল গান- আমরা গান গাইলাম আর মানুষ সামনে এসে গলা মেলালো। তাতে বোঝা গেল সমাজে এই শক্তিটিরও উপস্থিতি আছে। এবং এটিকে যত বেশি বেগবান করা যাবে, তত বেশি শুধু ছায়ানট নয়, বাংলাদেশের গঠনের যে জনআকাঙ্ক্ষা, সেটি পূরণের পথে মানুষ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
রাশেদ আহমেদ: বাংলাদেশের এই যে উগ্রপন্থার উত্থান, সেই উত্থানটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ডা. সারওয়ার আলী: এটা বৈশ্বিক বলে আমার ধারণা। আমরা ঐতিহাসিকভাবে এই লেগেসিটা ধারন করেছি দেশভাগ থেকে। এমনটি নয় যে এটি ’২৪-এ ঘটেছে। এই শক্তিটি সমাজের গভীরে ছিল। ’২৪-এ অনুকূল পরিবেশ পেয়েছে তারা, যে পরিবেশে তারা রাষ্ট্র ক্ষমতার ওপর প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পেয়েছে। এবং বর্তমানে যে নির্বাচিত সরকার আছে, খুব আশা করছি যে এদের ক্ষমতার বলয়ে এই প্রভাবটা থাকবে না, কমবে আশা করছি। কিন্তু এই শক্তিটি যে বহু বছর ধরে রয়েছে, তাদেরই কাজ বলে মনে হয় আমার কাছে।
রাশেদ আহমেদ: এই শক্তিটা লালন-পালন করল কারা? মুক্তিযুদ্ধের সময় যে চেতনা, সেই চেতনার মধ্যে কিন্তু এই শক্তির উত্থানের সুযোগ নেই।
ডা. সারওয়ার আলী: অনেকগুলো কারণ আছে। বড় একটা কারণ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরে একটা আত্মতুষ্টি আমাদের মধ্যে কাজ করেছে। আর ওরা সমাজের গভীরে কাজ করে গেছে। তার সুফল তারা পেয়েছে, আর আমরা একটা আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে সর্বগ্রাসী লোভ, ক্ষমতায় সর্বোত্তম অপব্যবহার, এর ফলে জনমনে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, তাকে কিছু মানুষ ব্যবহার করে এই জায়গায় সুযোগ নিয়েছে। মনে রাখতে হবে যে মুক্তিযুদ্ধের যে বিজয়, সেটি তো সমাজের শক্তির সর্বোচ্চ প্রতিফলন। একটা সামাজিক পরিস্থিতি কী পরিমাণ উত্থান হলে একটা দেশের অসহায় মানুষ একটা সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারে! ভারতের সমর্থনটা বিরাট বিষয় ছিল, কিন্তু সমাজের শক্তিটাইতো বড়। সেই শক্তিতে অবক্ষয় হয়েছে। তার প্রচুর নিদর্শন আমরা দেখছি।
কাজেই সেই কারণে বলা উচিত যে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ সেটি এখনো বিপদ অবস্থায় আছে। আমরা খুব চাইছি ছায়ানটের মধ্য দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মধ্য দিয়ে এবং সমাজের নানা মানুষ মিলে এটিকে শক্তিশালী করা যায়, তবেই মুক্তিযুদ্ধের যে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, সে রাষ্ট্রটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
রাশেদ আহমেদ: কীভাবে সম্ভব হবে? এখন যে পরিস্থিতি...
ডা. সারওয়ার আলী: আমাকে যদি বলেন যে, আমি একা একলা মানুষ নই, আমার তো বহুবছর ধরে অনেকের সাথে সংযোগ রয়েছে, এখন মনে হচ্ছে যে রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে সম্ভবত এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। এটা এই সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের মধ্য দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমৃদ্ধ করার মধ্য দিয়ে এ কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করা খুব প্রয়োজন। এটি আমি বলি না যে ছায়ানট এ কাজ করবে বা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করবে, কিন্তু সমাজের বিভিন্ন পেশা-শ্রেণির মানুষ আছে, তাদের মধ্যে যদি এই চেতনাটিকে প্রসার করা যায়, তাদের বোঝানো যায় যে সাধারণ মানুষের গানের সাথে, জীবনাচরণের সাথে আমার ধর্ম বিশ্বাসের কোনো বিরোধ নেই। এই সত্যগুলোকে যদি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলেই সমাজে বড় সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।সেটি বড় কাজ তো রাজনৈতিক দলগুলোর।
রাশেদ আহমেদ: সেই বড় কাজ তো রাজনৈতিক দলগুলোর?
ডা. সারওয়ার আলী: কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা তো গত ৫০ বছর ভালো না। ক্ষমতায় যাওয়া ও থাকার যে আগ্রহ যদ্দুর, সমাজের নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে দূর করার চেষ্টাটা কম। বরং এই শক্তির সাথে সমঝোতার প্রয়াসটাই বেশি দেখি আমরা। তার কুফল তো ভোগ করছে সমাজ।
রাশেদ আহমেদ: ধর্মীয় রাজনীতি বাংলাদেশে চালু করা হলো। সেই ধর্মীয় রাজনীতির তো এই পরিস্থিতির একটি সুফল বলা চলে।
ডা. সারওয়ার আলী: হ্যাঁ, মনে করেন যে ’৭৫-এর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পরে যে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, সেটি উন্মুক্ত করা হলো। কিন্তু এটি নিষিদ্ধ করলেই মানুষের চিন্তাধারার প্রকাশ তো বন্ধ করা যায় না। আমি আবার বলছি, এই ধারাটি ছিল, এই ধারাটি পুষ্ট হয়েছে। এবং বৈশ্বিকভাবে ইসলামোফোবিয়াকে নিয়ে যে একটা উগ্রবাদী চিন্তা, সে উগ্রবাদী চিন্তাটা বাংলাদেশ সমাজে একটা ব্যাপক মানুষ গ্রহণ করেছে। এই বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে অগ্রসর হওয়া দরকার। সেজন্য বলছি যে এখন আশার বিষয় এটিই যে এ কাজটি দুঃসাধ্য মনে হচ্ছে, কিন্তু অসাধ্য মনে হচ্ছে না চেষ্টা করলে হবে।
রাশেদ আহমেদ: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও একটির জন্য দায়ী?
ডা. সারওয়ার আলী: শিক্ষা ক্ষেত্রে খুব আত্মহননের কাজ হয়েছে। এই যে ধরেন যে যে কার্যক্রমের ওপর আমাদের কোনোই নিয়ন্ত্রণ নেই, সেই ধর্ম শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার সাথে সমকক্ষ করে দেওয়া। এটি ভালোমন্দ ভাবার অবকাশ নাই, কিন্তু এটার প্রভাবটা খুব ভালো পড়েনি। এমনিতেই সাধারণ শিক্ষায় যারা আছে তাদের মধ্যে উগ্রতা হয়তো হতো না যদি এ কাজটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বা এ পর্যায়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না হতো। আমার ব্যক্তিগত ধারণা এটি।
রাশেদ আহমেদ: এইটা নিয়ে আপনারা তখন প্রতিবাদ করলেন না, বা কিছু বললেন না কেন?
ডা. সারওয়ার আলী: আমি আবার বলছি যে কাউকে দোষ দেওয়া যায় না, দোষ তো আমাদের নিজেদেরই। আমি তো আবার বলছি যে বিজয় হয়েছে, সব পেয়ে গেছি, দেশ পৌঁছে গেছে, কাজেই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাই যথেষ্ট- এই চিন্তাধারা আমাদের খুব ক্ষতি করেছে।
রাশেদ আহমেদ: সম্প্রতি কী অবস্থা দেখছেন দেশের? মানে এটি কোন দিকে যাচ্ছে? রাষ্ট্র সঠিক পথে যাচ্ছে কি না এবং যাওয়ার জন্য কী করা দরকার?
ডা. সারওয়ার আলী: একটা নির্বাচন হয়েছে, একটা নির্বাচিত সরকার এসেছে, এটা তো বড় পাওয়া। যদিও একটা বড় দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, এই দুর্বলতাটা থেকে গেল। কিন্তু যদি নির্বাচিত সরকারও ভালোভাবে কাজ করে এবং সকল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আগামীতে হয়, তাহলে পরিস্থিতি ভালো হবে। কিন্তু আমাকে যদি বলেন আপনি যে এটি কি শেষ হয়ে যাবে উগ্রবাদী পরিস্থিতি? আমার মনে হয় তা সমাজের গভীরে বহু ধরনের চিন্তাধারা এমন, এটি সহজ হবে না। বাংলাদেশে খুব সজাগ হতে হবে যে সমাজের গভীরে যে দীর্ঘ বিস্তীর্ণ বিভাজন রেখা, সেটি যদি আমরা অতিক্রম না করতে পারি, তবে এ কাজ সহজ নয়। তাহলে আজ আমরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ নয়, একটা আধুনিক চিন্তাধারার মানুষের বাংলাদেশ গঠন করা খুব কঠিন হয়ে পড়বে।
রাশেদ আহমেদ: ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসকে যদি আপনাকে মূল্যায়ন করতে বলি...
ডা. সারওয়ার আলী: আমার এটি ব্যক্তিগত বিবেচনা হচ্ছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ধর্মান্ধ শক্তি, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি, সংস্কৃতি বিনাশী শক্তি, নারী বিদ্বেষী শক্তির প্রভাব ছিল। সে অর্থে ওই সরকারের কার্যক্রম খুব ক্ষতি করেছে, এটি সত্যি বলতে বাধা নেই। আমি আবার প্রত্যাশা করছি, নির্বাচিত সরকারের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি ভালো হবে।
রাশেদ আহমেদ: তারা আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটা বাণিজ্য চুক্তি করে গিয়েছে।
ডা. সারওয়ার আলী: সেখান থেকে তো এটিই এখন স্পষ্ট যে যারা ক্ষমতার অংশীদার, সম্ভবত তাদের সম্মতি নিয়ে এই কাজটি হয়েছে। আর একক পরাশক্তি পৃথিবীর, সেখানে সম্ভবত এর থেকে বেরিয়ে আসার মতো আগ্রহ, ইচ্ছা ও সামর্থ্য ক্ষমতায় যারা রয়েছেন তাদের ছিল না মনে হয়। এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে, কিন্তু এটি অসমর্থ হওয়া এবং বাস্তবায়ন না করার যে সামর্থ্য, শক্তি বা ইচ্ছা যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের সম্ভবত নেই।
রাশেদ আহমেদ: মুক্তিযুদ্ধ যখন করেছেন আপনারা, তখন জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আল-বদর, আল-শামস, রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল। তারা এখন রাষ্ট্রে বিভিন্ন জায়গায় আছে, সংসদে বিরোধী দল।
ডা. সারওয়ার আলী: ভাবতে কষ্ট হয়, কিন্তু এটি বুঝি যে এটিই তো বাস্তবতা। এটি মানি কি না মানি, সেটি ব্যাপার নয়। তাদের নির্বাচনে যে পরিমাণ আসন পেয়েছে, এর চেয়ে হয়তো কম পেত, পাওয়াটা সঙ্গতিশীল ছিল; কিন্তু একটা শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে তারা। রাজনৈতিকভাবে মানুষের চিন্তাধারার পরিবর্তন যদি আমরা না ঘটাতে পারি, তবে কেবল বিরোধিতা করে এ কাজটা হবে না। হ্যাঁ? এই বাস্তবতা, এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে অগ্রসর হতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: ছায়ানট এখন কী কাজ করছে?
ডা. সারওয়ার আলী: আমরা সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে সংষ্কৃতিকে লালন করছি এবং আমরা মনে করি বহু বক্তৃতার চাইতে একটি গান, সেটি রবীন্দ্রনাথের হোক, নজরুলের হোক, লালনের হোক আর আব্দুল করিমেরই হোক, সেটি মানুষকে অনেক বেশি চিন্তাধারায় প্রভাবিত করতে পারে। এই বিশ্বাস নিয়ে ছায়ানট তো ৬০ বছরের মতো চলছে, এখনও চলছে। কাজেই আশার জায়গা তো আছে।
রাশেদ আহমেদ: সামনে আর কী করবে?
