সংবাদ

শেষ মুহূর্তের নাটকে পানামাকে কাঁদিয়ে ঘানার নাটকীয় জয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

শেষ মুহূর্তের নাটকে পানামাকে কাঁদিয়ে ঘানার নাটকীয় জয়

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে র‍্যাঙ্কিং, বল পজেশন কিংবা অন টার্গেট শট— সব কিছুতেই মাঠের লড়াইয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল পানামা। পুরো ম্যাচ জুড়ে দাপট দেখালেও কেবল গোলের দেখা পায়নি তারা।

অন্যদিকে ভাগ্য সহায় ছিল ঘানার। ম্যাচের একদম শেষ মূহুর্তের চরম নাটকীয়তায় পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে ঘানা। কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এল’ গ্রুপের এই ম্যাচে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন ঘানার মিডফিল্ডার ক্যালেব ইরেনকি। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ে গ্রুপের দুই নম্বরে উঠে আসল ঘানা।
একই দিনে গ্রুপের অন্য ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ফলে তিন পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে থ্রি লায়ন্সরা এবং দুইয়ে অবস্থান করছে ঘানা। তিন ও চার নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে পানামা ও ক্রোয়েশিয়া।

​মাঠের পরিসংখ্যানে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩৪ নম্বর দল পানামার দখলে ছিল ম্যাচের ৬২ শতাংশ বল পজেশন। পুরো ম্যাচে তারা ১১ টি শট নেয়, যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে ৭৩ নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা ঘানা মাত্র ৩৮ শতাংশ বল নিজেদের পায়ে রাখতে পেরেছিল। তাদের নেওয়া ৮ টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র ২টি।
পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামা ঘানা এবার ২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামে। তবে ম্যাচের আগেই বড় ধাক্কা খায় তারা। ভিসা জটিলতার কারণে মিডফিল্ডার থমাস পার্টেকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় তিনি এই ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি।
​ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেয় পানামা। খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই আমির মুরিলোর চমৎকার পাস থেকে সেসিলিও ওয়াটারম্যানের নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা ডাইভিং সেভের মাধ্যমে রুখে দেন ঘানার গোলকিপার লরেন্স আতি জিগি।
তবে প্রথমার্ধের শেষের দিকে এক সংঘর্ষে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর জায়গায় পোস্ট সামলান দলের দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে। ৬০ মিনিটে পানামার মার্টিনেজ গোল করার কাছাকাছি পৌঁছেও একদম কোণাকুণি শট নিয়ে বল সাইড-নেটে মারেন।
​এরপর ঘানাও আক্রমণের ধার বাড়াতে শুরু করে। জোনাস আদজেতের এক চমৎকার হেড পানামার গোলকিপার অরল্যান্ডো মস্কেরা দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই থমাস-আসান্টের বাড়িয়ে দেওয়া নিচু ক্রসে জর্ডান আইয়ু পা ছোঁয়াতে যাওয়ার আগেই পানামার ডিফেন্ডার জিওভানি স্লাইড করে বল কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ঘানার ফরোয়ার্ড ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তে ডান দিক দিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে বল নিয়ে পানামার বক্সে ঢোকেন এবং ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দারুণ এক নিখুঁত পাস বাড়ান বক্সে ওত পেতে থাকা ইরেনকির দিকে। চলন্ত বলে আলতো টোকায় বল জালে জড়ালে উল্লাসে মাতে ঘানা শিবির।
আগামী ২৩ জুন বোস্টনে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ঘানা এবং একই দিনে টরন্টোতে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে পানামা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


শেষ মুহূর্তের নাটকে পানামাকে কাঁদিয়ে ঘানার নাটকীয় জয়

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে র‍্যাঙ্কিং, বল পজেশন কিংবা অন টার্গেট শট— সব কিছুতেই মাঠের লড়াইয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল পানামা। পুরো ম্যাচ জুড়ে দাপট দেখালেও কেবল গোলের দেখা পায়নি তারা।

অন্যদিকে ভাগ্য সহায় ছিল ঘানার। ম্যাচের একদম শেষ মূহুর্তের চরম নাটকীয়তায় পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে ঘানা। কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এল’ গ্রুপের এই ম্যাচে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন ঘানার মিডফিল্ডার ক্যালেব ইরেনকি। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ে গ্রুপের দুই নম্বরে উঠে আসল ঘানা।
একই দিনে গ্রুপের অন্য ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ফলে তিন পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে থ্রি লায়ন্সরা এবং দুইয়ে অবস্থান করছে ঘানা। তিন ও চার নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে পানামা ও ক্রোয়েশিয়া।

​মাঠের পরিসংখ্যানে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৩৪ নম্বর দল পানামার দখলে ছিল ম্যাচের ৬২ শতাংশ বল পজেশন। পুরো ম্যাচে তারা ১১ টি শট নেয়, যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে ৭৩ নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা ঘানা মাত্র ৩৮ শতাংশ বল নিজেদের পায়ে রাখতে পেরেছিল। তাদের নেওয়া ৮ টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র ২টি।
পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামা ঘানা এবার ২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামে। তবে ম্যাচের আগেই বড় ধাক্কা খায় তারা। ভিসা জটিলতার কারণে মিডফিল্ডার থমাস পার্টেকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় তিনি এই ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি।
​ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেয় পানামা। খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই আমির মুরিলোর চমৎকার পাস থেকে সেসিলিও ওয়াটারম্যানের নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা ডাইভিং সেভের মাধ্যমে রুখে দেন ঘানার গোলকিপার লরেন্স আতি জিগি।
তবে প্রথমার্ধের শেষের দিকে এক সংঘর্ষে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর জায়গায় পোস্ট সামলান দলের দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে। ৬০ মিনিটে পানামার মার্টিনেজ গোল করার কাছাকাছি পৌঁছেও একদম কোণাকুণি শট নিয়ে বল সাইড-নেটে মারেন।
​এরপর ঘানাও আক্রমণের ধার বাড়াতে শুরু করে। জোনাস আদজেতের এক চমৎকার হেড পানামার গোলকিপার অরল্যান্ডো মস্কেরা দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই থমাস-আসান্টের বাড়িয়ে দেওয়া নিচু ক্রসে জর্ডান আইয়ু পা ছোঁয়াতে যাওয়ার আগেই পানামার ডিফেন্ডার জিওভানি স্লাইড করে বল কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ঘানার ফরোয়ার্ড ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তে ডান দিক দিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে বল নিয়ে পানামার বক্সে ঢোকেন এবং ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দারুণ এক নিখুঁত পাস বাড়ান বক্সে ওত পেতে থাকা ইরেনকির দিকে। চলন্ত বলে আলতো টোকায় বল জালে জড়ালে উল্লাসে মাতে ঘানা শিবির।
আগামী ২৩ জুন বোস্টনে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ঘানা এবং একই দিনে টরন্টোতে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে পানামা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত