যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ নামের এক মাংসখেকো পরজীবীর সংক্রমণ ধরা পড়ার পর দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে কানাডা টেক্সাস থেকে গবাদিপশু আমদানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
৬০ বছরের মধ্যে প্রথমবার টেক্সাসের মাটিতে পা রাখা এই পরজীবীটি গবাদিপশুর শরীরের ভেতর ঢুকে মাংস খেয়ে ফেলে। চিকিৎসা না করলে আক্রান্ত পশু শেষ পর্যন্ত মারা যায়।
‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ এক ধরনের পরজীবী মাছি। স্ত্রী মাছিগুলো জীবিত উষ্ণ রক্তের প্রাণী বা মানুষের উন্মুক্ত ক্ষত ও শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বের হওয়া শত শত লার্ভা ধারালো মুখ দিয়ে মাংসের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকেই বাঁচতে শুরু করে।
একে ‘মাংসখেকো’ পরজীবী বলার কারণও এটাই। আক্রান্ত প্রাণীর শরীরের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে মাংস খেয়ে ফেলে লার্ভাগুলো।
গত বুধবার (৩ জুন) টেক্সাসের লা প্রাইর শহরে তিন সপ্তাহ বয়সী একটি বাছুরের নাভির অংশে এই পরজীবীর লার্ভা পাওয়া যায়। এটি মেক্সিকো সীমান্ত থেকে মাত্র ৪৮ কিলোমিটার দূরে।
এরপর শুক্রবার (৫ জুন) জাভালা কাউন্টিতে এক মাস বয়সী আরেকটি বাছুরের শরীরে একই পরজীবী শনাক্ত হয়। দ্বিতীয় ঘটনাস্থলটি প্রথমটি থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, প্রথম সংক্রমণের পর ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বাছুরটিও ওই এলাকার ভেতরেই পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় গরু ও গরুর মাংস উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্য টেক্সাস। শুক্রবার গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মজুড়ে এটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
দুর্যোগ ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই প্রাদুর্ভাব টেক্সাসের কৃষি শিল্পের জন্য ‘আসন্ন ও ব্যাপক বিপদের’ কারণ হতে পারে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে গবাদিপশুর বড় ধরনের বাণিজ্য রয়েছে। জবাই, প্রজনন, দুগ্ধ ও পশম উৎপাদনের জন্য নিয়মিত দুই দেশের মধ্যে পশু পরিবহন করা হয়।
কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সি (সিএফআইএ) জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রমের আগের ২১ দিনের মধ্যে টেক্সাসে অবস্থান করা গরু ও ঘোড়া আপাতত কানাডায় প্রবেশ করতে পারবে না।
কানাডার শীতল আবহাওয়ার কারণে সেখানে এই পরজীবী বড় ধরনের সমস্যা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। তবু খামারিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৬ সালে স্ক্রুওয়ার্ম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে এরপরও বিচ্ছিন্নভাবে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৯৭০-এর দশকের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য।
সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মার্কিন কৃষি ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শত শত কোটি জিনগতভাবে পরিবর্তিত বন্ধ্যা মাছি অবমুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশুর শরীরে পরজীবী শনাক্ত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘স্নিফার’ কুকুরও ব্যবহার করা হবে।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ সংক্রমণের বিস্তার পুরোপুরি ঠেকাতে যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ নামের এক মাংসখেকো পরজীবীর সংক্রমণ ধরা পড়ার পর দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে কানাডা টেক্সাস থেকে গবাদিপশু আমদানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
৬০ বছরের মধ্যে প্রথমবার টেক্সাসের মাটিতে পা রাখা এই পরজীবীটি গবাদিপশুর শরীরের ভেতর ঢুকে মাংস খেয়ে ফেলে। চিকিৎসা না করলে আক্রান্ত পশু শেষ পর্যন্ত মারা যায়।
‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ এক ধরনের পরজীবী মাছি। স্ত্রী মাছিগুলো জীবিত উষ্ণ রক্তের প্রাণী বা মানুষের উন্মুক্ত ক্ষত ও শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বের হওয়া শত শত লার্ভা ধারালো মুখ দিয়ে মাংসের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকেই বাঁচতে শুরু করে।
একে ‘মাংসখেকো’ পরজীবী বলার কারণও এটাই। আক্রান্ত প্রাণীর শরীরের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে মাংস খেয়ে ফেলে লার্ভাগুলো।
গত বুধবার (৩ জুন) টেক্সাসের লা প্রাইর শহরে তিন সপ্তাহ বয়সী একটি বাছুরের নাভির অংশে এই পরজীবীর লার্ভা পাওয়া যায়। এটি মেক্সিকো সীমান্ত থেকে মাত্র ৪৮ কিলোমিটার দূরে।
এরপর শুক্রবার (৫ জুন) জাভালা কাউন্টিতে এক মাস বয়সী আরেকটি বাছুরের শরীরে একই পরজীবী শনাক্ত হয়। দ্বিতীয় ঘটনাস্থলটি প্রথমটি থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, প্রথম সংক্রমণের পর ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বাছুরটিও ওই এলাকার ভেতরেই পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় গরু ও গরুর মাংস উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্য টেক্সাস। শুক্রবার গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মজুড়ে এটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
দুর্যোগ ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই প্রাদুর্ভাব টেক্সাসের কৃষি শিল্পের জন্য ‘আসন্ন ও ব্যাপক বিপদের’ কারণ হতে পারে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে গবাদিপশুর বড় ধরনের বাণিজ্য রয়েছে। জবাই, প্রজনন, দুগ্ধ ও পশম উৎপাদনের জন্য নিয়মিত দুই দেশের মধ্যে পশু পরিবহন করা হয়।
কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সি (সিএফআইএ) জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রমের আগের ২১ দিনের মধ্যে টেক্সাসে অবস্থান করা গরু ও ঘোড়া আপাতত কানাডায় প্রবেশ করতে পারবে না।
কানাডার শীতল আবহাওয়ার কারণে সেখানে এই পরজীবী বড় ধরনের সমস্যা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। তবু খামারিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৬ সালে স্ক্রুওয়ার্ম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে এরপরও বিচ্ছিন্নভাবে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৯৭০-এর দশকের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য।
সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মার্কিন কৃষি ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শত শত কোটি জিনগতভাবে পরিবর্তিত বন্ধ্যা মাছি অবমুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশুর শরীরে পরজীবী শনাক্ত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘স্নিফার’ কুকুরও ব্যবহার করা হবে।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ সংক্রমণের বিস্তার পুরোপুরি ঠেকাতে যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

আপনার মতামত লিখুন