ডা. সারওয়ার আলী: আমরা পহেলা বৈশাখে নববর্ষের কথনে বলেছি যে আমরা সাধারণ মানুষের... আমি যেন নির্বিঘ্নে গান গাইতে পারি। আমাদের সংস্কৃতি চর্চা যেন নির্বিঘ্ন হয়। রাষ্ট্র সমাজ যদি এ সুযোগ দেয়, তবে এটিই আমার একটা বড় অবলম্বন হবে, একটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে একটা আধুনিক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে।
রাশেদ আহমেদ: মুক্তিযুদ্ধকে নানাভাবে অপমান-অপদস্থ করার একটি অপচেষ্টা চলছে এখন। তো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর একটি বড় প্রতিষ্ঠান। তো সেটার প্রতিরোধ করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কি কোনো কর্মসূচি দেবে।
ডা. সারওয়ার আলী: আমরা মুক্ত ইতিহাসটা মানুষের কাছে জানতে দেই। যত বেশি মানুষ জানবে, তত বেশি স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তান বাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ, তাদের সাথে যারা সহযোগী ছিল তাদের আচরণ- এই ব্যাপারে মানুষ সচেতন হবে। এই চেষ্টাই করি। আমরা তো কাউকে নিষেধ করি না, আমরা মুখ বন্ধ করি না। কাজেই আমাদের বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে যদি এটি বৃদ্ধি করতে পারি, তাহলেই এই অপতথ্যের প্রচার, এ প্রচারটা বন্ধ হবে।
আমি আপনাকে বলি, কিছুদিন আগে প্রথম আলো আর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে শিক্ষার্থীদের। আমরা সেখানে বলেছি যে, একটা সীমা রেখা করেন। মানে প্রকাশ্য তথ্যে একজন বলছেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী ধর্ষণ করেছে মুক্তিযোদ্ধারা আর ভারতীয় বাহিনী। পাকিস্তান বাহিনী বা তাদের সহযোগীরা করেনি!এত বড় অপতথ্য যদি ফেসবুকে অন্তত প্রকাশ করার সুযোগ থাকে, তবে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব? আমরা তো রাষ্ট্রের কাছে বলবো যে এই ধরণের অপপ্রচার যারা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। সরকার দায়িত্ব নিয়ে সংসদে আইনের মধ্য দিয়ে করবে যে এমন কিছু প্রচার করতে দেবে না যেটি তার মতবাদের বিষয় নয়, যেটি সম্পূর্ণ একটা মিথ্যা কথা, সম্পূর্ণ অপতথ্য। ওই জায়গাটিতে রাষ্ট্র সরকার যদি নজর না দেয়, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রচারটা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু শুধু মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তো একমাত্র পথ হতে পারে না, তাই না? সেই চেষ্টাই করছি আমরা।
রাশেদ আহমেদ: ’৪৭- কে ওপরে তুলে মুক্তিযুদ্ধকে নিচের দিকে নামানোর একটা প্রচেষ্টা তো দেখতে পাচ্ছি...
ডা. সারওয়ার আলী: একজন সাংবাদিক বলছিলেন যে পরিস্থিতি হয়ে গেছে এমন যে কিছু মানুষ বিশ্বাস করে ৪৭-এই দেশ স্বাধীন হয়েছে আর ৭১-এ দেশভাগ হয়েছে। এই ধরনের যদি চিন্তাধারা কিছু মানুষের মধ্যেও থাকে, তবে তো দেশটা অন্যরকম হয়ে যাবে। কাজেই খুব খারাপ অবস্থায় আছি। একটা বিপন্ন সমাজ, বিপন্ন সংস্কৃতির মধ্যে রয়েছি। আর তার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো একটি দোষ থেকে কখনো মুক্তি পাবে না। ওদের রাজনীতি নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে মানুষের। যে মগজে আমি শাসন করব, এখান দিয়ে সমাজ যদি না বদলায়, রাষ্ট্র যদি এভাবে আসে, আমি কিছু ভাবতাম না। এটি বর্তমান সরকারের আমলে কমেছে, একেবারেই শেষ হয়ে যায় নাই। কাজেই ওই জায়গাটাতেই দাঁড়াতে হবে সাধারণ মানুষকে। এই অনুরোধ আমাদের ছায়ানটের পক্ষ থেকেও এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পক্ষ থেকেও।
রাশেদ আহমেদ: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
ডা. সারওয়ার আলী: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মতামত লিখুন