সংবাদ

নদী গিলছে স্কুল, বিপাকে ২ হাজার শিক্ষার্থী


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

নদী গিলছে স্কুল, বিপাকে ২ হাজার শিক্ষার্থী
ভাঙনে ভিটেছাড়া ১০ হাজার পরিবার, স্কুলও শেষ। ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও ঝিঞ্জিরাম নদের তীব্র ভাঙনে ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও খেলার মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চরাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে গত ২ মাসে দুই জেলায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

গাইবান্ধা জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার গাড়ামারা সিপি ও গুয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার চৌমোহন, আগারীদহ ও উত্তর খাটিয়ামারী–এই ৩ টি বিদ্যালয় ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সদর উপজেলার চিতুলিয়া দিঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ভাঙনের মুখে পড়ায় পাঠদান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র ও ঝিঞ্জিরাম নদের ভাঙনে ফলুয়ারচর ও চরখোদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে পাশের চরে অস্থায়ী ঘর তুলে কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও ২৬০ জন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানান্তর করা হতে পারে।

এ ছাড়া চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার আরও ছয়টি বিদ্যালয় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কালির আলগা, আটাশির চর ও বালাডোবা বিদ্যালয় তিন মাস আগে স্থানান্তর করা হলেও নতুন স্থানে শিক্ষার্থীসংকটে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধার ২০টি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২ মাসে জেলায় অন্তত ৭ হাজার পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। কুড়িগ্রামের ১৭টি পয়েন্টে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৩ হাজার পরিবার। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে এসব পরিবার এখন দিশেহারা। সব মিলিয়ে চরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


নদী গিলছে স্কুল, বিপাকে ২ হাজার শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও ঝিঞ্জিরাম নদের তীব্র ভাঙনে ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও খেলার মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চরাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে গত ২ মাসে দুই জেলায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

গাইবান্ধা জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার গাড়ামারা সিপি ও গুয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার চৌমোহন, আগারীদহ ও উত্তর খাটিয়ামারী–এই ৩ টি বিদ্যালয় ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সদর উপজেলার চিতুলিয়া দিঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ভাঙনের মুখে পড়ায় পাঠদান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র ও ঝিঞ্জিরাম নদের ভাঙনে ফলুয়ারচর ও চরখোদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে পাশের চরে অস্থায়ী ঘর তুলে কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও ২৬০ জন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানান্তর করা হতে পারে।

এ ছাড়া চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার আরও ছয়টি বিদ্যালয় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কালির আলগা, আটাশির চর ও বালাডোবা বিদ্যালয় তিন মাস আগে স্থানান্তর করা হলেও নতুন স্থানে শিক্ষার্থীসংকটে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধার ২০টি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২ মাসে জেলায় অন্তত ৭ হাজার পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। কুড়িগ্রামের ১৭টি পয়েন্টে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৩ হাজার পরিবার। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে এসব পরিবার এখন দিশেহারা। সব মিলিয়ে চরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত