সংবাদ

হঠাৎ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড


প্রতিনিধি, নোয়াখালী
প্রতিনিধি, নোয়াখালী
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

হঠাৎ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে এই ঝটিকা সফর করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনার দায়ে তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনকে হাসপাতালের অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা খাতা এবং ডিউটি রোস্টার যাচাই করেন। এ সময় অধিকাংশ চিকিৎসক ও কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত বা দেরিতে উপস্থিত হতে দেখা যায়।

মন্ত্রী জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব ও বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। তিনি হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, রোগীদের দেওয়া নিম্নমানের খাবার এবং টয়লেটের বেহাল দশা দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা মন্ত্রীর কাছে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে সেবা পেতে পদে পদে টাকা দিতে হয় এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসন ও পরবর্তী সময়ে সঠিক তদারকির অভাবে স্বাস্থ্য খাতে এই অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র সামনে আসছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার দায় তত্ত্বাবধায়ক এড়াতে পারেন না, তাই তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি সচল করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বিকেল তিনটার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী পরিচয়ে ১০০-১৫০ জন ব্যক্তি মন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হ্যান্ডমাইক নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মন্ত্রী হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

পরিদর্শনকালে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন ও সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


হঠাৎ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে এই ঝটিকা সফর করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনার দায়ে তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনকে হাসপাতালের অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা খাতা এবং ডিউটি রোস্টার যাচাই করেন। এ সময় অধিকাংশ চিকিৎসক ও কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত বা দেরিতে উপস্থিত হতে দেখা যায়।

মন্ত্রী জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব ও বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। তিনি হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, রোগীদের দেওয়া নিম্নমানের খাবার এবং টয়লেটের বেহাল দশা দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা মন্ত্রীর কাছে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে সেবা পেতে পদে পদে টাকা দিতে হয় এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসন ও পরবর্তী সময়ে সঠিক তদারকির অভাবে স্বাস্থ্য খাতে এই অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র সামনে আসছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার দায় তত্ত্বাবধায়ক এড়াতে পারেন না, তাই তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি সচল করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বিকেল তিনটার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী পরিচয়ে ১০০-১৫০ জন ব্যক্তি মন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হ্যান্ডমাইক নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মন্ত্রী হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

পরিদর্শনকালে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন ও সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত