সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকে ২৫০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

ইসলামী ব্যাংকে ২৫০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা
ছবি : সংগৃহীত

নগদ টাকার সংকট মেটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য জানান। এর আগে গত ১০ জুন ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছিল।

শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কিছু নিয়ম-কানুন আছে, কিছু টুলস আছে, সেই টুলসগুলো আমরা প্রয়োগ করব। লিকুইডিটি সাপোর্ট দেব। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না। তারা তাদের আমানত যে কোনো সময় তুলতে পারবেন।’

গভর্নর জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ-আমানত অনুপাত (এডি রেশিও) ছিল ৯৩ শতাংশ। গত মার্চে তা ৯৭ শতাংশের ওপরে চলে যায়। গভর্নর বলেন, ‘আমরা তাদের (ইসলামী ব্যাংক) কমাতে বলি। ইসলামী ব্যাংকে সর্বোচ্চ এডি রেশিও হচ্ছে ৯২।’

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৯২ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। অবশিষ্ট ৮ টাকা রাখতে হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এসএলআর ও সিআরআর হিসেবে। প্রচলিত ব্যাংকের বেলায় এডি রেশিও ৮৭ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংকে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া গরম যে, ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে সরকার। আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। আমরা কোনো লোনের জন্য, কাউকে বদলির জন্য বলি না। কারো প্রমোশনের জন্যও বলিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় একটা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এক কথা বারবার বললেও সত্য ধরে নেয় অনেকে।’

গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। সেদিন বিকেলে চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। ওই দিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গভর্নর বলেন, ‘তৎকালীন যিনি চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি বিকালে পদত্যাগ করেন। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে এখানে যেহেতু পাঁচ সদস্যের বোর্ড, আর একটা সিস্টেমিক ব্যাংকে আসলে বোর্ড এই সর্বনিম্ন পাঁচজন ছাড়া চলবে না। আমাদের তাৎক্ষণিক একটা নিয়োগ দিতে হয়। এরপর থেকে দেখলাম ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করার একটা প্রচেষ্টা আছে।’

ঈদের ছুটির পর থেকে নতুন চেয়ারম্যানের বিরোধিতা করে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানার নিয়ে আন্দোলনে নামেন একদল লোক। এই আন্দোলনের জেরে ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়ার পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।

এদিকে, নগদ টাকার সংকটে ইসলামী ব্যাংক গত ১০ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চায়। একই দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আশ্রাফুল আলমকে পর্যবেক্ষক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকে বসান গভর্নর।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


ইসলামী ব্যাংকে ২৫০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

নগদ টাকার সংকট মেটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য জানান। এর আগে গত ১০ জুন ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছিল।

শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কিছু নিয়ম-কানুন আছে, কিছু টুলস আছে, সেই টুলসগুলো আমরা প্রয়োগ করব। লিকুইডিটি সাপোর্ট দেব। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না। তারা তাদের আমানত যে কোনো সময় তুলতে পারবেন।’

গভর্নর জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ-আমানত অনুপাত (এডি রেশিও) ছিল ৯৩ শতাংশ। গত মার্চে তা ৯৭ শতাংশের ওপরে চলে যায়। গভর্নর বলেন, ‘আমরা তাদের (ইসলামী ব্যাংক) কমাতে বলি। ইসলামী ব্যাংকে সর্বোচ্চ এডি রেশিও হচ্ছে ৯২।’

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৯২ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। অবশিষ্ট ৮ টাকা রাখতে হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এসএলআর ও সিআরআর হিসেবে। প্রচলিত ব্যাংকের বেলায় এডি রেশিও ৮৭ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংকে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া গরম যে, ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে সরকার। আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। আমরা কোনো লোনের জন্য, কাউকে বদলির জন্য বলি না। কারো প্রমোশনের জন্যও বলিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় একটা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এক কথা বারবার বললেও সত্য ধরে নেয় অনেকে।’

গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। সেদিন বিকেলে চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। ওই দিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গভর্নর বলেন, ‘তৎকালীন যিনি চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি বিকালে পদত্যাগ করেন। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে এখানে যেহেতু পাঁচ সদস্যের বোর্ড, আর একটা সিস্টেমিক ব্যাংকে আসলে বোর্ড এই সর্বনিম্ন পাঁচজন ছাড়া চলবে না। আমাদের তাৎক্ষণিক একটা নিয়োগ দিতে হয়। এরপর থেকে দেখলাম ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করার একটা প্রচেষ্টা আছে।’

ঈদের ছুটির পর থেকে নতুন চেয়ারম্যানের বিরোধিতা করে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানার নিয়ে আন্দোলনে নামেন একদল লোক। এই আন্দোলনের জেরে ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়ার পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।

এদিকে, নগদ টাকার সংকটে ইসলামী ব্যাংক গত ১০ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চায়। একই দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আশ্রাফুল আলমকে পর্যবেক্ষক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকে বসান গভর্নর।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত