জামায়াতে ইসলামী সহ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব কেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের (এমপি) দেওয়া হয়েছে, জাতীয় সংসদ তার ব্যাখ্যা দিলেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের যে ‘নিয়ম’ আছে, সে ‘নিয়ম’ অনুযায়ীই এগোচ্ছেন তারা।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সস্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে বিকেলে ৩ টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে সরকারি দল বিএনপি ৩৬টি আসন পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী দলীয় জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র ৭ এমপির জোট একটি আসন পেয়েছে।
গত শনিবার (৬ জুন) সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় দলটির সংরক্ষিত ৩৬ নারী এমপিকে বিরোধী দলের ৭৯টি আসনের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব জায়গায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে এই কৌশল নিয়েছে দলটি।
প্রশ্নে যা বললেন এমপি আরমান
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াত এমপি মীর আহমদ বিন কাসেম প্রধানমন্ত্রীকে করা প্রশ্নে বলেন, “বহুল প্রচারিত পত্রিকায় আমরা জানতে পেরেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকার দলীয় মহিলা এমপিদের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন তদারকি করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আরও বলা হয়েছে, এসব উন্নয়নে ডিও লেটার ইস্যু করতে পারবেন সরকার দলীয় মহিলা এমপিগণ।”
ব্যারিস্টার আরমান নামে পরিচিত এই জামায়াত নেতা প্রশ্নে আরও বলেন, “এ তথ্য থেকে আমাদের মধ্যে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে যে এ কাজ কি তাদেরকে এ জন্য দেওয়া হচ্ছে যাতে আমরা যারা বিরোধী দলীয় এমপি আছি আমাদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো হক থাকবে না, এটা নিশ্চিত করার জন্যই কি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিনা, দয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সামনে পরিষ্কার করবেন।”
প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের দল থেকে এবং আপনাদের দল থেকে যে সকল নারী সদস্যকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে য়েকদিন আগে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাদের কোন আসন নেই। আপনার বা আমার যে কোন নির্দিষ্ট আসন আছে সেরকম নির্দিষ্ট কোন আসন তাদের নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো তার ভিত্তিতে আমরা তাদেরকে দলীয় অবস্থান থেকে আমরা কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন।”
সংসদ নেতা বলেন, “আপনার নির্বাচন এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে যে আপনি আপনার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে কিভাবে ভূমিকা রাখতে চান? যেহেতু এই সংসদ এই নারী নেতৃবৃন্দকে বা নারী সংসদ সদস্যদেরকে নির্বাচিত করেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদেরও একই রকমভাবে হক আছে, একই রকমভাবে হক আছে তার এলাকার বা তার এলাকার মানুষের জন্য।”
তারেক রহমান বলেন, “খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা যেটি নিয়ম আছে সরকারের, সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার যদি কোনো উন্নয়নের কোনো বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন।”
বিরোধীদের আসনে বিএনপির নারী এমপি
সংরক্ষিত আসন-২৩ এর এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তাকে ঢাকা-১২, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৫ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। ঢাকা ১২ ও ১৬ সংসদীয় আসনে এমপি হয়েছেন যথাক্রমে জামায়াতের প্রভাবশালী দুই নেতা- সাইফুল আলম খান মিলন ও কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন।
ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির সংরক্ষিত আসন-২২ এর এমপি শাম্মী আক্তারকে। পাশাপাশি তিনি সিলেট-৫ আসনের দায়িত্বও পালন করবেন। এই আসনের এমপি খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান।
এ ছাড়া বিএনপির সংরক্ষিত আসন-২৪ এর এমপি বীথিকা বিনতে হোসাইনকে সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব কটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
সংরক্ষিত আসন-২৯ এর বিএনপি মনোনিত এমপি ফাহিমা নাসরিন মুন্নি। তাকে ঝিনাইদহ-৩ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির (সংরক্ষিত আসন-৩২) এমপি নাদিয়া পাঠান পাপনকে। রুমিন ফারহানা বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হন।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
জামায়াতে ইসলামী সহ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব কেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের (এমপি) দেওয়া হয়েছে, জাতীয় সংসদ তার ব্যাখ্যা দিলেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের যে ‘নিয়ম’ আছে, সে ‘নিয়ম’ অনুযায়ীই এগোচ্ছেন তারা।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সস্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে বিকেলে ৩ টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে সরকারি দল বিএনপি ৩৬টি আসন পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী দলীয় জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র ৭ এমপির জোট একটি আসন পেয়েছে।
গত শনিবার (৬ জুন) সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় দলটির সংরক্ষিত ৩৬ নারী এমপিকে বিরোধী দলের ৭৯টি আসনের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব জায়গায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে এই কৌশল নিয়েছে দলটি।
প্রশ্নে যা বললেন এমপি আরমান
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াত এমপি মীর আহমদ বিন কাসেম প্রধানমন্ত্রীকে করা প্রশ্নে বলেন, “বহুল প্রচারিত পত্রিকায় আমরা জানতে পেরেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকার দলীয় মহিলা এমপিদের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন তদারকি করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আরও বলা হয়েছে, এসব উন্নয়নে ডিও লেটার ইস্যু করতে পারবেন সরকার দলীয় মহিলা এমপিগণ।”
ব্যারিস্টার আরমান নামে পরিচিত এই জামায়াত নেতা প্রশ্নে আরও বলেন, “এ তথ্য থেকে আমাদের মধ্যে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে যে এ কাজ কি তাদেরকে এ জন্য দেওয়া হচ্ছে যাতে আমরা যারা বিরোধী দলীয় এমপি আছি আমাদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো হক থাকবে না, এটা নিশ্চিত করার জন্যই কি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিনা, দয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সামনে পরিষ্কার করবেন।”
প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের দল থেকে এবং আপনাদের দল থেকে যে সকল নারী সদস্যকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে য়েকদিন আগে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাদের কোন আসন নেই। আপনার বা আমার যে কোন নির্দিষ্ট আসন আছে সেরকম নির্দিষ্ট কোন আসন তাদের নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো তার ভিত্তিতে আমরা তাদেরকে দলীয় অবস্থান থেকে আমরা কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন।”
সংসদ নেতা বলেন, “আপনার নির্বাচন এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে যে আপনি আপনার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে কিভাবে ভূমিকা রাখতে চান? যেহেতু এই সংসদ এই নারী নেতৃবৃন্দকে বা নারী সংসদ সদস্যদেরকে নির্বাচিত করেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদেরও একই রকমভাবে হক আছে, একই রকমভাবে হক আছে তার এলাকার বা তার এলাকার মানুষের জন্য।”
তারেক রহমান বলেন, “খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা যেটি নিয়ম আছে সরকারের, সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার যদি কোনো উন্নয়নের কোনো বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন।”
বিরোধীদের আসনে বিএনপির নারী এমপি
সংরক্ষিত আসন-২৩ এর এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তাকে ঢাকা-১২, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৫ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। ঢাকা ১২ ও ১৬ সংসদীয় আসনে এমপি হয়েছেন যথাক্রমে জামায়াতের প্রভাবশালী দুই নেতা- সাইফুল আলম খান মিলন ও কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন।
ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির সংরক্ষিত আসন-২২ এর এমপি শাম্মী আক্তারকে। পাশাপাশি তিনি সিলেট-৫ আসনের দায়িত্বও পালন করবেন। এই আসনের এমপি খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান।
এ ছাড়া বিএনপির সংরক্ষিত আসন-২৪ এর এমপি বীথিকা বিনতে হোসাইনকে সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব কটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
সংরক্ষিত আসন-২৯ এর বিএনপি মনোনিত এমপি ফাহিমা নাসরিন মুন্নি। তাকে ঝিনাইদহ-৩ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির (সংরক্ষিত আসন-৩২) এমপি নাদিয়া পাঠান পাপনকে। রুমিন ফারহানা বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হন।

আপনার মতামত লিখুন