সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে ডাকাতি নাকি পারিবারিক কলহ? মামলা নিতে টালবাহানা


জেলা বার্তা পরিবেশক, লক্ষ্মীপুর
জেলা বার্তা পরিবেশক, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

লক্ষ্মীপুরে ডাকাতি নাকি পারিবারিক কলহ? মামলা নিতে টালবাহানা
প্রতীকী ছবি।

বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় মামলা নিতে গড়িমসি করছেন থানা পুলিশ। অথচ অভিযোগকারী পক্ষ বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা ও ডাকাতি। অন্যদিকে ওসি দাবি করছেন, এটি ডাকাতি নয় বরং ভাইবোনের পারিবারিক কলহ।

গত রোববার (১৪ জুন) রাতে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার বশিকপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে। তবে পুলিশকে খবর দিয়েও ঘটনাস্থলে আসেনি থানা পুলিশ। পরে গণমাধ্যমে যোগাযোগ করলে স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশ রাতে গিয়ে আটকদের নিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ও অভিযোগকারী ফয়সাল আলম জানান, হামলায় ৪ জনের নামসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। হামলায় আহতরা মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। বেল্লাল হোসেন ও মারুফ হোসেন শান্ত প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেলের সঙ্গে তার ভগ্নিপতি বেল্লাল হোসেনের বিদেশি মুদ্রা ও টাকা চুরি নিয়ে বিরোধ হয়। এই সূত্র ধরে পাশের গ্রাম খোদাওয়ান্দপুর থেকে রুবেলের শশুর বাড়ির লোকজন রোববার রাত নয়টার দিকে ১০-১৫ জন এসে রুবেলের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। তারা রুবেলের মা, বোন, ভগ্নিপতি বেল্লাল ও ভাতিজা মারুফ হোসেন শান্তকে মারধর করে।

এ সময় ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার শুরু হলে স্থানীয়রা এসে দুজনকে আটক করে। আটকরা হলেন- রুবেলের শশুর জাকির হোসেন ও শ্যালক রহমত উল্যাহ। পরে তাদের পোদ্দার বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়।

রুবেলের মা সখিনা বেগম অভিযোগ করেন, রুবেল তার ভগ্নিপতি বেল্লালের পকেট থেকে টাকা চুরি করে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হলে রুবেল শশুরবাড়িতে চলে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার রাতে রুবেলের স্ত্রী মুন্নী বেগম, শশুর জাকির হোসেন, শ্যালক রহমত উল্যাহসহ ১০-১৫ জন এসে বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হন বেল্লাল হোসেন ও মারুফ হোসেন শান্ত। এ সময় রুবেলের বোন পান্না আক্তারের গলার চেইন ও কানের পাশা নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

অন্যদিকে, রুবেলের ভাই ফয়সাল আলম জানান, তিনি ঢাকায় চাকরি করেন। তার ঘরেই রুবেল থাকতো। তার মা-ও সেখানে থাকতেন। রুবেল এর আগেও তার মায়ের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে দুই শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে এবং বসতঘর দখলের চেষ্টা করছে।

প্রবাসী বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘দেশে এসে শাশুড়ি দেখতে গেলে শ্যালক রুবেল আমার পকেট থেকে টাকা নিয়ে যায়। এ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে সে উত্তেজিত হয়ে শশুরবাড়িতে চলে যায়। পরে রাতে তার শশুর, শ্যালকসহ ১০-১৫ জন এসে আমার ওপর হামলা চালায়। আমার ম্যানিব্যাগ ও মোবাইল নিয়ে যায়। মাথা ও মুখ পিটিয়ে দেয়।’

পোদ্দার বাজার পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জালাল আহমেদ বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় রুবেলের স্ত্রী মুন্নী বেগম ও রুবেলের ভাই ফয়সাল আলম- দুই পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকার করেছেন এবং স্থানীয় ফাঁড়িতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের অন্য কোনো সংস্থা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


লক্ষ্মীপুরে ডাকাতি নাকি পারিবারিক কলহ? মামলা নিতে টালবাহানা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় মামলা নিতে গড়িমসি করছেন থানা পুলিশ। অথচ অভিযোগকারী পক্ষ বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা ও ডাকাতি। অন্যদিকে ওসি দাবি করছেন, এটি ডাকাতি নয় বরং ভাইবোনের পারিবারিক কলহ।

গত রোববার (১৪ জুন) রাতে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার বশিকপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে। তবে পুলিশকে খবর দিয়েও ঘটনাস্থলে আসেনি থানা পুলিশ। পরে গণমাধ্যমে যোগাযোগ করলে স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশ রাতে গিয়ে আটকদের নিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ও অভিযোগকারী ফয়সাল আলম জানান, হামলায় ৪ জনের নামসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। হামলায় আহতরা মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। বেল্লাল হোসেন ও মারুফ হোসেন শান্ত প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেলের সঙ্গে তার ভগ্নিপতি বেল্লাল হোসেনের বিদেশি মুদ্রা ও টাকা চুরি নিয়ে বিরোধ হয়। এই সূত্র ধরে পাশের গ্রাম খোদাওয়ান্দপুর থেকে রুবেলের শশুর বাড়ির লোকজন রোববার রাত নয়টার দিকে ১০-১৫ জন এসে রুবেলের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। তারা রুবেলের মা, বোন, ভগ্নিপতি বেল্লাল ও ভাতিজা মারুফ হোসেন শান্তকে মারধর করে।

এ সময় ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার শুরু হলে স্থানীয়রা এসে দুজনকে আটক করে। আটকরা হলেন- রুবেলের শশুর জাকির হোসেন ও শ্যালক রহমত উল্যাহ। পরে তাদের পোদ্দার বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়।

রুবেলের মা সখিনা বেগম অভিযোগ করেন, রুবেল তার ভগ্নিপতি বেল্লালের পকেট থেকে টাকা চুরি করে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হলে রুবেল শশুরবাড়িতে চলে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার রাতে রুবেলের স্ত্রী মুন্নী বেগম, শশুর জাকির হোসেন, শ্যালক রহমত উল্যাহসহ ১০-১৫ জন এসে বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হন বেল্লাল হোসেন ও মারুফ হোসেন শান্ত। এ সময় রুবেলের বোন পান্না আক্তারের গলার চেইন ও কানের পাশা নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

অন্যদিকে, রুবেলের ভাই ফয়সাল আলম জানান, তিনি ঢাকায় চাকরি করেন। তার ঘরেই রুবেল থাকতো। তার মা-ও সেখানে থাকতেন। রুবেল এর আগেও তার মায়ের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে দুই শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে এবং বসতঘর দখলের চেষ্টা করছে।

প্রবাসী বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘দেশে এসে শাশুড়ি দেখতে গেলে শ্যালক রুবেল আমার পকেট থেকে টাকা নিয়ে যায়। এ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে সে উত্তেজিত হয়ে শশুরবাড়িতে চলে যায়। পরে রাতে তার শশুর, শ্যালকসহ ১০-১৫ জন এসে আমার ওপর হামলা চালায়। আমার ম্যানিব্যাগ ও মোবাইল নিয়ে যায়। মাথা ও মুখ পিটিয়ে দেয়।’

পোদ্দার বাজার পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জালাল আহমেদ বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় রুবেলের স্ত্রী মুন্নী বেগম ও রুবেলের ভাই ফয়সাল আলম- দুই পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকার করেছেন এবং স্থানীয় ফাঁড়িতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের অন্য কোনো সংস্থা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত