ফেসবুকের নীল দুনিয়ায় পরিচয়, তারপর প্রেম এবং সবশেষে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে সংসার পাতা। কোনো সিনেমার গল্প নয়, এটি এক সুদানি নাগরিকের বাস্তব জীবনের কাহিনি। সৌদি আরবে ছোটখাটো ব্যবসা করার সময় বাংলাদেশি এক নারীর প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। সেই প্রেমের টানেই বাংলাদেশে আসা এবং বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করা। একপর্যায়ে স্বামীর আত্মীয়তার সূত্রে সুদান থেকে তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরাও বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কাটানোর পর যখন তারা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চাইলেন, তখনই বাঁধল মূল বিপত্তি।
ভিসার
মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়
আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে এখন তারা
চরম সংকটে। অবৈধভাবে বসবাসের দায়ে ওই সুদানি
নাগরিক ও তার পরিবারের
ওপর এসেছে ১৫ লাখ টাকার
বিশাল জরিমানা। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এই বিপুল পরিমাণ
অর্থ জমা না দিলে
তারা দেশত্যাগ করতে পারছেন না।
একদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ, অন্যদিকে পকেটে
নেই টাকা; ফলে নিজ দেশে
ফেরার আকুলতা থাকলেও তারা এখন এক
প্রকার বন্দিজীবন পার করছেন। পরিবারটিতে
চরম আর্থিক অনটন দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে সুদান থেকে ওই সুদানি
নারীর ভাই কোনো রকমে
কিছু টাকা পাঠিয়ে তাদের
খাওয়া-খরচের ব্যবস্থা করছেন।
ট্যুরিস্ট
ভিসার আড়ালে অন্ধকার জগৎ
এই সুদানি পরিবারের ঘটনাই কেবল একমাত্র চিত্র
নয়। অভিযোগ রয়েছে, আফ্রিকা মহাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে
আসার পর নানা অজুহাতে
আর ফিরে যান না।
কেউ স্থানীয় নারীদের বিয়ে করে আস্তানা
গাড়ছেন, আবার কেউ কেউ
জড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অবৈধ চাকরিতে। এমনকি
জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে তদবির করে তারা ভিসার
ক্যাটাগরি পরিবর্তনের অপচেষ্টাও চালান। দেশীয় কিছু অসাধু এজেন্টও
তাদের এই অবৈধ সুযোগ
করে দিচ্ছে। অনেকে আবার জড়িয়ে পড়ছেন
মাদক, জালিয়াতিসহ নানা ভয়ঙ্কর অপরাধে।
তৈরি
হচ্ছে অবৈধ বিদেশিদের তালিকা
এই প্রেক্ষাপটে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা
তৈরির কাজ শুরু করেছে
সরকারের একটি শীর্ষ গোয়েন্দা
সংস্থা। সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, এই তালিকা
সম্পন্ন হলে দেশে অবৈধ
বিদেশিদের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে এবং
তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র এবং পুলিশের বিশেষ
শাখার (এসবি) সিনিয়র কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সাফ
জানিয়ে দিয়েছেন, "অবৈধভাবে কেউ দেশে বসবাস
করতে পারবে না। তাদের তালিকা
তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা
চূড়ান্ত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ
নেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে
কাজ চলছে।"
একই সাথে দেশের বিমানবন্দরসহ সব প্রবেশদ্বারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, "বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বা জিজ্ঞাসাবাদে অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসছে।"
মায়ার টানে এসে যারা
আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন, তাদের জন্য এখন আর
কোনো ছাড় নেই বলে
হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
ফেসবুকের নীল দুনিয়ায় পরিচয়, তারপর প্রেম এবং সবশেষে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে সংসার পাতা। কোনো সিনেমার গল্প নয়, এটি এক সুদানি নাগরিকের বাস্তব জীবনের কাহিনি। সৌদি আরবে ছোটখাটো ব্যবসা করার সময় বাংলাদেশি এক নারীর প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। সেই প্রেমের টানেই বাংলাদেশে আসা এবং বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করা। একপর্যায়ে স্বামীর আত্মীয়তার সূত্রে সুদান থেকে তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরাও বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কাটানোর পর যখন তারা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চাইলেন, তখনই বাঁধল মূল বিপত্তি।
ভিসার
মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়
আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে এখন তারা
চরম সংকটে। অবৈধভাবে বসবাসের দায়ে ওই সুদানি
নাগরিক ও তার পরিবারের
ওপর এসেছে ১৫ লাখ টাকার
বিশাল জরিমানা। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এই বিপুল পরিমাণ
অর্থ জমা না দিলে
তারা দেশত্যাগ করতে পারছেন না।
একদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ, অন্যদিকে পকেটে
নেই টাকা; ফলে নিজ দেশে
ফেরার আকুলতা থাকলেও তারা এখন এক
প্রকার বন্দিজীবন পার করছেন। পরিবারটিতে
চরম আর্থিক অনটন দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে সুদান থেকে ওই সুদানি
নারীর ভাই কোনো রকমে
কিছু টাকা পাঠিয়ে তাদের
খাওয়া-খরচের ব্যবস্থা করছেন।
ট্যুরিস্ট
ভিসার আড়ালে অন্ধকার জগৎ
এই সুদানি পরিবারের ঘটনাই কেবল একমাত্র চিত্র
নয়। অভিযোগ রয়েছে, আফ্রিকা মহাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে
আসার পর নানা অজুহাতে
আর ফিরে যান না।
কেউ স্থানীয় নারীদের বিয়ে করে আস্তানা
গাড়ছেন, আবার কেউ কেউ
জড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অবৈধ চাকরিতে। এমনকি
জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে তদবির করে তারা ভিসার
ক্যাটাগরি পরিবর্তনের অপচেষ্টাও চালান। দেশীয় কিছু অসাধু এজেন্টও
তাদের এই অবৈধ সুযোগ
করে দিচ্ছে। অনেকে আবার জড়িয়ে পড়ছেন
মাদক, জালিয়াতিসহ নানা ভয়ঙ্কর অপরাধে।
তৈরি
হচ্ছে অবৈধ বিদেশিদের তালিকা
এই প্রেক্ষাপটে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা
তৈরির কাজ শুরু করেছে
সরকারের একটি শীর্ষ গোয়েন্দা
সংস্থা। সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, এই তালিকা
সম্পন্ন হলে দেশে অবৈধ
বিদেশিদের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে এবং
তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র এবং পুলিশের বিশেষ
শাখার (এসবি) সিনিয়র কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সাফ
জানিয়ে দিয়েছেন, "অবৈধভাবে কেউ দেশে বসবাস
করতে পারবে না। তাদের তালিকা
তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা
চূড়ান্ত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ
নেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে
কাজ চলছে।"
একই সাথে দেশের বিমানবন্দরসহ সব প্রবেশদ্বারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, "বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বা জিজ্ঞাসাবাদে অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসছে।"
মায়ার টানে এসে যারা
আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন, তাদের জন্য এখন আর
কোনো ছাড় নেই বলে
হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন