অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘ভুয়া ও মানহানিকর’ অভিযোগপত্র ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার জেরে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
তবে ওই আইডির মালিক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম ইব্রাহিম খলিল দাবি করেছেন, এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো অপপ্রচার নয়, বরং তার লেখালেখি থামানো ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের ‘মিডিয়া ফোবিয়া রোগ’ থেকে এই জিডি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ছড়িয়ে পড়া ওই চিঠিতে অভিযোগকারী হিসেবে যার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ব্যক্তিও নিজের নম্বর জালিয়াতির অভিযোগ এনে থানায় আলাদা আরেকটি জিডি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার নম্বর ব্যবহার করা হলেও চিঠির নাম ও স্বাক্ষর তার নয়; এমনকি তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
শনিবার (১৩ জুন) কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে এই জিডি দায়ের করেন। জিডিতে ‘Adv Abm Ibrahim Khalil’ নামের একটি ফেসবুক আইডির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার জিডিতে বলা হয়, গত ১১ জুন সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল দেখতে পান যে, উক্ত ফেসবুক আইডি থেকে তার মানহানি করার উদ্দেশ্যে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগপত্র আপলোড করা হয়েছে। পরবর্তীতে ‘সৈনিক প্রথম সংবাদ’ এবং ‘Jurocon’ সহ বেশ কিছু ফেসবুক পেজ ও অনলাইন পোর্টালে সেটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগের অসংগতি তুলে ধরে জিডিতে উল্লেখ করা হয়, “চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে জানুয়ারি মাসে একটি মামলায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চলতি বছরের ২৫ মে।”
জিডিতে আরও বলা হয়, “উক্ত চিঠিতে প্রধান বিচারপতি, চেম্বার-জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের কার্যধারা ও কজলিস্ট বিষয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।”
এই অপপ্রচারের নেপথ্যে দপ্তরের কিছু চাকরিচ্যুত ও অভিযুক্ত কর্মচারীর ইন্ধন থাকতে পারে বলে জিডিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
জিডিতে নাম আসার বিষয়ে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট এ বি এম ইব্রাহিম খলিল দাবি করেন, বিভিন্ন পেজে অভিযোগটি ছড়ানোর পর সত্যতা জানতেই তিনি সেটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের বিষয়ে ইব্রাহিম খলিল বলেন, “বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে অভিযোগটি আসার পর একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি কেবল সত্যটা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেল, তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উঠেছে। দেশে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও তো নানা সমালোচনা বা লেখালেখি হয়। তাই রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা জানতে চাওয়া আমার নাগরিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে।”
অ্যাটর্নি জেনারেলের পদক্ষেপকে ‘অতি উৎসাহী’ আখ্যা দিয়ে এই আইনজীবী বলেন, “তিনি আসলে অতি-উৎসাহী এবং নিজেকে অতি-স্মার্ট মনে করেন। অভিযোগটি বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়ালেও তিনি জিডিতে নির্দিষ্ট করে শুধু আমার নামটিই উল্লেখ করেছেন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সক্রিয়তার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমি অনলাইনে বেশ সক্রিয় এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। তিনি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন এবং হয়তো তাদের কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে। আমার লেখালেখিকে তারা বাধা হিসেবে দেখছেন। মূলত আমাকে ভয় দেখিয়ে আমার কণ্ঠ রোধ করার উদ্দেশ্যেই তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে এই জিডি করেছেন।”
জিডিতে ‘রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ’ হওয়ার দাবির বিরোধিতা করে ইব্রাহিম খলিল বলেন, “জিডিতে তিনি দাবি করেছেন যে, এটি রাষ্ট্র, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা। অভিযোগটি আইন মন্ত্রণালয়ে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির (অ্যাটর্নি জেনারেল) বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। অ্যাটর্নি জেনারেল যদি কোনো অনিয়ম করেন, তবে সে বিষয়ে কথা বলার অধিকার মানুষের আছে। বিভিন্ন পেজে ছড়ানো একটি অভিযোগ আমি কেবল আমার আইডিতে শেয়ার করেছি। এটি কোনোভাবেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ হতে পারে না; বড়জোর এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।”
চিঠিটির সত্যতা নিজে যাচাই করেছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো অভিযোগটি যাচাই করার জন্যই তার কাছে সত্যতা জানতে চেয়েছিলাম। আমার পোস্টের লিংক দেখলেই বুঝবেন, আমি সেখানে লিখেছি 'আসল ঘটনাটি কী?' মানুষের জানার আগ্রহ থেকেই আমি বিষয়টি শেয়ার করেছি। আমি তো আর ওই অভিযোগ বা পেজগুলো তৈরি করিনি। মানুষ সত্যটা জানতে চায় বলেই আমি পোস্ট দিয়েছিলাম।”
পুরো ঘটনার নেপথ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রচারমুখী স্বভাব রয়েছে দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, “হয়তো নিজের কোনো দুর্বলতা ঢাকতেই তিনি এমনটি করছেন। আমার মনে হয়, তার এক ধরনের ‘মিডিয়া ফোবিয়া’ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় থাকার মানসিক রোগ রয়েছে। সব সময় আলোচনার কেন্দ্রে থাকতেই তিনি মূলত এই কাজটি করেছেন।”
ছড়িয়ে পড়া ওই চিঠিতে অভিযোগকারী হিসেবে জনৈক ‘ফিরোজুর রহমান’ বা ‘ফিরোজপুর রহমান’ নামের এক ব্যক্তির স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ওই নম্বরের প্রকৃত মালিক ফিরোজ আহম্মেদ নিজের নম্বর জালিয়াতির অভিযোগ এনে গত ১০ জুন বংশাল থানায় আলাদা একটি জিডি (নম্বর ৫০৩) করেন।
বংশাল থানায় দায়ের করা জিডিতে ফিরোজ আহম্মেদ উল্লেখ করেন, “১০ জুন রাত ১০.৩৬ ঘটিকার সময় আমি বংশাল থানাধীন নবাবপুর রোড-এ অবস্থান করাকালে আমার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি যে, আমার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মাননীয় মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর একটি অভিযোগ করা হয়। আমি মন্ত্রণালয় বরাবর কোন অভিযোগ করি নাই এবং এই সম্পর্কে কিছুই জানি না।”
ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, “আমার নাম তো ফিরোজ আহমেদ, ওইখানে ফিরোজুর রহমান বা ফিরোজপুর রহমান দিছে। শুধু আমার নাম্বারটা ঠিক আছে বিধায় আমি জিডি করছি।”
তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার অনুরোধ জানান।
এই জিডির বিষয়ে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. পলাশ বলেন, “ফিরোজ নামের এক ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল সম্পর্কিত একটি জিডি করেছিলেন গত ১০ তারিখে। মূলত তার পরিচয় ব্যবহার করে অন্য একটি ফোন নম্বর থেকে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছিল।”
প্রতারণার ধরন ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ওই ব্যক্তি প্রতারণা করার জন্য পরিচয় ব্যবহার করেছেন। এমনকি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে টাকা-পায়সা নেওয়ার মতো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছিলেন।” তিনি জানান, বিষয়টি মূলত মন্ত্রণালয়ের বিষয় এবং ওই ব্যক্তি শুধু নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মূলত এই জিডি করেছিলেন।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘ভুয়া ও মানহানিকর’ অভিযোগপত্র ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার জেরে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
তবে ওই আইডির মালিক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম ইব্রাহিম খলিল দাবি করেছেন, এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো অপপ্রচার নয়, বরং তার লেখালেখি থামানো ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের ‘মিডিয়া ফোবিয়া রোগ’ থেকে এই জিডি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ছড়িয়ে পড়া ওই চিঠিতে অভিযোগকারী হিসেবে যার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ব্যক্তিও নিজের নম্বর জালিয়াতির অভিযোগ এনে থানায় আলাদা আরেকটি জিডি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার নম্বর ব্যবহার করা হলেও চিঠির নাম ও স্বাক্ষর তার নয়; এমনকি তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
শনিবার (১৩ জুন) কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে এই জিডি দায়ের করেন। জিডিতে ‘Adv Abm Ibrahim Khalil’ নামের একটি ফেসবুক আইডির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার জিডিতে বলা হয়, গত ১১ জুন সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল দেখতে পান যে, উক্ত ফেসবুক আইডি থেকে তার মানহানি করার উদ্দেশ্যে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগপত্র আপলোড করা হয়েছে। পরবর্তীতে ‘সৈনিক প্রথম সংবাদ’ এবং ‘Jurocon’ সহ বেশ কিছু ফেসবুক পেজ ও অনলাইন পোর্টালে সেটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগের অসংগতি তুলে ধরে জিডিতে উল্লেখ করা হয়, “চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে জানুয়ারি মাসে একটি মামলায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চলতি বছরের ২৫ মে।”
জিডিতে আরও বলা হয়, “উক্ত চিঠিতে প্রধান বিচারপতি, চেম্বার-জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের কার্যধারা ও কজলিস্ট বিষয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।”
এই অপপ্রচারের নেপথ্যে দপ্তরের কিছু চাকরিচ্যুত ও অভিযুক্ত কর্মচারীর ইন্ধন থাকতে পারে বলে জিডিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
জিডিতে নাম আসার বিষয়ে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট এ বি এম ইব্রাহিম খলিল দাবি করেন, বিভিন্ন পেজে অভিযোগটি ছড়ানোর পর সত্যতা জানতেই তিনি সেটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের বিষয়ে ইব্রাহিম খলিল বলেন, “বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে অভিযোগটি আসার পর একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি কেবল সত্যটা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেল, তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উঠেছে। দেশে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও তো নানা সমালোচনা বা লেখালেখি হয়। তাই রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা জানতে চাওয়া আমার নাগরিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে।”
অ্যাটর্নি জেনারেলের পদক্ষেপকে ‘অতি উৎসাহী’ আখ্যা দিয়ে এই আইনজীবী বলেন, “তিনি আসলে অতি-উৎসাহী এবং নিজেকে অতি-স্মার্ট মনে করেন। অভিযোগটি বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়ালেও তিনি জিডিতে নির্দিষ্ট করে শুধু আমার নামটিই উল্লেখ করেছেন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সক্রিয়তার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমি অনলাইনে বেশ সক্রিয় এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। তিনি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন এবং হয়তো তাদের কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে। আমার লেখালেখিকে তারা বাধা হিসেবে দেখছেন। মূলত আমাকে ভয় দেখিয়ে আমার কণ্ঠ রোধ করার উদ্দেশ্যেই তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে এই জিডি করেছেন।”
জিডিতে ‘রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ’ হওয়ার দাবির বিরোধিতা করে ইব্রাহিম খলিল বলেন, “জিডিতে তিনি দাবি করেছেন যে, এটি রাষ্ট্র, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা। অভিযোগটি আইন মন্ত্রণালয়ে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির (অ্যাটর্নি জেনারেল) বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। অ্যাটর্নি জেনারেল যদি কোনো অনিয়ম করেন, তবে সে বিষয়ে কথা বলার অধিকার মানুষের আছে। বিভিন্ন পেজে ছড়ানো একটি অভিযোগ আমি কেবল আমার আইডিতে শেয়ার করেছি। এটি কোনোভাবেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ হতে পারে না; বড়জোর এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।”
চিঠিটির সত্যতা নিজে যাচাই করেছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো অভিযোগটি যাচাই করার জন্যই তার কাছে সত্যতা জানতে চেয়েছিলাম। আমার পোস্টের লিংক দেখলেই বুঝবেন, আমি সেখানে লিখেছি 'আসল ঘটনাটি কী?' মানুষের জানার আগ্রহ থেকেই আমি বিষয়টি শেয়ার করেছি। আমি তো আর ওই অভিযোগ বা পেজগুলো তৈরি করিনি। মানুষ সত্যটা জানতে চায় বলেই আমি পোস্ট দিয়েছিলাম।”
পুরো ঘটনার নেপথ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রচারমুখী স্বভাব রয়েছে দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, “হয়তো নিজের কোনো দুর্বলতা ঢাকতেই তিনি এমনটি করছেন। আমার মনে হয়, তার এক ধরনের ‘মিডিয়া ফোবিয়া’ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় থাকার মানসিক রোগ রয়েছে। সব সময় আলোচনার কেন্দ্রে থাকতেই তিনি মূলত এই কাজটি করেছেন।”
ছড়িয়ে পড়া ওই চিঠিতে অভিযোগকারী হিসেবে জনৈক ‘ফিরোজুর রহমান’ বা ‘ফিরোজপুর রহমান’ নামের এক ব্যক্তির স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ওই নম্বরের প্রকৃত মালিক ফিরোজ আহম্মেদ নিজের নম্বর জালিয়াতির অভিযোগ এনে গত ১০ জুন বংশাল থানায় আলাদা একটি জিডি (নম্বর ৫০৩) করেন।
বংশাল থানায় দায়ের করা জিডিতে ফিরোজ আহম্মেদ উল্লেখ করেন, “১০ জুন রাত ১০.৩৬ ঘটিকার সময় আমি বংশাল থানাধীন নবাবপুর রোড-এ অবস্থান করাকালে আমার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি যে, আমার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মাননীয় মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর একটি অভিযোগ করা হয়। আমি মন্ত্রণালয় বরাবর কোন অভিযোগ করি নাই এবং এই সম্পর্কে কিছুই জানি না।”
ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, “আমার নাম তো ফিরোজ আহমেদ, ওইখানে ফিরোজুর রহমান বা ফিরোজপুর রহমান দিছে। শুধু আমার নাম্বারটা ঠিক আছে বিধায় আমি জিডি করছি।”
তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার অনুরোধ জানান।
এই জিডির বিষয়ে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. পলাশ বলেন, “ফিরোজ নামের এক ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল সম্পর্কিত একটি জিডি করেছিলেন গত ১০ তারিখে। মূলত তার পরিচয় ব্যবহার করে অন্য একটি ফোন নম্বর থেকে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছিল।”
প্রতারণার ধরন ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ওই ব্যক্তি প্রতারণা করার জন্য পরিচয় ব্যবহার করেছেন। এমনকি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে টাকা-পায়সা নেওয়ার মতো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছিলেন।” তিনি জানান, বিষয়টি মূলত মন্ত্রণালয়ের বিষয় এবং ওই ব্যক্তি শুধু নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মূলত এই জিডি করেছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন