বেতন-ভাতা নেই, নেই বোনাসও। এভাবেই প্রায় ২ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া ও কুমারভোগ পদ্মাসেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। শুধু বেতনহীন জীবনই নয়, বিদ্যালয় দুটিতে দেখা দিয়েছে চরম অবকাঠামোগত সংকট। নিরাপদ পানি, সচল ফ্যান আর প্রয়োজনীয় বেঞ্চের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। সরকারি গেজেটভুক্ত হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় এখনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে লৌহজং ও জাজিরায় ৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে বিদ্যালয়গুলো চালু হওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত দুটি এনজিওর (রিক ও সমাহার) মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। চলতি বছরের জুনে বিদ্যালয়গুলো সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং জুলাই মাসে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়। তবে গেজেট হওয়ার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা বেতন চালু হয়নি।
যশলদিয়া পদ্মাসেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাকী আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। অনেকে দূর থেকে এসে ঘর ভাড়া করে থাকেন, তাদের কষ্ট আরও বেশি। উপবৃত্তি না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে। ফ্যান ও বেঞ্চ নষ্ট থাকায় গরমে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বাধ্য হয়ে শিশুদের থেকে টাকা তুলে চক-ডাস্টার কিনতে হচ্ছে।’
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৭ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী থাকলেও সরকারি কাঠামো অনুযায়ী মাত্র ৫ জন থাকার সুযোগ রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত শিক্ষকেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘দীর্ঘদিন এখানে চাকরি করতে করতে অনেকের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স শেষ হয়ে গেছে। এখন চাকরি হারানো মানে পথে বসা।’
একই চিত্র কুমারভোগ পদ্মাসেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও। সেখানকার সহকারী শিক্ষক শান্তা আক্তার জানান, নিরাপদ পানি ও টয়লেটের সমস্যায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে অন্তত মানবিক কারণে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ফ্যান ও বেঞ্চের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যালয়গুলো সরকারি হওয়ার গেজেট হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রশাসনিক সব কার্যক্রম এখনো আমাদের আওতায় আসেনি। সরকারিভাবে বরাদ্দ না এলে আমাদের পক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই বিদ্যালয়গুলোকে পূর্ণাঙ্গ সরকারি ব্যবস্থাপনায় এনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই কষ্টের অবসান ঘটানো হোক।
/

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
বেতন-ভাতা নেই, নেই বোনাসও। এভাবেই প্রায় ২ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া ও কুমারভোগ পদ্মাসেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। শুধু বেতনহীন জীবনই নয়, বিদ্যালয় দুটিতে দেখা দিয়েছে চরম অবকাঠামোগত সংকট। নিরাপদ পানি, সচল ফ্যান আর প্রয়োজনীয় বেঞ্চের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। সরকারি গেজেটভুক্ত হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় এখনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে লৌহজং ও জাজিরায় ৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে বিদ্যালয়গুলো চালু হওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত দুটি এনজিওর (রিক ও সমাহার) মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। চলতি বছরের জুনে বিদ্যালয়গুলো সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং জুলাই মাসে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়। তবে গেজেট হওয়ার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা বেতন চালু হয়নি।
যশলদিয়া পদ্মাসেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাকী আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। অনেকে দূর থেকে এসে ঘর ভাড়া করে থাকেন, তাদের কষ্ট আরও বেশি। উপবৃত্তি না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে। ফ্যান ও বেঞ্চ নষ্ট থাকায় গরমে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বাধ্য হয়ে শিশুদের থেকে টাকা তুলে চক-ডাস্টার কিনতে হচ্ছে।’
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৭ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী থাকলেও সরকারি কাঠামো অনুযায়ী মাত্র ৫ জন থাকার সুযোগ রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত শিক্ষকেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘দীর্ঘদিন এখানে চাকরি করতে করতে অনেকের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স শেষ হয়ে গেছে। এখন চাকরি হারানো মানে পথে বসা।’
একই চিত্র কুমারভোগ পদ্মাসেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও। সেখানকার সহকারী শিক্ষক শান্তা আক্তার জানান, নিরাপদ পানি ও টয়লেটের সমস্যায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে অন্তত মানবিক কারণে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ফ্যান ও বেঞ্চের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যালয়গুলো সরকারি হওয়ার গেজেট হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রশাসনিক সব কার্যক্রম এখনো আমাদের আওতায় আসেনি। সরকারিভাবে বরাদ্দ না এলে আমাদের পক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই বিদ্যালয়গুলোকে পূর্ণাঙ্গ সরকারি ব্যবস্থাপনায় এনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই কষ্টের অবসান ঘটানো হোক।
/

আপনার মতামত লিখুন